• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

খামেনির জানাজায় লাখো মানুষের ঢল, উপস্থিত ৭০ দেশের প্রতিনিধি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ৫ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪০ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় সময় রোববার সকাল ৮টায় রাজধানী তেহরানে এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। লাখো মানুষ এই জানাজায় অংশ নেন। এতে উপস্থিত ছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট, স্পিকারসহ সরকারের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা।

দেশটির সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানায়, দেশটির অন্যতম জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি জানাজায় ইমামতি করেন।

জানাজায় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেইন মোহসেনি ইজেই উপস্থিত ছিলেন। খামেনির তিন ছেলে—মাসুদ, মাইসাম ও মোস্তফা এতে উপস্থিত ছিলেন । ইরানের অভিজাত ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের কমান্ডার ইসমাইল কানিও জানাজায় অংশ নেন। তবে অসুস্থতা ও নিরাপত্তাজনিত কারণে বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনি বাবার জানাজায় অংশ নিতে পারেননি।

ইরানের প্রয়াত নেতা খামেনির রাষ্ট্রীয় শোক ও দাফনের আনুষ্ঠানিকতায় যোগ দেওয়ায় বিশ্বের ৭০টির বেশি দেশের প্রতিনিধিদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেছেন, এসব দেশের অংশগ্রহণ ইরানের সঙ্গে তাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিহাসে ‘একটি চিরস্থায়ী স্মৃতি’ হয়ে থাকবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি বলেন, ‘আমাদের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি সম্মান জানাতে ৭০টির বেশি দেশের প্রতিনিধি এসেছেন। এর মধ্যে আমাদের বিশ্বস্ত আরব ভাইয়েরাও রয়েছেন। তাঁদের এ উপস্থিতি ইরানকে আনন্দিত করেছে। এ ঐতিহাসিক স্মৃতি আমাদের পারস্পরিক সম্পর্কের পথচলায় আজীবন অম্লান থাকবে।

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সাত দিনব্যাপী আনুষ্ঠানিক শোক ও দাফন প্রক্রিয়ার রোববার ছিল দ্বিতীয় দিন। এদিন তেহরানে খামেনির প্রতি শেষশ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল নামে। অশ্রুসিক্ত নয়নে তাঁরা নেতার জানাজায় অংশ নেন।

জানাজা উপলক্ষে ইরানজুড়ে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। সন্ধ্যায় প্রয়াত এ নেতার মরদেহ তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা থেকে স্থানান্তর করা হয়। সোমবার রাজধানীজুড়ে শোকমিছিল হবে। মঙ্গলবার খামেনির কফিন নিয়ে যাওয়া হবে কোম নগরীতে। বুধবার কফিন নেওয়া হবে প্রতিবেশী দেশ ইরাকের নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। সেখান থেকে শোকযাত্রা হবে নাজাফ ও কারবালা শহরে। সেখানেও জানাজা শেষে শোকাহত মানুষ তাঁর প্রতি শেষশ্রদ্ধা জানাবেন। এরপর খামেনির মরদেহ তাঁর জন্মস্থান ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে ফিরিয়ে আনা হবে। সেখানেই তাঁকে দাফন করার কথা রয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধের প্রথম দিন যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলায় ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি পরিবারের কয়েকজন সদস্যসহ নিহত হন। গুরুতর আহত হন মোজতবা খামেনি। ১৯৮৯ সাল থেকে আয়াতুল্লাহ খামেনি ইরান শাসন করে আসছিলেন। খামেনি নিহত হওয়ার পর তাঁর ছেলে মোজতবাকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা করা হয়েছে। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।

ভিওডি বাংলা/আরকেএইচ/এমএস 


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি : সংগৃহীত
পর্যটকদের আকৃষ্টে ভিসানীতিতে বড় পরিবর্তন
খামেনির জানাজা সম্পন্ন
খামেনির জানাজা সম্পন্ন, অংশ নিয়েছেন ৩ ছেলে
চলতি সপ্তাহেই পাকিস্তানে আলোচনায় বসছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান
চলতি সপ্তাহেই পাকিস্তানে আলোচনায় বসছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান