৫ আগস্টের মধ্যে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ উন্মুক্ত করার দাবি

‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ চালুর ক্ষেত্রে আমলাতান্ত্রিক চক্রান্ত, চরম অবহেলা ও দীর্ঘসূত্রিতার অভিযোগ তুলে দ্রুত জাদুঘরটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন জুলাই রেভ্যুলেশনারী এলায়েন্স ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত এক যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ে এ দাবি জানান তারা।
বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর পতিত সরকারের দীর্ঘ শাসনামলের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে গণভবনকে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’-এ রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও চক্রান্তের কারণে জাদুঘরটি এখনও চালু করা সম্ভব হয়নি।
তাদের অভিযোগ, জাদুঘরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের বিভিন্ন স্মারক, ২০০৯ সালের পিলখানা বিডিআর হত্যাকাণ্ড, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ওপর নির্যাতন, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি, আবরার ফাহাদ ও ইলিয়াস আলীসহ বিভিন্ন ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ দলিল ও স্মারক সংরক্ষিত রয়েছে। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এসব মূল্যবান নিদর্শন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
এছাড়া, চীনের বিশেষজ্ঞদের স্থাপিত কোটি টাকার আধুনিক প্রযুক্তি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
ব্রিফিংয়ে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রশংসিত এবং প্রায় ৬০টি দেশের কূটনীতিকদের পরিদর্শন করা এই জাদুঘর আগামী ৫ আগস্ট সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও প্রশাসনিক জটিলতায় তা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ‘জুলাই জাদুঘর আইন’ অনুসরণ না করে নিয়োগ বিধি পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে। এর মাধ্যমে শুরু থেকেই জাদুঘর নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত বিশেষজ্ঞদের বাদ দিয়ে অযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের হয়রানি ও হুমকির অভিযোগও তোলা হয়।
তারা আরও দাবি করেন, তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমান এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য না দেওয়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তাদের প্রধান দাবিগুলো হলো—
- আগামী ৫ আগস্টের মধ্যে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ পূর্ণাঙ্গভাবে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা।
- সংসদে পাস হওয়া আইন অনুযায়ী যোগ্য ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের নিয়োগ নিশ্চিত করা।
- জাদুঘর চালুতে বিলম্বের জন্য দায়ীদের জবাবদিহি ও শাস্তির আওতায় আনা।
- জাদুঘরের সংরক্ষিত স্মারক ও হাই-টেক প্রযুক্তির আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা।
দাবি পূরণ না হলে শহীদ পরিবার, আহত যোদ্ধা ও ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
এ সময় জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মাসব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ‘Truth, Justice and Healing’ (১০ জুলাই), ‘নিখোঁজ লাশেদের সন্ধানে’ (১৯ জুলাই), ‘July Trauma: The Weight of Survival’ (২০ জুলাই), ‘July Mass Uprising Conference’ (২ আগস্ট) এবং মাসব্যাপী ‘প্রাচীরের ক্যানভাসে বিপ্লব’, ‘রঙে রাঙা জুলাই’, ‘বরাবর অনন্ত মহাকাল’ শীর্ষক চিঠি লেখা প্রতিযোগিতা ও শহীদ পরিবারের সঙ্গে ধারাবাহিক সাক্ষাৎ কর্মসূচি।
ভিওডি বাংলা/এমআই/এফএ








মন্তব্য