• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

রাউজানে যুবদল নেতা হত্যা: পাঁচ শুটার শনাক্ত, গ্রেপ্তার হয়নি ৬ দিনেও

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি    ১৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৫ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের রাউজানে প্রকাশ্যে যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অন্তত পাঁচ অস্ত্রধারীকে শনাক্ত করা হয়েছে। যারা হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেয়। কিন্তু ঘটনার ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। ফলে এনিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

গত শনিবার দুপুরে রাউজানের পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে দিনদুপুরে গুলি করে হত্যা করা হয় রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদুল হক চৌধুরীকে। নিহত এই নেতা আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে জানিয়েছে পরিবার।

হত্যার ঘটনায় নিহতের বড় ভাই ও বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান পেয়ারুল হক চৌধুরী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় শীর্ষ সন্ত্রাসী মোহাম্মদ রায়হানসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও আটজনকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত করেছে চট্টগ্রামের আলোচিত রায়হান বাহিনীর সদস্যরা। 
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, অন্তত পাঁচ অস্ত্রধারী সরাসরি হত্যামিশনে অংশ নেয়। তাদের মধ্যে তিনজনের হাতে ছিল পিস্তল এবং দুজনের কাছে ছিল শটগান।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শনাক্ত হওয়া অস্ত্রধারীরা হলেন মোহাম্মদ ইলিয়াস ওরফে দামা ইলিয়াস, দিদারুল আলম ওরফে দিদার, মোহাম্মদ ইউসুফ, মোহাম্মদ জাহেদ ও মোহাম্মদ আবছার। 
ফুটেজে দেখা যায়, প্রথমে ইলিয়াস ও দিদার গুলি চালায়। পরে ইউসুফ, জাহেদ ও আবছার এগিয়ে গিয়ে মাটিতে পড়ে থাকা মাসুদুলকে লক্ষ্য করে আরও গুলি ছোড়ে।

ঘটনাটি ঘটে রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে মাত্র কয়েকশ গজ দূরে। অথচ প্রকাশ্য এই হত্যাকাণ্ডের পরও জড়িতরা নির্বিঘ্নে এলাকা ত্যাগ করতে সক্ষম হয়।

সিসিটিভি ফুটেজে আরও দেখা যায়, প্রাণ বাঁচাতে দৌড়াচ্ছিলেন মাসুদুল হক। একপর্যায়ে একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে পড়ে গেলে তাকে ঘিরে গুলি চালাতে থাকে সন্ত্রাসীরা। প্রথম দফায় গুলি করার পর তারা ফিরে যায়নি। প্রায় এক মিনিট পর ফিরে এসে মৃত্যু নিশ্চিত করতে আবারো গুলি চালায়। পরে সিএনজি অটোরিকশায় করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের অধিকাংশই এলাকায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত এবং তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তাদের অনেকের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র আইনের একাধিক মামলা রয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মামলার প্রধান আসামি রায়হান চট্টগ্রামের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ বাহিনীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তার বিরুদ্ধে খুন, হত্যাচেষ্টা ও চাঁদাবাজিসহ ২৪টি মামলা রয়েছে। শুধু গত দুই বছরেই তার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর মামলা দায়ের হয়েছে।

নিহতের পরিবারের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজে হত্যাকারীদের মুখ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। তাই তাদের গ্রেপ্তার করা হলে হত্যার প্রকৃত কারণ এবং নেপথ্যের পরিকল্পনাকারীদেরও চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।
তদন্তে উঠে এসেছে, কর্ণফুলী নদী তীরবর্তী বালুমহাল নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। 
স্থানীয় সূত্র বলছে, মাসুদুল হক কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বালুমহালের নিয়ন্ত্রণে ছিলেন, যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, হত্যায় জড়িত পাঁচজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, অভিযুক্তরা পাহাড়ি এলাকায় আত্মগোপন করে আছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।

তবে হত্যাকাণ্ডের ছয় দিন পরও কাউকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। 

ভিওডি বাংলা/আরকেএইচ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ভাঙ্গুড়ায় কিশোরীদের মাঝে সেলাই মেশিন ও মুরগির বাচ্চা বিতরণ
ভাঙ্গুড়ায় কিশোরীদের মাঝে সেলাই মেশিন ও মুরগির বাচ্চা বিতরণ
মাদারীপুরে টিসিবির গুদামে আগুন, ক্ষয়ক্ষতি ১০ লাখ টাকা
মাদারীপুরে টিসিবির গুদামে আগুন, ক্ষয়ক্ষতি ১০ লাখ টাকা
কুড়িগ্রামে বিজিবির অভিযানে গবাদিপশুসহ নানা চোরাচালানি পণ্য জব্দ
কুড়িগ্রামে বিজিবির অভিযানে গবাদিপশুসহ নানা চোরাচালানি পণ্য জব্দ