• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live
টপ নিউজ
সরকার একদলীয় শাসনের দিকে ধাবিত হচ্ছে: জামায়াত আমির দিল্লি বিমানবন্দরের ঘটনায় ভারতের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় ঢাকা সহিংসতাকে উসকে দিচ্ছে অবৈধ মাদক পাচার: জাতিসংঘ মহাসচিব দ্বিতীয় পদ্মাসেতু নির্মাণের উদ্যোগে নতুন অগ্রগতি হরমুজ প্রণালিতে নতুন করিডোর চালু, লাগবে না ট্রানজিট ফি গণমাধ্যমের পক্ষপাতহীন কর্মকাণ্ডে সংসদ মহিমান্বিত হবে: স্পিকার বেইজিংয়ে গার্ড অব অনার ও লাল গালিচা সংবর্ধনা পেলেন প্রধানমন্ত্রী দেশে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ১৯ কোটির বেশি: অর্থমন্ত্রী বিশ্বকাপের মাঝেই টাইব্রেকারে আসছে বড় পরিবর্তন! ‘রাজনীতিতে পরোক্ষভাবে ভূমিকা রেখেছেন জুবাইদা রহমান’

পেমেন্ট গেটওয়ে কী? বৈধ ও অবৈধ পেমেন্ট গেটওয়ের পার্থক্য ও ঝুঁকি

VOD Cyber Desk    ২৫ জুন ২০২৬, ০৩:৫৪ এ.এম.
"বৈধ নাকি অবৈধ? অনলাইন লেনদেনের আগে জেনে নিন পেমেন্ট গেটওয়ের নিরাপত্তা ও ঝুঁকি" ছবিঃ সংগৃহীত

ডিজিটাল লেনদেনের যুগে পেমেন্ট গেটওয়ে এখন অনলাইন ব্যবসার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ই-কমার্স, অনলাইন সংবাদমাধ্যম, শিক্ষা প্ল্যাটফর্ম কিংবা ফ্রিল্যান্সিং সেবার অর্থ লেনদেনের জন্য পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে সব পেমেন্ট গেটওয়ে বৈধ নয়। অনেক ক্ষেত্রে অবৈধ বা অনুমোদনহীন পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করে প্রতারণা, অর্থপাচার এবং গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে।

পেমেন্ট গেটওয়ে কী?

পেমেন্ট গেটওয়ে হলো এমন একটি প্রযুক্তিগত মাধ্যম, যা ক্রেতার কাছ থেকে অনলাইনে অর্থ গ্রহণ করে নিরাপদভাবে ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) অথবা মার্চেন্টের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করে। এটি ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে অর্থ লেনদেনের সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে।

বৈধ পেমেন্ট গেটওয়ে কী?

বৈধ পেমেন্ট গেটওয়ে হলো সেই প্রতিষ্ঠান, যা সংশ্লিষ্ট দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন ও লাইসেন্স নিয়ে পরিচালিত হয়। বাংলাদেশে এ ধরনের সেবা পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন প্রয়োজন। অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট নিরাপত্তা, জবাবদিহিতা ও গ্রাহক সুরক্ষা নীতিমালা মেনে চলতে হয়।

বৈধ পেমেন্ট গেটওয়ের বৈশিষ্ট্য

  • বাংলাদেশ ব্যাংক বা সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনপ্রাপ্ত।
  • গ্রাহকের অর্থ ও তথ্য সুরক্ষায় নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ করে।
  • লেনদেনের রেকর্ড সংরক্ষণ করে।
  • প্রতারণা বা অভিযোগের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতার আওতায় থাকে।
  • AML (Anti-Money Laundering) ও KYC নীতিমালা অনুসরণ করে।

 

অবৈধ পেমেন্ট গেটওয়ে কী?

অবৈধ পেমেন্ট গেটওয়ে হলো এমন সেবা, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন ছাড়াই অর্থ লেনদেন পরিচালনা করে। এসব প্ল্যাটফর্মে গ্রাহকের অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকে না এবং প্রতারণার ঝুঁকি বেশি থাকে।

বাংলাদেশে অতীতে কিছু অনুমোদনহীন পেমেন্ট গেটওয়ের বিরুদ্ধে গ্রাহকের অর্থ আটকে রাখা, অর্থ আত্মসাৎ এবং ই-কমার্স জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক লাইসেন্সবিহীন পেমেন্ট সেবার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

কেন অবৈধ পেমেন্ট গেটওয়ে ঝুঁকিপূর্ণ? 

