• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

নিষিদ্ধ ঘোষিত দলের কর্মসূচি ঘিরে রাজধানীতে বাড়তি নিরাপত্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২৩ জুন ২০২৬, ১০:৪৫ এ.এম.
ছবি: সংগৃহীত

দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে ২৩ জুনকে কেন্দ্র করে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলটির নেতাকর্মীরা সাম্প্রতিক দিনগুলোতে রাজধানীতে একাধিক ঝটিকা মিছিল করেছে বলে জানা গেছে। এ কারণে আজ সম্ভাব্য কর্মসূচিকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক দলগুলোও নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে মাঠে সক্রিয় অবস্থানে থাকার ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোট। মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর বিজয়নগরে একটি বড় সমাবেশ আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে জোটের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। দলীয় সূত্র বলছে, মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সম্ভাব্য অস্থিরতা বা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের যেকোনো অপতৎপরতা প্রতিহত করা এবং রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া।

জোটের নেতারা দাবি করছেন, শুধু প্রতিবাদ নয়, দেশে ‘স্থিতিশীলতা বজায় রাখা’ও তাদের লক্ষ্য। সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, রাষ্ট্র যদি নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়, তবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজনৈতিক জোটগুলো পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভূমিকা রাখবে।

অন্যদিকে একই দিন সারা দেশে আলাদা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি জানিয়েছে, আওয়ামী লীগ শাসনামলে সংঘটিত বিভিন্ন অভিযোগ-যেমন গুম, খুন ও সহিংস ঘটনার বিচার দাবিতে তারা বিক্ষোভ করবে। দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এসব কর্মসূচি মূলত প্রতিরোধমূলক অবস্থান হিসেবে নেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়।

এনসিপির একাধিক সূত্র বলছে, তারা মনে করছে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে ঘিরে কিছু গোষ্ঠী আবারও সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করতে পারে। সে কারণে মাঠে অবস্থান নেওয়া এবং জনসচেতনতা তৈরির অংশ হিসেবেই এই কর্মসূচি।

এদিকে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি সরাসরি কোনো কর্মসূচি ঘোষণা না করলেও ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ বা কার্যক্রম স্থগিত থাকা কোনো সংগঠনের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সরকারের দায়িত্ব। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ইঙ্গিত দিয়েছে দলটি।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুন নবী খান সোহেল এক বক্তব্যে বলেন, সরকারের উচিত এ ধরনের পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা। তবে সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি নীরব থাকবে না বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২৩ জুন ঘিরে একাধিক রাজনৈতিক শক্তির মাঠে সক্রিয়তা রাজধানীতে একটি “নিয়ন্ত্রিত উত্তেজনার পরিস্থিতি” তৈরি করতে পারে। একদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের সমাবেশ, অন্যদিকে এনসিপির দেশব্যাপী বিক্ষোভ-সব মিলিয়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতি নজরদারির মধ্যে থাকবে প্রশাসন।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছাত্রলীগ ধরিয়ে দিলে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা রাবি ছাত্রদলের
ছাত্রলীগ ধরিয়ে দিলে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা রাবি ছাত্রদলের
ধানমন্ডিসহ রাজধানীর ৩ স্পটে কর্মসূচি দিল জামায়াত
ধানমন্ডিসহ রাজধানীর ৩ স্পটে কর্মসূচি দিল জামায়াত
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে শাহবাগে ছাত্রদলের বিক্ষোভ
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে শাহবাগে ছাত্রদলের বিক্ষোভ