• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

গুজব ও মানহানিকর কনটেন্টে কড়াকড়ি, বদলাচ্ছে সাইবার আইন

নিজস্ব প্রতিবেদক    ৮ জুন ২০২৬, ১০:০১ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, অপতথ্য ও মানহানিকর কনটেন্টের বিস্তার ঠেকাতে বড় ধরনের আইনি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন সংশোধনের মাধ্যমে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটাসহ আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণে বাধ্য করার বিধান যুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সোমবার (৮ জুন) জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ অনুযায়ী জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশের ওপর আলোচনায় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খানের বক্তব্যের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

আলোচনায় হেলেন জেরিন খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া আইডি, সংগঠিত বট নেটওয়ার্ক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট, নারী ও শিশুদের অনলাইন হয়রানি এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের বিষয়টি তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুকে ভুয়া পরিচয়ে অসংখ্য অ্যাকাউন্ট ও পেজ পরিচালিত হচ্ছে। সংগঠিত বট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এআই ব্যবহার করে ভুয়া ছবি, ভিডিও ও অডিও তৈরি করে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল এবং রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে সরকারের প্রধান, তার স্ত্রী ও কন্যাসহ রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের পরিবারকে লক্ষ্য করে নানা ধরনের কনটেন্ট ছড়ানো হচ্ছে। তিনি বলেন, “স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে যেসব কনটেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে, সেগুলো আসলেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কি না, সেটা পুনরায় সংজ্ঞায়িত করা দরকার।”

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, সাইবার স্পেসের ধারণা ও পরিধি নতুন করে নির্ধারণের কাজ চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভার্চুয়াল মিডিয়াসহ সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলোকে আরও কার্যকরভাবে আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, “আজকে (সোমবার) সকালেই এ বিষয়ে আমি একটা আইনি সংস্কার করার জন্য ড্রাফটে হাত দিয়েছি। আমি জানতাম না আজকে এই প্রশ্নটা এখানে আসবে।”

মন্ত্রী আরও জানান, গুজব, অপতথ্য এবং এআই-নির্ভর বিভ্রান্তিকর, অপমানজনক ও মানহানিকর কনটেন্টের বিস্তার রোধে সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের খসড়া প্রস্তুত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ নামে আমরা অবহিত করবো। এর কতিপয় বিধান সংশোধন করবো। গুজব, অপতথ্য ও মানহানিকর কনটেন্ট নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করা হবে। এ ধরনের কনটেন্ট প্রকাশ ও প্রচার প্রতিরোধে নতুন শাস্তির বিধানও আইনে যুক্ত করা হবে।”

পরবর্তীতে সম্পূরক প্রশ্নে হেলেন জেরিন খান জানতে চান, মেটাসহ আন্তর্জাতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে সরকার কোনো পদক্ষেপ নেবে কি না।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের আইনে এমন কোনো বাধ্যতামূলক বিধান নেই, যার মাধ্যমে মেটাকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কনটেন্ট অপসারণে বাধ্য করা যায়।

তিনি বলেন, “আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশে তারা আইনি সুরক্ষার মাধ্যমে এমন বিধান করেছে, মেটাকে ২৪ ঘণ্টায় অ্যাকশন নিতে বাধ্য করেছে। কিন্তু আমাদের বিটিআরসি এবং সংশ্লিষ্ট সাইবার আইনে সেই বিধানটা নেই।”

মন্ত্রী আরও বলেন, “বিটিআরসি বা অন্য কর্তৃপক্ষ মেটাকে অনুরোধ পাঠালেও তারা অনেক সময় দ্রুত ব্যবস্থা নেয় না। তারা বলে, তোমাদের তো আইনটা ঠিকমত নেই। সুতরাং আইনি কভার না থাকলে সেটা প্রেসার দেওয়া যায় না।”

নতুন সংশোধনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে সমন্বয়, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কনটেন্ট অপসারণ এবং রিপোর্টকৃত কনটেন্ট ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিধান রাখা হবে বলেও জানান তিনি।

একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সাইবার সুরক্ষা সংস্থা, বিটিআরসি এবং ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্যান্য সংস্থাকে ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণ, ব্লক কিংবা স্থানান্তরের ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এ সময় তিনি অনলাইন ও অফলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন প্রণয়নের অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমানে ১৮৬৭ সালের পুরোনো আইন দিয়ে জুয়া নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। আধুনিক বাস্তবতায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মভিত্তিক অপরাধ মোকাবিলায় নতুন ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন’ প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং চলতি সংসদ অধিবেশনেই তা উত্থাপন করা হতে পারে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের বিষয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় অস্ত্র, প্রশিক্ষণ, পরীক্ষাগার সুবিধা ও ডগ স্কোয়াডের ঘাটতি রয়েছে। অন্যদিকে মাদক কারবারিরা অনেক ক্ষেত্রে আধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করছে। এ পরিস্থিতিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে আরও কার্যকর ও স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রস্তাব আনা হবে।

ভিওডি বাংলা/এমএস 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
২২ লাখ শিক্ষার্থীর নজিরবিহীন অংশগ্রহণ, বদলে দিচ্ছে প্রাথমিক ক্রীড়া সংস্কৃতি
মাহদী আমিন ২২ লাখ শিক্ষার্থীর নজিরবিহীন অংশগ্রহণ, বদলে দিচ্ছে প্রাথমিক ক্রীড়া সংস্কৃতি
ভূমি অফিসে যা দেখে শোকজ দিলেন প্রতিমন্ত্রী
ভূমি অফিসে যা দেখে শোকজ দিলেন প্রতিমন্ত্রী
ভারত-চীন জল্পনা পেরিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম গন্তব্য মালয়েশিয়া
ভারত-চীন জল্পনা পেরিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম গন্তব্য মালয়েশিয়া