নিজে গাড়ি চালিয়ে চকরিয়ার পথে প্রধানমন্ত্রী

কক্সবাজারে দিনব্যাপী সফরে বিভিন্ন উন্নয়ন ও পরিবেশগত কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সফরের এক পর্যায়ে তিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে চকরিয়ার উদ্দেশে রওনা হন বলে জানা গেছে। তার সঙ্গে গাড়িতে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শনিবার (১৩ জুন) সকালে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রী সরাসরি সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের পাতলী খাল এলাকায় যান। সেখানে স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে খাল পুনঃখনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে পাতলী খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সরকারপ্রধান। স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, প্রকৌশলী ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত সমস্যায় থাকা এলাকাটিতে উন্নয়ন কার্যক্রম নতুন গতি পায়।
অনুষ্ঠান শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের চলমান উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নারীদের শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে নানা ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে এবং অসচ্ছল পরিবারগুলোর জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি আরও সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করতে সরকার বাজেটে বিভিন্ন ভ্যাট ছাড় ও সহায়তা কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।
এই সফরে সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী অংশ নেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, পরিবেশ ও বনমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
এছাড়াও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সফরের বিভিন্ন অংশে উপস্থিত ছিলেন।
পাতলী খাল এলাকায় কর্মসূচি শেষ করার পর প্রধানমন্ত্রী নিজেই গাড়ি চালিয়ে কক্সবাজারের চকরিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করেন। এই অংশে তার সফর ছিল কিছুটা ব্যতিক্রমী ও দৃষ্টি আকর্ষণকারী, যা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
সফরের অংশ হিসেবে দিনব্যাপী একাধিক পরিবেশ ও উন্নয়ন প্রকল্পে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, যা দেশের পরিবেশ উন্নয়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বৃহৎ আকারে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছ রোপণের উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হবে।
এছাড়া ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং স্থানীয় পর্যায়ের উন্নয়ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণও রয়েছে সফরসূচিতে।
শহীদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও জনসভা
সফরের আরেক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে পেকুয়া উপজেলায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শহীদ এক শিক্ষার্থীর কবর জিয়ারত এবং তার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে সরকারপ্রধানের। এটি মানবিক দিক থেকে সফরের একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিকেলে কক্সবাজার জেলা পর্যায়ের এক জনসভায় অংশ নেবেন তিনি। সেখানে উন্নয়ন অগ্রগতি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সমস্যা নিয়ে বক্তব্য রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।
ভিওডি বাংলা/জা







