ইরান যুদ্ধে বিপিসির লোকসান ১৭০০০ কোটি টাকা: জ্বালানিমন্ত্রী

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে গত সাড়ে তিন মাসে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসান হয়েছে ১৭ হাজার ৩৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।
সোমবার (২২ জুন) সংসদে এই তথ্য জানিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, মে মাস থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমতে শুরু করেছে। এর পরও দেশীয় বাজারের তুলনায় বেশি। জুন মাসে প্রতি লিটার ডিজেলের খরচ ১৭৫ টাকা ২২ পয়সা, অকটনের খরচ ১৬০ টাকা ৭০ টাকা পয়সা। তবে সরকার জনস্বার্থে ডিজেলের দাম বাড়ায়নি। পেট্রোল, অকটেনের দাম লিটারে ৫ টাকা বৃদ্ধির পরও বিপিসি দৈনিক প্রায় ৭৮ কোটি টাকা লোকসান দিতে হচ্ছে।
সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ আব্দুল খালেকের প্রশ্নে এসব তথ্য জানান মন্ত্রী।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়। মন্ত্রী আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে অনেক কমে দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করায় লোকসান সত্ত্বেও বিপিসি নিজস্ব তহবিল দিয়ে তিন মাস ধরে আমদানি কার্যক্রম সচল রেখে চলেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে দেশের বাজারেও জ্বালানির দাম হ্রাস করণে বিবেচনা করা হবে।
সংরক্ষিত আসনের সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, দেশে এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত কয়লা ক্ষেত্র পাঁচটি। বড়পুকুরিয়া, ফুলবাড়ি, দিঘীপাড়া, খালাসীপাড়া ও জামালগঞ্জ। এর মধ্যে শুধুমাত্র বড়পুকুরিযা কয়লাক্ষেত্র থেকে ২০০৫ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে কয়লা উত্তোলন করা হচ্ছে। ফুলবাড়ী ও দিঘীপাড়া কয়লাক্ষেত্রের সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আশরাফ উদ্দিনের প্রশ্নে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলপিজি) সহজলভ্য হওয়ায় আবাসিক খাতে নতুন গ্যাস সংযোগ চালুর আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই সরকারের। এলএনজি ঘাটতি থাকায় ২০২৫ সালের ২৩ জুলাই থেকে বিদ্যুৎ, সার ও বিশেষায়িত শিল্পাঞ্চল ব্যতীত আবাসিক, বাণিজ্যিক ও সিএনজি শ্রেণিতে নতুন গ্যাস সংযোগ প্রদান স্থগিত রাখা হয়েছে।
চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সদস্য শাহাজাহান চৌধুরীর প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, সব কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র অবসরে পাঠানো হয়েছে। সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালার মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস্য থেকে সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।
মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. তাজউদ্দীন খানের প্রশ্নের জবাবে ইকবাল হাসান বলেন, দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের বর্তমান চাহিদা দৈনিক প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। চাহিদার বিপরীতে সরবরাহের পরিমান দৈনিক ২ হাজার ৬৫৪ মিলিয়ন ঘনফুট। ঘাটতির পরিমান দৈনিক প্রায় ১ হাজার ১৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট।
সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সদস্য মো. সেলিম রেজার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সচল ১৩৭টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ২৯ হাজার ৫৯৩ মেগাওয়াট।
ভিওডি বাংলা/আরআই/এফএ







