তিন বছর পর পরিবারের খোঁজ পেলেন বাকপ্রতিবন্ধী যুবক

গাজীপুরে দীর্ঘ তিন বছর ধরে নিখোঁজ থাকা এক বাকপ্রতিবন্ধী যুবককে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
বুধবার (১০ জুন) আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় ব্যবসায়ী শরিফুল আলম এক বাকপ্রতিবন্ধী যুবকের বিষয়ে পিবিআই কার্যালয়ে তথ্য দেন।
তিনি জানান, প্রায় এক বছর আগে তার চায়ের দোকানের সামনে অসহায় ও কান্নারত অবস্থায় ওই যুবককে দেখতে পান। কথা বলতে না পারায় যুবকটি নিজের পরিচয় কিংবা পরিবারের ঠিকানা জানাতে পারেনি।মানবিক বিবেচনায় শরিফুল আলম তাকে আশ্রয় দেন এবং নিজের পরিবারের সদস্যের মতো দেখাশোনা করতে থাকেন।

একই সঙ্গে বিভিন্ন মাধ্যমে তার পরিচয় খুঁজে বের করার চেষ্টা চালান। তবে দীর্ঘ সময়েও কোনো তথ্য না পাওয়ায় এবং ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা এড়াতে তিনি স্থানীয় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।বিষয়টি জানার পর পিবিআই গাজীপুরের পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় একটি বিশেষ তদন্ত দল কাজ শুরু করে।
পুলিশ পরিদর্শক মো. শাহ কামালের নেতৃত্বে গঠিত দলটি আধুনিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে যুবকটির পরিচয় অনুসন্ধান করে।তদন্তের এক পর্যায়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভান্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। জানা যায়, যুবকটির নাম শফিকুল ইসলাম।
তার বাবার নাম আব্দুল আজিজ এবং মায়ের নাম হালেমা খাতুন। তিনি ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার কিসমত আমোদাবাদ গ্রামের বাসিন্দা।পরবর্তীতে পিবিআই স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন অনলাইন যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে শফিকুলের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় তিন বছর আগে শফিকুল নিখোঁজ হন।
তাকে খুঁজে পেতে তারা বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান চালানোর পাশাপাশি থানায় সাধারণ ডায়েরিও করেছিলেন। কিন্তু এতদিন তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা গাজীপুরে এসে প্রয়োজনীয় নথিপত্র উপস্থাপন করেন। যাচাই-বাছাই শেষে শফিকুল ইসলামকে তাদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় পর প্রিয়জনকে ফিরে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
এ সময় তারা একদিকে যেমন আশ্রয়দাতা শরিফুল আলমের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেন, অন্যদিকে পিবিআইয়ের পেশাদারিত্ব ও প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রমের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পিবিআই গাজীপুরের পুলিশ সুপার বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এবং সাধারণ মানুষের সহযোগিতা থাকলে এ ধরনের জটিল পরিচয় শনাক্তকরণ কার্যক্রম আরও সফলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব।
ভিওডি বাংলা/জা