বিশেষজ্ঞদের মতে, অবৈধ পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহারের ফলে

  • গ্রাহকের অর্থ আটকে যেতে পারে।
  • ব্যক্তিগত ও ব্যাংকিং তথ্য চুরি হতে পারে।
  • অর্থপাচার বা জালিয়াতির ঝুঁকি বাড়ে।
  • ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আইনি জটিলতায় পড়তে পারে।
  • গ্রাহকের আস্থা নষ্ট হয়।

    বৈধ ও অবৈধ পেমেন্ট গেটওয়ের মধ্যে পার্থক্য

    অনলাইন লেনদেনের ক্ষেত্রে বৈধ ও অবৈধ পেমেন্ট গেটওয়ের পার্থক্য জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিচে প্রধান পার্থক্যগুলো তুলে ধরা হলো—

    ১. অনুমোদন

    বৈধ পেমেন্ট গেটওয়ে সংশ্লিষ্ট দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন ও লাইসেন্স নিয়ে পরিচালিত হয়।
    অন্যদিকে অবৈধ পেমেন্ট গেটওয়ে কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই লেনদেন পরিচালনা করে।

    ২. নিরাপত্তা ব্যবস্থা

    বৈধ পেমেন্ট গেটওয়েতে উন্নত সাইবার নিরাপত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যা গ্রাহকের অর্থ ও তথ্য সুরক্ষিত রাখে।
    অপরদিকে অবৈধ গেটওয়েতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল বা অনিশ্চিত হওয়ায় তথ্য চুরি ও প্রতারণার ঝুঁকি বেশি থাকে।

    ৩. গ্রাহক সুরক্ষা

    বৈধ গেটওয়ের মাধ্যমে লেনদেন করলে গ্রাহক আইনগত সুরক্ষা পান এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির সুযোগ থাকে।
    অবৈধ গেটওয়ের ক্ষেত্রে এ ধরনের সুরক্ষা সাধারণত থাকে না।

    ৪. জবাবদিহিতা

    অনুমোদিত পেমেন্ট গেটওয়েগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিয়মিত তদারকির আওতায় থাকে।
    অন্যদিকে অবৈধ গেটওয়ের কার্যক্রমের ওপর কোনো কার্যকর নিয়ন্ত্রণ বা নজরদারি থাকে না।

    ৫. অর্থপাচার প্রতিরোধ

    বৈধ গেটওয়েগুলো KYC (Know Your Customer) এবং AML (Anti-Money Laundering) নীতিমালা অনুসরণ করে।
    অবৈধ গেটওয়েগুলো অনেক ক্ষেত্রে এসব নীতিমালা মানে না, ফলে অর্থপাচার ও আর্থিক অপরাধের ঝুঁকি বাড়ে।

    ৬. আইনি ঝুঁকি

    বৈধ পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করলে আইনি ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম থাকে।
    কিন্তু অবৈধ গেটওয়ে ব্যবহার করলে ব্যবহারকারী ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উভয়ই আইনি জটিলতার মুখে পড়তে পারে।

বাংলাদেশে আইন কী বলছে?

বাংলাদেশে ২০২৪ সালে Payment and Settlement System Act, 2024 প্রণয়ন করা হয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে পেমেন্ট, ক্লিয়ারিং ও সেটেলমেন্ট ব্যবস্থাকে আইনগত কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। অনুমোদন ছাড়া পেমেন্ট সেবা পরিচালনা করলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হতে পারে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান।

উপসংহার

ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে পেমেন্ট গেটওয়ের গুরুত্ব বাড়ছে। তবে নিরাপদ লেনদেন নিশ্চিত করতে ব্যক্তি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই অনুমোদিত এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করতে হবে। বৈধ পেমেন্ট গেটওয়ে শুধু অর্থ লেনদেন সহজ করে না, বরং গ্রাহকের অর্থ ও তথ্যের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করে। অন্যদিকে অবৈধ পেমেন্ট গেটওয়ে সাময়িক সুবিধা দিলেও দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের আর্থিক ও আইনি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
এআই ব্যবহার করে কোটি ডলারের প্রতারণা, গুগলের মামলা
এআই ব্যবহার করে কোটি ডলারের প্রতারণা, গুগলের মামলা
৯০ শতাংশ জনগণকে ফাইভ জি’র আওতায় আনার লক্ষ্য
বাজেট ২০২৬-২৭ ৯০ শতাংশ জনগণকে ফাইভ জি’র আওতায় আনার লক্ষ্য
এআই দিয়ে নথি লেখায় মামলা খারিজ, আইনজীবী বহিষ্কার
এআই দিয়ে নথি লেখায় মামলা খারিজ, আইনজীবী বহিষ্কার