• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live
টপ নিউজ
সরকার একদলীয় শাসনের দিকে ধাবিত হচ্ছে: জামায়াত আমির দিল্লি বিমানবন্দরের ঘটনায় ভারতের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় ঢাকা সহিংসতাকে উসকে দিচ্ছে অবৈধ মাদক পাচার: জাতিসংঘ মহাসচিব দ্বিতীয় পদ্মাসেতু নির্মাণের উদ্যোগে নতুন অগ্রগতি হরমুজ প্রণালিতে নতুন করিডোর চালু, লাগবে না ট্রানজিট ফি গণমাধ্যমের পক্ষপাতহীন কর্মকাণ্ডে সংসদ মহিমান্বিত হবে: স্পিকার বেইজিংয়ে গার্ড অব অনার ও লাল গালিচা সংবর্ধনা পেলেন প্রধানমন্ত্রী দেশে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ১৯ কোটির বেশি: অর্থমন্ত্রী বিশ্বকাপের মাঝেই টাইব্রেকারে আসছে বড় পরিবর্তন! ‘রাজনীতিতে পরোক্ষভাবে ভূমিকা রেখেছেন জুবাইদা রহমান’

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া-চীন সফরে কী বার্তা খুঁজছে ঢাকা?

আহসান হাবীব    ২৪ জুন ২০২৬, ১১:০৯ পি.এম.
ছবি: ভিওডি বাংলা

একটি বিদেশ সফরের মূল্যায়ন কি বিমানবন্দরের লাল গালিচায় হয়? নাকি যৌথ বিবৃতির শব্দগুচ্ছে? নাকি আরও পরে—যখন তার প্রভাব পৌঁছে যায় শ্রমিকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে, শিল্পাঞ্চলের কারখানায় কিংবা রাষ্ট্রের বিনিয়োগ প্রবাহে?

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রে এখন এ প্রশ্নই।

প্রায় ১৭ বছর পর বিএনপির নেতৃত্বে গঠিত সরকারের প্রধান হিসেবে প্রথম বিদেশ সফরে তিনি বেছে নিয়েছেন মালয়েশিয়া ও চীনকে। রাজনৈতিকভাবে এই সিদ্ধান্ত যতটা প্রতীকী, অর্থনৈতিকভাবে ততটাই তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ দুটি দেশের সঙ্গেই বাংলাদেশের সম্পর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে অর্থনীতি— একদিকে শ্রমবাজার, অন্যদিকে উন্নয়ন ও বিনিয়োগ।

ঢাকার কূটনৈতিক মহলের একটি অংশ মনে করছে, নতুন সরকার শুরুতেই একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছে— তাদের অগ্রাধিকার রাজনৈতিক প্রদর্শন নয়, অর্থনৈতিক ফলাফল।

মালয়েশিয়া অধ্যায়: শ্রমবাজারের দরজায় নতুন কড়া
কুয়ালালামপুরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে বাংলাদেশি শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের বিষয়টি।

দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিলতায় আটকে থাকা শ্রমবাজার পুনরায় চালুর সম্ভাবনা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। সফর শেষে প্রকাশিত ৩৩ দফার যৌথ বিবৃতি, সংস্কৃতি খাতে সমঝোতা স্মারক এবং দুটি ‘এক্সচেঞ্জ অব নোটস’ হয়তো শিরোনাম হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকৃত আলোচনার কেন্দ্র ছিল শ্রমবাজার।

কারণ বিষয়টি শুধু কূটনীতি নয়, সরাসরি অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত।

বাংলাদেশের লাখো পরিবার এখনও প্রবাসী আয়নির্ভর। ফলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হলে তার প্রভাব পড়বে গ্রামবাংলার অর্থনীতিতেও।

তবে সফর শেষে বড় কোনো বিনিয়োগ ঘোষণার পরিবর্তে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে, তা হলো দুই দেশের মধ্যে নতুন আস্থার পরিবেশ তৈরি হওয়ার ইঙ্গিত।

চীনে নজর কেন?
মালয়েশিয়া পর্ব শেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এখন চীনে।

দালিয়ানে ‘সামার দাভোস’ ফোরামে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বেইজিংয়ে চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করছেন তিনি।

