• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

অগ্ন্যাশয় ক্যানসারে নতুন আশার আলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ২ জুন ২০২৬, ১২:১২ পি.এম.
অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের নতুন ওষুধ ডারাক্সোনরাসিবকে চিকিৎসায় সম্ভাবনাময় অগ্রগতি হিসেবে দেখানো হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের মতো জটিল ও প্রাণঘাতী রোগের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে একটি পরীক্ষামূলক ওষুধ-ডারাক্সোনরাসিব। সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, এই ওষুধ ব্যবহারে উন্নত পর্যায়ের অগ্ন্যাশয় ক্যানসার রোগীদের বেঁচে থাকার গড় সময় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানে বড় ধরনের অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে অনুষ্ঠিত ক্যানসারবিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে গবেষণার বিস্তারিত ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। সেখানে গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা জানান, প্রচলিত কেমোথেরাপির তুলনায় নতুন এই ওষুধ রোগীদের জীবনকাল প্রায় দ্বিগুণ পর্যন্ত বাড়াতে সক্ষম হয়েছে।

অগ্ন্যাশয় ক্যানসার চিকিৎসকদের জন্য বরাবরই একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ। সাধারণত এই রোগের লক্ষণ দেরিতে প্রকাশ পায়, ফলে রোগ নির্ণয়ের সময়ই অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি শরীরের অন্যান্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে। এতে কার্যকর চিকিৎসার সুযোগ সীমিত হয়ে যায় এবং রোগীদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনাও কমে আসে।

এই বাস্তবতার মধ্যেই ডারাক্সোনরাসিবকে ঘিরে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। গবেষকদের মতে, এটি শুধু রোগের অগ্রগতি ধীরই করে না, বরং রোগীদের জীবনমান উন্নত করতেও সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রায় ৫০০ রোগীর ওপর পরিচালিত একটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ডারাক্সোনরাসিবের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়। এতে দেখা যায়, যেসব রোগীর ক্যানসার ইতোমধ্যে শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়েছিল, তাদের ক্ষেত্রে এই ওষুধ উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক ফল দিয়েছে।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ওষুধ গ্রহণকারী রোগীরা গড়ে ১৩ মাসের বেশি সময় বেঁচে ছিলেন। অন্যদিকে, প্রচলিত কেমোথেরাপি গ্রহণকারী রোগীদের গড় বেঁচে থাকার সময় ছিল প্রায় ৬ মাসের কাছাকাছি। এই পার্থক্য চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ডারাক্সোনরাসিবের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর তুলনামূলক কম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। কেমোথেরাপির ক্ষেত্রে অনেক রোগী চুল পড়া, দুর্বলতা, বমিভাবসহ নানা জটিল সমস্যায় ভোগেন। কিন্তু নতুন এই ওষুধের ক্ষেত্রে এসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় রোগীরা চিকিৎসার সময়ও অপেক্ষাকৃত স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

ডারাক্সোনরাসিব মূলত KRAS নামের একটি গুরুত্বপূর্ণ জিন ও প্রোটিনকে লক্ষ্য করে কাজ করে। অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের একটি বড় অংশের রোগীর শরীরে এই জিনে মিউটেশন দেখা যায়, যা ক্যানসার কোষের দ্রুত বৃদ্ধি ও বিস্তারে ভূমিকা রাখে।

নতুন এই ওষুধটি ওই জিনের কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করে ক্যানসারের অগ্রগতি ধীর করতে সহায়তা করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, KRAS মিউটেশনকে লক্ষ্য করে চিকিৎসা করা দীর্ঘদিন ধরেই ক্যানসার গবেষণার একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।

গবেষকদের দাবি, ডারাক্সোনরাসিব শুধু নির্দিষ্ট ধরনের KRAS মিউটেশনেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং বিভিন্ন ধরনের মিউটেশনের ক্ষেত্রেও এটি কার্যকর হতে পারে। এই বৈশিষ্ট্য এটিকে আরও সম্ভাবনাময় করে তুলেছে এবং ভবিষ্যতে অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের চিকিৎসায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শুধু তাই নয়, গবেষকরা মনে করছেন এই আবিষ্কার ক্যানসার চিকিৎসার নতুন একটি দিক উন্মোচন করতে পারে, যেখানে নির্দিষ্ট জিনকে লক্ষ্য করে ওষুধ তৈরি করা হবে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসার অ্যাকশনের প্রধান নির্বাহী পলা হ্যানফোর্ড এই গবেষণাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, দীর্ঘদিন ধরে সীমিত চিকিৎসা ব্যবস্থার মধ্যে থাকা রোগীদের জন্য এটি একটি বড় ধরনের স্বস্তির খবর।

অন্যদিকে, প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসার ইউকের গবেষণা ও উদ্ভাবন বিভাগের পরিচালক অ্যানা জুয়েল বলেন, এই ওষুধ রোগীদের জীবনে মূল্যবান অতিরিক্ত সময় যোগ করতে পারে, যা তাদের পরিবারের সঙ্গে আরও সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি করবে।

তবে তিনি একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেন, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে এই ধরনের উন্নত চিকিৎসা সাধারণ রোগীদের জন্য সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করা।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, KRAS জিন শুধু অগ্ন্যাশয় ক্যানসারেই নয়, ফুসফুস ও কোলন ক্যানসারসহ আরও অনেক ক্যানসারের বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখে। তাই এই ক্ষেত্রে সফলতা ভবিষ্যতে অন্যান্য ক্যানসারের চিকিৎসাতেও নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।

বর্তমানে ফুসফুস ও কোলন ক্যানসারের জন্য একই ধরনের ওষুধ নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে। গবেষকদের আশা, এসব গবেষণা সফল হলে ক্যানসার চিকিৎসায় একটি নতুন যুগের সূচনা হবে।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ হামলা বন্ধে রাজি হয়েছে, দাবি ট্রাম্পের
ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ হামলা বন্ধে রাজি হয়েছে, দাবি ট্রাম্পের
লেবাননে ইসরায়েলি অভিযান বন্ধ না হলে শান্তি চুক্তি নয়: ইরান
লেবাননে ইসরায়েলি অভিযান বন্ধ না হলে শান্তি চুক্তি নয়: ইরান
জাতীয় নিরাপত্তায় প্রয়োজন হলে সব পদক্ষেপ নেবে তেহরান
জাতীয় নিরাপত্তায় প্রয়োজন হলে সব পদক্ষেপ নেবে তেহরান