মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ প্রকল্পে ডাকাতির চেষ্টা ব্যর্থ

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীতে অবস্থিত দেশের অন্যতম বৃহৎ বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিপিজিসিবিএল)-এর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে সংঘটিত একটি ডাকাতির চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে অঙ্গীভূত আনসার সদস্যরা। তাদের দ্রুত ও সমন্বিত অভিযানে লুণ্ঠনের চেষ্টা ভেস্তে যায় এবং বিপুল পরিমাণ লোহাজাতীয় স্ক্র্যাপ উদ্ধার করা হয়।
বুধবার (৩ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে এই ঘটনা ঘটে। ওই সময় প্রকল্প এলাকার ‘টাউনশিপ’ অংশে ৬ থেকে ৭ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দেশীয় অস্ত্রসহ অনুপ্রবেশ করে। রাতের অন্ধকার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কিছু সুযোগ কাজে লাগিয়ে তারা মূল্যবান লোহাজাতীয় স্ক্র্যাপ মালামাল সংগ্রহ শুরু করে এবং তা দেয়াল টপকে বাইরে নেওয়ার চেষ্টা চালায়।
প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে দায়িত্ব পালনরত নিরাপত্তা কর্মীরা সিসিটিভি মনিটরিংয়ের সময় সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করেন। তারা দেখতে পান, কয়েকজন ব্যক্তি একত্রে মালামাল বহন করে নিরাপত্তা প্রাচীরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কন্ট্রোল রুম থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অঙ্গীভূত আনসার স্ট্রাইকিং ফোর্সকে সতর্ক করা হয়।
সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে রওনা দেন টহল ডিউটিতে থাকা এপিসি মো. শামীম উদ্দীন, আনসার সদস্য মো. জহিরুল ইসলাম এবং মো. মাঈন উদ্দীন। তারা কোনো ধরনের ঝুঁকি না নিয়ে দ্রুত গতিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুষ্কৃতকারীদের ধাওয়া করেন। তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দলের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং লুট করা মালামাল ফেলে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
পালিয়ে যাওয়ার সময় ডাকাতরা সংঘবদ্ধভাবে ছত্রভঙ্গ হয়ে অন্ধকারের মধ্যে সরে যায় বলে জানা যায়। পরে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে আনুমানিক ৭০০ থেকে ৮০০ কেজি লোহাজাতীয় স্ক্র্যাপ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত এসব মালামাল পরবর্তীতে নিয়মিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সিপিজিসিবিএল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ঘটনার পর প্রকল্প কর্তৃপক্ষ আনসার সদস্যদের সাহসিকতা, পেশাদারিত্ব এবং দায়িত্বশীল ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা বলেন, এ ধরনের দ্রুত পদক্ষেপের কারণেই বড় ধরনের ক্ষতি থেকে প্রকল্পটি রক্ষা পেয়েছে। একই সঙ্গে তারা সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও কৌশলগত স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তায় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। মাতারবাড়ীর এ ঘটনাকে বাহিনীর দক্ষতা, সতর্কতা ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভিওডি বাংলা/জা







