আরেক হতভাগা নারীর লাশ ঘরে পড়ে ছিল ৮দিন, স্বামী-সন্তান কানাডা

এক মায়ের পচন ধরা মরদেহ উদ্ধারের পর যুগ্মসচিব ছেলের চাকরি হারানোর ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে একই ঘটনা ঘটেছে রাজধানীর মিরপুর-৬ এলাকায়। এখানকার একটি ফ্ল্যাট থেকে সেলিনা আফরোজ (৫৫) নামে এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি একাই ফ্ল্যাটে থাকতেন, যার স্বামী সন্তান কানাডায়। সবশেষ ২৬ মেেমোবাইল ফোনে কথা বলার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত ৮ দিন ধরে মরদেহটি পড়ে ছিল।
বুধবার (৩ জুন) রাতে ওই এলাকার একটি আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, সেলিনা আফরোজ দীর্ঘদিন ধরে ওই ফ্ল্যাটে একাই বসবাস করছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
পল্লবী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হানিফ বলেন, মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সেলিনা আফরোজের স্বামী ও দুই সন্তান বর্তমানে কানাডায় বসবাস করছেন। প্রায় ১২ বছর আগে তিনি দেশে ফিরে এসে মিরপুরের ওই ফ্ল্যাটে একাই বসবাস শুরু করেন।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, গত ২৬ মে থেকে ৩ জুনের মধ্যে কোনো এক সময়ে তার মৃত্যু হয়েছে। কারণ, সর্বশেষ ২৬ মে রাতে তার এক ভাতিজা মোবাইল ফোনে তার সঙ্গে কথা বলেন। এরপর থেকে পরিবারের সদস্য বা স্বজনদের সঙ্গে তার আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।
গত ৩১ মে পল্লবীর একটি বাসা থেকে নুরুজাহান বেগম নামে এক বৃদ্ধার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এ নিয়ে একা বসবাসরত মানুষের নিরাপত্তা ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
নুরুজাহান বেগমের তিন ছেলের মধ্যে একজন যুগ্ম সচিব, একজন শিক্ষক ও অন্যজন কানাডাপ্রবাসী। তার মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে, আর্থিকভাবে সচ্ছল সন্তান থাকা সত্ত্বেও কেন তিনি দীর্ঘ সময় একা ও অযত্নে ছিলেন।
ভিওডি বাংলা/ আরআর/জা







