পরিবেশ রক্ষায় গাছ লাগানোর বিকল্প নেই: ডিএসসিসি প্রশাসক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, বায়ুদূষণ ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির মতো বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় গাছ লাগানোর কোনো বিকল্প নেই। পরিবেশ রক্ষায় সরকারের পাশাপাশি জনগণকেও সমানভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
শুক্রবার (১৯ জুন) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত ‘পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর রমনা কালীমন্দির ও শ্রীমা আনন্দময়ী আশ্রমে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আবদুস সালাম বলেন, পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর উদ্যোগ অনেকের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হলেও দেশের পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্য এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় কর্মসূচি। তিনি বলেন, ঝড়-ঝঞ্ঝা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সুন্দরবন যেভাবে দেশের সুরক্ষায় প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করে, তেমনি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণ অপরিহার্য।
তিনি বলেন, ঢাকা ক্রমেই কংক্রিটের শহরে পরিণত হচ্ছে। নগরীতে যতটুকু খালি জায়গা রয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে সবুজায়ন বাড়াতে হবে। গাছ মানুষের জন্য অক্সিজেন সরবরাহের পাশাপাশি পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় ঢাকার অবস্থান এবং যানজটের জন্য নগরীটির পরিচিতি কোনোভাবেই দেশের জন্য গৌরবের বিষয় নয়। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে সরকার ও জনগণকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ইতোমধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন আইল্যান্ড ও সড়ক বিভাজকে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সরকারি কর্মসূচিকে সফল করতে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলে মো. আবদুস সালাম বলেন, তালগাছসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক বৃক্ষ নির্বিচারে নিধনের কারণে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। প্রকৃতির সঙ্গে সংঘাত করে কখনো জয়ী হওয়া যায় না উল্লেখ করে তিনি সবাইকে পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিক যদি নিজ নিজ বাড়ির আঙিনা, খালি জায়গা কিংবা ছাদে অন্তত একটি করে গাছ লাগান, তাহলে তা পরিবেশ রক্ষায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিভিন্ন নাগরিক সমস্যার বিষয়েও কথা বলেন ডিএসসিসি প্রশাসক। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট এলাকার অবকাঠামোগত সমস্যাগুলো পরিদর্শনের জন্য আগামী সোমবার প্রকৌশলী পাঠানো হবে এবং সম্ভাব্য সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে জনসচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বৃষ্টির পানি জমে থাকলে মশার প্রজনন বৃদ্ধি পায়। তাই বাসাবাড়ি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি।
তিনি বলেন, নিজেদের তৈরি মশার প্রজননস্থল বন্ধ না করে শুধু সিটি করপোরেশনের দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
এ সময় বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের সেবা ও সমস্যা সমাধানের মাধ্যমেই রাজনৈতিক কর্মীদের আস্থা অর্জন করতে হবে।
শেষে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে আবদুস সালাম পরিবেশ রক্ষা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
ভিওডি বাংলা/খতিব/আ







