পরিবেশ রক্ষায় নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য: ডিএসসিসি প্রশাসক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেছেন, টেকসই ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে হলে পরিবেশ রক্ষায় নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
তিনি বলেন, শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, বরং ব্যক্তিগত সচেতনতা ও সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমেই ‘গ্রিন ঢাকা’ ও ‘ক্লিন ঢাকা’ বাস্তবায়ন সম্ভব।
শনিবার (২০ জুন) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে গ্রিন ওয়াচ ঢাকা ও ঢাকা শিকড়-এর উদ্যোগে আয়োজিত “ঢাকার টেকসই উন্নয়নে সবুজায়ন আন্দোলন ও ছাদ বাগানের ভূমিকা” শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রশাসক বলেন, বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ বিপর্যয়ের প্রভাব এখন প্রকট। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন শহর আজ বায়ুদূষণের শীর্ষ তালিকায় অবস্থান করছে, যা উদ্বেগজনক। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সবুজায়ন ও প্রকৃতিনির্ভর জীবনযাত্রার বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, ঢাকাকে বসবাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তুলতে হলে নাগরিকদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। “ব্যর্থতা নয়, এখন প্রয়োজন ব্যক্তি পর্যায়ে আমাদের করণীয় নির্ধারণ করা,”—যোগ করেন তিনি।
ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দেশে ২৫ কোটি গাছ রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এই লক্ষ্য অর্জনে প্রতিটি নাগরিককে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আন্দোলনে যুক্ত হতে হবে। পাশাপাশি গাছ রোপণের পর তার সঠিক পরিচর্যার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ফ্লাইওভার ও আইল্যান্ড এলাকায় বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং নার্সারি ব্যবসায়ীদের জন্য বিনামূল্যে স্থান বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।
ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, যত্রতত্র আবর্জনা ফেলার প্রবণতা এখনো কমেনি। বিশেষ করে যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় ড্রেন ও রাস্তার পাশে বর্জ্য ফেলার ঘটনা নগর ব্যবস্থাপনাকে জটিল করে তুলছে।
তিনি বলেন, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতন হওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। “প্রথমে মানুষকে সচেতন হতে হবে, তারপর প্রশাসনিক ব্যবস্থা,”—উল্লেখ করেন তিনি।
ডিএসসিসি প্রশাসক আরও জানান, নগর পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে প্রতি মাসের প্রথম শনিবার ‘ক্লিনিং ডে’ পালন করা হবে। একই সঙ্গে পরিবেশ ও সবুজায়নে অবদান রাখা নাগরিকদের প্রতি বছর ১০ জনকে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে পুরস্কৃত করা হবে।
তিনি বলেন, ছাদ কৃষি ও নগর সবুজায়নে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সবশেষে তিনি সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগামী দুই বছরের মধ্যে ঢাকার চেহারা পরিবর্তন করা সম্ভব হবে।
ভিওডি বাংলা/বিন্দু







