• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live
টপ নিউজ
জুলাই-আগস্ট জুড়ে ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা ইশরাকের পিজিআরের নিরাপত্তা কৌশলে জনগণ যেন বিচ্ছিন্ন বোধ না করে: প্রধানমন্ত্রী কার্বন ক্রেডিট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে অভিজ্ঞ নেতাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: আবদুস সালাম পোল্যান্ড সীমান্তে ৯ বাংলাদেশিসহ ৫৪ অভিবাসী আটক সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার-বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার নিষেধ জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ খামেনির জানাজা সম্পন্ন, অংশ নিয়েছেন ৩ ছেলে চলতি সপ্তাহেই পাকিস্তানে আলোচনায় বসছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প: ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকবেন মেসি

গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে অভিজ্ঞ নেতাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: আবদুস সালাম

নিজস্ব প্রতিবেদক    ৫ জুলাই ২০২৬, ০২:১৭ পি.এম.
গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে অভিজ্ঞ নেতাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: আবদুস সালাম
ছবি: ভিওডি বাংলা

দেশের গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে তরুণ নেতৃত্বের পাশাপাশি অভিজ্ঞ ও প্রবীণ রাজনীতিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

রোববার (৫ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে বাংলাদেশ কর্মজীবী দলের উদ্যোগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান ও ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আহতদের সুস্থতা কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলে এসব কথা বলেন তিনি।

আবদুস সালাম বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পরিপক্বতা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রবীণ নেতারা যদি বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাশে থাকেন, তাহলে দেশ গঠন এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার কাজ আরও সহজ হবে।

প্রবীণ নেতার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাঁরা বহু বছর লড়াই করেছেন। বর্তমানে তাঁরা অসুস্থ। আল্লাহ তাঁদের দ্রুত সুস্থ করে আবার সবার মাঝে ফিরিয়ে দেবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বিএনপির চেয়ারম্যানের এ উপদেষ্টা বলেন, দেশে দীর্ঘদিন গণতন্ত্র অনুপস্থিত ছিল। প্রায় ১৭ বছর, কিংবা বলা যায় দুই দশক পর আবার গণতন্ত্রের পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং দেশ গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। এ সময় অভিজ্ঞ ও বিচক্ষণ নেতাদের পরামর্শ রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় যেমন তরুণদের সাহস ও উদ্দীপনা দরকার, তেমনি প্রবীণদের অভিজ্ঞতাও সমানভাবে প্রয়োজন। এই দুই শক্তির সমন্বয় ঘটাতে পারলে দীর্ঘদিনের গণতন্ত্রহীন পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে এবং দেশের বিরুদ্ধে সব ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে সামনে এগিয়ে যাওয়া যাবে।

তারেক রহমানের নেতৃত্ব প্রসঙ্গে আবদুস সালাম বলেন, দীর্ঘদিন গণতন্ত্রহীন পরিবেশ এবং অর্থনীতির ক্ষয়ক্ষতির মধ্যেই বর্তমান সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। অতীতে দেশজুড়ে লুটপাটের কারণে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দাও যুক্ত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতেও তারেক রহমান সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য একের পর এক প্রকল্প গ্রহণ করে তাঁদের সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। তিনি দেশ পরিচালনার জন্য সম্প্রতি বাজেটও উপস্থাপন করেছেন।

তিনি বলেন, বিভিন্ন বিষয়ে মতভেদ থাকতে পারে। তবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য সন্তান হিসেবে তারেক রহমান তাঁর রাজনৈতিক আদর্শ অনুসরণ করেই দেশকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। যেভাবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার পর একটি ক্ষতবিক্ষত ও বিশৃঙ্খল দেশকে পুনর্গঠনের মাধ্যমে শৃঙ্খলার পথে ফিরিয়ে এনেছিলেন এবং বিভিন্ন খাত পুনর্গঠন করেছিলেন, তেমনি তারেক রহমানও দেশের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে অভিজ্ঞ প্রবীণ নেতাদের সহযোগিতা যেমন প্রয়োজন, তেমনি দেশের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোরও সরকারের পাশে দাঁড়ানো উচিত। এমন কোনো বক্তব্য, কর্মসূচি বা কর্মকাণ্ড গ্রহণ করা উচিত হবে না, যাতে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হয় কিংবা উন্নয়নের ধারা বাধাগ্রস্ত হয়। 

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর যখন একটি সরকার গণতন্ত্রকে বিকশিত করতে কাজ করছে, তখন সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে আবদুস সালাম বলেন, অনেকে মনে করেন এই অভ্যুত্থান কেবল জুলাই মাসের একটি ঘটনা। বাস্তবে তা নয়। দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়েই এই পটভূমি তৈরি হয়েছিল। যারা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাঁরাও রাজপথে সক্রিয় ছিলেন।

তিনি বলেন, জুলাইয়ের অভ্যুত্থান না হলে এবং শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরানো সম্ভব না হলে অনেকের কী হতো, তা বলা কঠিন। তবে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ অসংখ্য মামলা ছিল এবং তাঁরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতেন। তাই কে কতটুকু অবদান রেখেছেন, সে বিতর্কে না গিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর দেশে ফ্যাসিবাদের অবসান হয়েছে এবং আধিপত্যবাদের হাত থেকে বাংলাদেশকে রক্ষার একটি পর্যায়ে দেশ পৌঁছেছে।

আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রাখতে গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে আবদুস সালাম বলেন, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারকে সমর্থন ও সহযোগিতা করতে হবে। আগামী পাঁচ বছর সরকার যাতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করতে পারে, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে পারে এবং গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, সে জন্য সবাইকে ধৈর্য ও সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে বিএনপির নেতাকর্মীরা অনেক নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছেন এবং তাঁদের অনেক ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকতে হয়েছে। কিন্তু তারেক রহমান কখনো অধৈর্য হননি কিংবা প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেননি। তাই দল করতে হলে তাঁর রাজনৈতিক ধৈর্য, সহনশীলতা ও নেতৃত্বের আদর্শ অনুসরণ করতে হবে।

আবদুস সালাম বলেন, অরাজকতা, বিভেদ ও দলাদলির মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। দেশের উন্নয়ন এবং গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে তারেক রহমানের রাজনৈতিক নির্দেশনা ও আদর্শ অনুসরণ করতে হবে।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি সালাউদ্দিন খান পিপিএম এর সভাপতিত্বে ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন সরদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, কৃষক দলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক এস কে সাদি, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।

ভিওডি বাংলা/খতিব/এফএ


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
যা হারিয়েছেন তা কি ফিরে পাবেন, প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর
যা হারিয়েছেন তা কি ফিরে পাবেন, প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর
এনসিপির লোগো
এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ শুরু সোমবার
গুলিস্তানে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ
বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে রণক্ষেত্র ফুলবাড়িয়া