সামাজিক মাধ্যমে নিন্দা ও প্রতিবাদ
জায়গা কিনে প্রতারক চক্রের টার্গেটে ডা. বাছেদুর রহমান সোহেল

জায়গা কিনে একটি প্রতারক চক্রের ট্যার্গেট হয়েছেন ডা. বাছেদুর রহমান সোহেল। এক বছর আগে তার পরিবার নারায়নগঞ্জে ফতুল্লায় ১৫ শতাংশ জায়গা ক্রয় করে। কয়েকমাস ধরে সেখানে স্থাপনাও তৈরি করছেন। সম্প্রতি হঠাৎ করে এই চক্রটি আরেকজনকে সেই জায়গায় মালিক সাজিয়ে ভূয়া দলিল নিয়ে হাজির হয়। শুধু তাই নয়; সেই ভূয়া দলিল দিয়ে আরেকজনের কাছে বিক্রিও করে দেয়। এখানেই শেষ নয়; এক পর্যায় ওই চক্রটি ডা. সোহেলের কাছে কাঠা প্রতি প্রথমে ২০ লাখ এবং পরে ১০ লাখ টাকা দাবি করে।
তাতেও সাড়া না পেয়ে এখন ডা. সোহেলের ছবি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপ্রচার শুরু করেছে। সকল কাগজপত্র বৈধ হওয়া সত্ত্বেও ওই চক্রটি সংখ্যালঘু ইস্যু সামনে এনে ফেসবুকে পোস্ট করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এই বিষয়ে খুবই ব্রিতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন ওই চিকিৎসক।
এই বিষয়ে গতকাল ডা. সোহেল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, আমার ও আমার পরিবারের বিরুদ্ধে সম্প্রতি বিভিন্ন নামে-বেনামে পরিচালিত কিছু অনলাইন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু সংবাদ ও তথ্যের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি। প্রকাশিত এসব তথ্য মিথ্যা, বানোয়াট, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং মানহানিকর। আমি এর প্রতিকার চাই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই ধরনের প্রতারণার ঘটনা নারায়নগঞ্জের রুপগঞ্জ কিংবা ফতুল্লায় নতুন নয়। সেখানে একটি সিন্ডিকেট আছে, যারা এভাবে মানুষকে হয়রানি করে চাঁদা আদায় করে। এই চক্রে কয়েকজন ভূয়া সাংবাদিকও রয়েছেন। এই ভূয়া সাংবাদিকরাও ডা. সোহেলের কাছে টাকা দাবি করেছেন। এই চক্রের নেপথ্যে রয়েছে ওলামা লীগের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান কাঁচপুরী এবং ফতুল্লা থানার কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মাখন চন্দ্র সরকার।
ডা. সোহেল বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই দুই নেতা ফতুল্লা এলাকায় শত শত পরিবারকে নিঃস্ব করে বিভিন্ন জমি দখল করেছেন। তার জমির সকল কাগজপত্র বৈধ হওয়া সত্ত্বেও ওই চক্র সংখ্যালঘু পরিবারকে সামনে এনে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তারা ৫ আগস্টেও পর পালিয়ে গেলেও সম্প্রতি সময়ে তাদের সিন্ডিকেট আবার সক্রিয় হয়েছে। তারা ফতুল্লা থানার বর্তমান অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমানকেও জড়িয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। জমি ক্রয় ও দখল গ্রহণের সময় এবং বর্তমান ওসি ফতুল্লা থানায় যোগদানের সময় সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ফতুল্লা থানায় যোগদান করেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডা. সোহেলে বলেন, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী সকল প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানাধীন কুতুবপুর ইউনিয়নের শান্তিধারা ৩ নম্বর রোড এলাকায় ১০ কাঠা জমি ক্রয়ের উদ্দেশ্যে বায়না দলিল সম্পাদন করেন। পরবর্তীতে তিনি আইনানুগভাবে জমি ক্রয় করেন এবং জমির বৈধ মালিকানা অর্জন করেন। সংশ্লিষ্ট জমির মৌজা ভূঁইঘর। সি.এস. খতিয়ান নম্বর ১৬৯, এস.এ. খতিয়ান নম্বর ২২৯, আর.এস. নম্বর ৭৯৮, এস.এ. দাগ নম্বর ৩৫ এবং আর.এস. দাগ নম্বর ৩৮। জমির পরিমাণ ৪০ শতাংশের খাতে ১৫ শতাংশ এবং জমির শ্রেণি ‘নাল’।
ডা. সোহেল যাচাই-বাছাই ছাড়া বিভ্রান্তিকর, অসত্য ও মানহানিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহবান জানিয়েছেন। অন্যথায় মিথ্যা, বানোয়াট ও মানহানিকর তথ্য প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও সতর্ক করেন।
ভিওডি বাংলা/এমআই/এমএস








মন্তব্য