চীন বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগিতার অন্যতম বড় অংশীদার। পদ্মা সেতুর রেল সংযোগ, কর্ণফুলী টানেল কিংবা বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পে চীনের উপস্থিতি দৃশ্যমান।

এবারের আলোচনায় রয়েছে তিস্তা প্রকল্প, অর্থনৈতিক অঞ্চল, শিল্পাঞ্চল, প্রযুক্তি সহযোগিতা এবং প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ।

ঢাকার নীতিনির্ধারণী মহলের একটি অংশ মনে করছে, নতুন সরকারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে শিল্প বিনিয়োগ আকর্ষণ। কারণ অর্থনীতির বর্তমান বাস্তবতায় অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

সেই কারণে চীনা বিনিয়োগের প্রশ্নটি কূটনৈতিক আলোচনার চেয়ে অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত।

‘হাই-ভোল্টেজ’ বিতর্ক
সফরের মাঝপথেই রাজনৈতিক মহলে আরেকটি বিতর্ক সামনে এসেছে।

কারও কারও প্রশ্ন— সফরটি কি যথেষ্ট ‘হাই-ভোল্টেজ’?

ডোনাল্ড ট্রাম্প বা ভ্লাদিমির পুতিনের চীন সফরের সঙ্গে তুলনা টেনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা দেখা গেছে। কোথাও বিমানবন্দরের অভ্যর্থনা, কোথাও সফরসঙ্গীদের তালিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও রাজনীতি বিশ্লেষক মোবাশ্বের হোসেন টুটুল মনে করেন, চীনের মতো পরাশক্তির সঙ্গে আলোচনায় শক্তিশালী প্রতিনিধিদল গুরুত্বপূর্ণ।

তবে কূটনৈতিক মহলের একাংশ বলছে, সফরের গুরুত্ব নির্ধারণে প্রটোকল নয়, ফলাফলই শেষ কথা। কোনো সফরের প্রকৃত মূল্য বোঝা যায় চুক্তি, বিনিয়োগ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে।

বিএনপির প্রত্যাশা
বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া সফরটিকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন।

তিনি বলেন, সফরের শুরু থেকেই তারেক রহমানের আন্তরিকতা, সৌজন্যবোধ ও কর্মমুখী মনোভাব তাঁকে মুগ্ধ করেছে। মূল্যবান সময়কে কাজে লাগিয়ে তিনি মালয়েশিয়ার সঙ্গে শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন।

ড. বড়ুয়ার মতে, চীনের সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর বিশ্বাস, এই সফর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতি নতুন আগ্রহ তৈরি করবে।

একই ধরনের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। তাঁর ভাষায়, “এই সফর নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার, চীনা বিনিয়োগ ও সহযোগিতার নতুন নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হবে। শিগগিরই দেশবাসী এই সফরের সুফল ভোগ করবে।”

তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরকে আপাতত সাফল্য কিংবা ব্যর্থতার খোপে ফেলা কঠিন।

কারণ এই সফরের আসল গল্প এখনও লেখা হয়নি।

সেই গল্প লেখা হবে তখন, যখন মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে নতুন কর্মী যাবে, যখন চীনা বিনিয়োগ বাস্তবে শিল্পাঞ্চলে পৌঁছাবে, যখন ঘোষিত সহযোগিতা প্রকল্পে পরিণত হবে।

কূটনীতির ভাষায় এটিকে বলা যায় সূচনা। আর রাজনীতির ভাষায়—প্রথম পরীক্ষা।

এখন দেখার, সেই পরীক্ষার ফলাফল কতটা বদলে দিতে পারে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক অবস্থান।

ভিওডি বাংলা/এএইচ/এফএ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
গণমাধ্যমের পক্ষপাতহীন কর্মকাণ্ডে সংসদ মহিমান্বিত হবে: স্পিকার
গণমাধ্যমের পক্ষপাতহীন কর্মকাণ্ডে সংসদ মহিমান্বিত হবে: স্পিকার
বেইজিংয়ে গার্ড অব অনার ও লাল গালিচা সংবর্ধনা পেলেন প্রধানমন্ত্রী
বেইজিংয়ে গার্ড অব অনার ও লাল গালিচা সংবর্ধনা পেলেন প্রধানমন্ত্রী
রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সহায়তায় ১৩৭ কোটি টাকার চুক্তি
রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সহায়তায় ১৩৭ কোটি টাকার চুক্তি