জামালপুরে অটোরিকশা চালককে হত্যা, গ্রেপ্তার ৬

জামালপুরে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে এক অটোরিকশা চালককে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে মূল অভিযুক্তসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত জিআই তার, নিহতের মোবাইল ফোন এবং চোরাই অটোরিকশার বিভিন্ন যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়েছে।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জুন রাত আনুমানিক ২টার দিকে ইসলামপুর উপজেলার চরপুটিমারী ইউনিয়নের ডেফলা ব্রিজ থেকে বেনুয়ারচর বাজারগামী সড়কের পাশে একটি পানিভর্তি ধানক্ষেতে রাখা লাগেজের ভেতর থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে ইসলামপুর থানা পুলিশ। পরে নিহতের স্বজনরা শার্ট ও কোমরে বাঁধা তাবিজ দেখে মরদেহটি মেলান্দহ উপজেলার অটোরিকশা চালক নায়েব আলীর বলে শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মো. মামুন ওরফে মমিন বাদী হয়ে ইসলামপুর থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা, প্রমাণ লোপাট ও চুরির অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটি পিবিআই, জামালপুর জেলা তদন্তের দায়িত্ব গ্রহণ করে।
অ্যাডিশনাল আইজিপি মো. মোস্তফা কামালের দিকনির্দেশনা এবং পিবিআই জামালপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত, পিপিএম-এর তত্ত্বাবধানে তদন্ত শুরু হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ২৪ জুন রাত সাড়ে ৩টার দিকে মেলান্দহ উপজেলার চাকদহ সর্দারবাড়ী এলাকা থেকে মূল অভিযুক্ত মো. নাহিদুল ইসলাম (৩০)কে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাহিদুল জানান, জরুরি ভিত্তিতে ১০ হাজার টাকার প্রয়োজন হওয়ায় তিনি সহযোগীদের নিয়ে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী নায়েব আলীকে হত্যা করে তার অটোরিকশা নিয়ে যায় এবং মরদেহ একটি লাগেজে ভরে ইসলামপুরের নির্জন স্থানে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
নাহিদুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চোরাই অটোরিকশার বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ক্রয়ের অভিযোগে মো. সোলাইমান কবির (৫০), মো. শফিকুল ইসলাম (৪১), মো. আব্দুল কাদের (৫৬), মো. রাসেল হোসেন (৩৪) এবং মালামাল পরিবহনে সহযোগিতাকারী সাগর পাশা (২৬)কে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত জিআই তার, অটোরিকশার চারটি ব্যাটারি, একটি কন্ট্রোলার, তিনটি চাকা, মোটর ডিফারেনশিয়াল, দুটি সকেট বাম্পার, সামনের গ্লাস এবং লোহার বডির বিভিন্ন কাটা অংশ উদ্ধার করে পিবিআই।
তদন্তে আরও জানা যায়, নায়েব আলী প্রতিদিনের মতো ২১ জুন ভোরে যাত্রী পরিবহনের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। সেদিন তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা তার মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে মেলান্দহ থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিখোঁজের খবর প্রচার করা হয়। সেই সূত্র ধরেই স্বজনরা ইসলামপুরে উদ্ধার হওয়া মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করেন।
পিবিআই জানায়, আদালতে হাজির করা হলে প্রধান অভিযুক্ত মো. নাহিদুল ইসলাম স্বেচ্ছায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
পিবিআই, জামালপুর জেলার পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত বলেন, চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের সংবাদ পাওয়ার পরপরই আমাদের টিম তদন্তে নামে। মামলা রুজুর মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উদ্ঘাটন, মূল আসামি গ্রেপ্তার এবং গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
ভিওডি বাংলা/বিন্দু







