চাকরির প্রলোভনে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৩

বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির স্বপ্ন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে বিপুল অর্থ আত্মসাৎকারী একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচার ও প্রতারণা চক্রের মূল হোতাসহ তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৪। গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হয় রাজধানীর মিরপুর ও আশুলিয়া এলাকায়।
র্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে ইতালি, জার্মানি ও কানাডাসহ ইউরোপের বিভিন্ন উন্নত দেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অসংখ্য মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল।
র্যাব-৪ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, “বাংলাদেশ আমার অহংকার” স্লোগানকে ধারণ করে র্যাব প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে নিয়মিতভাবে অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এর ধারাবাহিকতায় মানবপাচার ও প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ইমরান হোসেন (গাজীপুরের বাসিন্দা) প্রথমে ডিএমপির শাহ আলী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কোয়ালিটি কন্ট্রোল বিভাগে চাকরি করতেন। তারই প্রতিবেশী নার্গিস বেগম ও মো. বাদল তাকে ইউরোপে চাকরির প্রলোভন দেখান।
পরবর্তীতে তারা তাকে মো. এজাজুল হক ওরফে রতনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়, যিনি বিদেশে পাঠানোর মূল “এজেন্ট” হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
চক্রটি বাদীকে প্রথমে ইতালি পাঠানোর কথা বলে ২২ লাখ টাকার চুক্তি করে। বিশ্বাস অর্জনের জন্য তারা ধাপে ধাপে টাকা নেয়। প্রথমে ৭০ হাজার টাকা, পরে বিভিন্ন সময়ে আরও প্রায় ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা গ্রহণ করা হয়।
ভুক্তভোগীর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে তারা নানা অজুহাতে বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখে। এক পর্যায়ে জানানো হয় যে, “ইতালি সরকার আপাতত লোক নেওয়া বন্ধ করেছে”।
এরপর একই ব্যক্তিকে জার্মানিতে পাঠানোর নতুন প্রলোভন দেখানো হয়। সেই সুযোগে আরও ৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি।
পরবর্তীতে আবার বলা হয়, কাগজপত্রে সমস্যা থাকায় জার্মানি সম্ভব নয়। তখন কানাডায় পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট, মেডিকেল, ভিসা প্রসেসিং ও বিমান টিকিটের খরচ বাবদ আরও প্রায় ১১ লাখ টাকা নেওয়া হয়।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো বিদেশ যাত্রাই বাস্তবায়ন হয়নি। বরং অভিযুক্তরা অফিস বন্ধ করে গা-ঢাকা দেয়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে র্যাব-৪ ছায়া তদন্ত শুরু করে। গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় চক্রটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
এরপর বিশেষ অভিযান চালিয়ে ঢাকার মিরপুর ও আশুলিয়া এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলো—
মো. এজাজুল হক (ওরফে রতন), বয়স ৬৩, মোছা. নার্গিস বেগম, বয়স ৪০ ও মো. বাদল, বয়স ৫৫। অভিযানে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন নথিপত্র ও আলামতও জব্দ করা হয়।
র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, এই চক্রটি শুধুমাত্র একজন নয়, বরং একাধিক ভুক্তভোগীর সঙ্গে একই কৌশলে প্রতারণা করেছে। তারা প্রতিবেশী সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে প্রথমে আস্থা অর্জন করত, এরপর বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির স্বপ্ন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিত।
এক পর্যায়ে অফিস বন্ধ করে তারা স্থান পরিবর্তন করে নতুন এলাকায় আত্মগোপনে চলে যেত।
র্যাব-৪ জানায়, মানবপাচার ও প্রতারণা একটি গুরুতর অপরাধ। এ ধরনের চক্রের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ভিওডি বাংলা/জা







