সামাজিক অবক্ষয় রোধে সাহিত্যিকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য: খায়রুল কবির

বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন বলেছেন, মানবিক সমাজ বিনির্মাণে, সামাজিক অনাচার, নৈতিকতার অবক্ষয় ও বৈষম্য দূর করার ক্ষেত্রে কবি-সাহিত্যিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমাজ থেকে নৈতিকতার অবক্ষয়, মাদক,সন্ত্রাস,নারী ও শিশু নির্যাতন দূর করতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন ও সংঘবদ্ধ করে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কবি-সাহিত্যিকরাই অগ্রণী ভূমিকা রাখে।
বুধবার (১৭ জুন) বিকালে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের স্টার কাবাব এন্ড রেস্টুরেন্ট শাখায় জাতীয় কবিতা কেন্দ্রের (জাকক) ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় সেমিনারেসমাজ পরিবর্তনের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম কবিতা' এবং 'সৃষ্টিসুখের উল্লাসে'—এই স্লোগানকে ধারণ করে৷ ‘মানবিক সমাজ বিনির্মাণে কবি এবং কবিতার ভূমিকা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় কবিতা কেন্দ্রের সভাপতি ও দৈনিক যুগান্তরের নগর সম্পাদক মিজান মালিক।
সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন,যারা কবিতাকে ভালোবাসে তারা পরম মমতাময়ী মানুষ। যারা কবিতার আশ্রয়ে থাকতে চায় তারা অনেক কিছুকে ত্যাগ করেন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রাইম ব্যাংক পিএলসর এভিপি এবং জাতীয় কবিতা কেন্দ্রের সম্পাদক লায়ন অ্যাড. আলতামাসুল ইসলাম আকন্দ ইকবাল।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আগামী প্রকাশনীর স্বাধিকারী,ওসমান গনি বলেন, সামাজিক পরিবর্তন আনতে এবং প্রগতিশীল সমাজ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কবি ও কবিতার ভুমিকা অনস্বীকার্য। সমাজের কাঙ্খিত পরিবর্তন আনতে কবিদের সব সময় এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কর্ণেল আনোয়ার বলেন,কবিরা কল্পনাকে রূপকের সাহায্যে এমনভাবে ব্যবহার করেন, যা দিয়ে এমন সব সত্যকে খুঁজে বের করা যায়। যা সাধারণ ও আক্ষরিক ভাষা দিয়ে প্রকাশ করা অসম্ভব। সবচেয়ে বড় সত্যি এই, যে দেশে কবির কদর থাকে না, সে দেশ উন্নতি লাভ করতে পারে না।
সেমিনারে আলোচকরা বলেন, কবিতা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি সমাজ পরিবর্তনের এক শক্তিশালী হাতিয়ার। বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটি সুন্দর ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণে কবিদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে এবং কবিতার মাধ্যমে মানুষের সুপ্ত মানবিক গুণাবলী জাগ্রত করতে হবে।
অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সিনেট সদস্য অধ্যাপক আকবর সিরাজী এবং ছায়ানীড় প্রকাশনী-এর নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক লুৎফুর রহমান দুলাল।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে দেশবরেণ্য পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ, সংস্কৃতিমনা ব্যক্তিত্ব এবং কবিরা উপস্থিত থেকে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন। কবিতা আবৃত্তি ও আলোচনার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই আয়োজনটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।
সেমিনারে জুমে অংশ নেন সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন। তিনি বলেন, বাংলার ছাত্র হিসেবে আমিও চাই কবিতা হয়ে উঠুক সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার।
ভিওডি বাংলা/বিন্দু







