• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
logo

আমরা কোনো দেশের দাস হয়ে থাকব না: ইশরাক হোসেন

  নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ:  ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫৫ পি.এম.
শেয়ার করুন 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

আমরা কোনো দিনই অন্য কোনো দেশের দাস হয়ে থাকব না বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।

তিনি বলেন, আমরা আত্মমর্যাদা নিয়ে, বাংলাদেশি পরিচয় নিয়ে আগামী দিনে আমাদের রাষ্ট্রকে গড়ে তুলব এবং সামরিক, অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সব দিক থেকেই বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করব। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশকে একটি উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো গড়ে তুলতে চাই।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর উত্তরায় অতীশ দীপংকর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আয়োজিত ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান ‘জুলাই-২০২৪’-এ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গৌরবোজ্জ্বল অবদান এবং সকল শহীদ ও আহত শিক্ষার্থীদের স্মরণে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক এবং আন্দোলনকে সফল করার ক্ষেত্রে সেটি একটি টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে কাজ করেছে। 

তিনি বলেন, জুলাইয়ের পুরো উত্তাল সময় আমি কারাগারে বন্দি ছিলাম। বাইরে থেকে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে আমি জানতে পারি, ১৬ ও ১৭ জুলাই আন্দোলন দমনে তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস দখলে নেয়। ঠিক সেই সময়, ১৮ জুলাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সমন্বয়কদের একটি অংশ সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, বরং মানুষের ওপর অত্যাচার-নির্যাতনের প্রতিবাদে নিজ উদ্যোগে রাজপথে নেমে আসেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ১৮ জুলাই রামপুরা এলাকায় প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়জন শিক্ষার্থীর শহীদ হওয়ার ঘটনা আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এরপর ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ, দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে যুক্ত হন এবং দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটাতে সক্ষম হন।

কারাবন্দি জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ইশরাক হোসেন বলেন, ২০ জুলাইয়ের পর বহু শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে নেওয়া হয়। তাদের অমানবিক পরিবেশে রাখা হয়েছিল। একটি ছোট কক্ষে পাঁচ-ছয়জনকে গাদাগাদি করে রাখা হয়, কয়েক দিন পর্যন্ত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ কিংবা প্রয়োজনীয় কাপড়-চোপড় নেওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়নি। এত প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা মনোবল হারাননি।

তিনি বলেন, উত্তরা, রামপুরা, বাড্ডাসহ বিভিন্ন এলাকায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্র-জনতার ভূমিকা জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। যতবার জুলাই আসবে, ততবারই তাদের আত্মত্যাগ ও অবদান স্মরণ করা হবে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সেই চেতনায় যেকোনো আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সব সময় রুখে দাঁড়াবে। আয়তনে ছোট হলেও জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম দেশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ কখনো অন্য কোনো দেশের দাস হয়ে থাকবে না।

ইশরাক হোসেন বলেন, তরুণদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন উল্লেখ করে তিনি জানান, তাঁর নিজের রাজনৈতিক উত্থানের পেছনেও তারেক রহমানের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে তারেক রহমানের নির্দেশনা ও নেতৃত্বে বেসরকারি  বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল, কেন্দ্রীয় ছাত্রদল, বিএনপি এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা আন্দোলনে অংশ নেন এবং আন্দোলনকে চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে ভূমিকা রাখেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, ভবিষ্যতেও তারেক রহমানের নেতৃত্বে তরুণদের সঙ্গে নিয়ে দেশের জন্য কাজ করে যাওয়া হবে। 

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি মোঃ আবু হোরায়রার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ রাজিবুল ইসলাম তালুকদার বিন্দুর সঞ্চালনায় স্মরণ সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন,বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ জুলাই যোদ্ধা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

ভিওডি বাংলা/বিন্দু


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে চলছে মন্ত্রিপরিষদের সভা
ফাইল ছবি
আরও ১৭ জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাল সরকার
ফাইল ছবি
সত্যিই পদত্যাগ করছেন সাহাবুদ্দিন