নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত হলো আধুনিক ফ্লোটিং ক্রেন

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর লজিস্টিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে যুক্ত হলো দেশীয়ভাবে নির্মিত অত্যাধুনিক একটি ফ্লোটিং ক্রেন। নৌবাহিনী পরিচালিত ডকইয়ার্ড এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড (ডিইডব্লিউ) কর্তৃক নির্মিত ৭০ টন উত্তোলন ক্ষমতাসম্পন্ন এই ক্রেনটি আনুষ্ঠানিকভাবে বৃহস্পতিবার নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
নৌবাহিনী সদর দপ্তরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান। অনুষ্ঠানে নৌবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, ডিইডব্লিউ লিমিটেডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন।

নৌবাহিনীর চলমান আধুনিকায়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে স্থানীয় প্রযুক্তি ও প্রকৌশল সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে এই ফ্লোটিং ক্রেন নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পটির নির্মাণ কার্যক্রম শুরু হয় ২০২৪ সালের ৩০ জুন, কিল-লেয়িং অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। দীর্ঘ প্রকৌশল প্রক্রিয়া শেষে এটি এখন সম্পূর্ণভাবে নৌবহরে যুক্ত হলো।
‘বিএনএফসি বলীয়ান’ নামের এই ফ্লোটিং ক্রেনটির দৈর্ঘ্য ৪৫ মিটার, প্রস্থ ১৫ মিটার এবং গভীরতা ৩ মিটার। এটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১০.৫ নটিক্যাল মাইল গতিতে চলাচল করতে সক্ষম, যা সমুদ্র ও জেটি উভয় এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, এই ফ্লোটিং প্ল্যাটফর্মটি মূলত জাহাজ মেরামত, ভারী যন্ত্রপাতি স্থানান্তর এবং বিভিন্ন নৌ-উপকরণ উত্তোলনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো আরও দ্রুত ও নিরাপদভাবে সম্পাদনে সহায়তা করবে। বিশেষ করে জাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে।
নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ডিইডব্লিউ জানায়, আধুনিক নকশা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে এই ক্রেনটি তৈরি করা হয়েছে। দেশীয় প্রকৌশলীদের দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞানের সমন্বয়ে নির্মিত হওয়ায় এটি বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্পের সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নৌবাহিনী প্রধান অনুষ্ঠানে বলেন, আধুনিক নৌবাহিনী গঠনে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশীয়ভাবে এমন ভারী ও জটিল প্রকৌশল কাঠামো নির্মাণ নৌবাহিনীর আত্মনির্ভরতার পথে একটি বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নৌবাহিনীর বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ফ্লোটিং ক্রেন যুক্ত হওয়ায় নৌবাহিনীর অপারেশনাল প্রস্তুতি আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে। পাশাপাশি এটি ভবিষ্যতে আরও বড় আকারের সামুদ্রিক প্রকৌশল প্রকল্প বাস্তবায়নের পথও সুগম করবে।
ভিওডি বাংলা/জা







