অনুদানের অর্থে ৭৯ পশু কুরবানি, প্রশ্নের মুখে জামায়াত এমপি বুলবুল

তুরস্কভিত্তিক একটি দাতব্য সংস্থার অনুদানে ৭৯ পশু কুরবানি দিয়ে ব্যাপক বিতর্কের মুখে পড়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা নুরুল ইসলাম বুলবুল।
প্রায় কোটি টাকা মূল্যের এসব পশু কুরবানি ও মাংস বিতরণকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
তবে বিদেশি অনুদানের অর্থ কী প্রক্রিয়ায় দেশে এসেছে এবং কাদের মধ্যে মাংস বিতরণ করা হয়েছে— তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা। তাদের অভিযোগ, কুরবানির মাংস মূলত জামায়াতের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যেই বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশি অনুদান গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকারি বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
জামায়াতের স্থানীয় সূত্র জানায়, ঈদুল আজহা উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, শিবগঞ্জ ও নাচোল উপজেলায় তিন দিনব্যাপী কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় চার হাজার মানুষের মধ্যে দুই কেজি করে মাংস বিতরণ করা হয়েছে। ঈদের দিন থেকে শুরু হয়ে শনিবার পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলে।
আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তুরস্কের ‘তুর্কি দানিয়েত ভাকফি’ নামের একটি সংস্থার অর্থায়নে ৪৯টি গরু কুরবানি দেওয়া হয়। বাকি ১৬টি গরু ও ১৪টি ছাগল জামায়াতের শুভানুধ্যায়ী ও পৃষ্ঠপোষকদের আর্থিক সহায়তায় কেনা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত কর্মসূচিতে এমপি নুরুল ইসলাম বুলবুল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র নজরুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের আমির আবু জার গিফারী, তুর্কি প্রতিনিধি ব্রাদার লোকমান সাইসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মাংস বিতরণ অনুষ্ঠানে এমপি বুলবুল বলেন, ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, মানবতা ও সহমর্মিতা। সেই চেতনা থেকেই মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
তবে এ আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে। বিএনপির নেতারা দাবি করেছেন, বিদেশি অনুদান গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা পরিষ্কার নয়। একই সঙ্গে মাংস বিতরণে দলীয় পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও তুলেছেন তারা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, তালিকা করে মূলত জামায়াতের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যেই মাংস বিতরণ করা হয়েছে। সাধারণ দরিদ্র মানুষের বড় একটি অংশ এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে তার দাবি।
অন্যদিকে জামায়াত নেতারা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় নয়, আর্থিক অসচ্ছলতাকেই বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। যারা কুরবানি দিতে পারেননি, তাদের মধ্যেই মাংস বিতরণ করা হয়েছে। বিএনপি, জামায়াত বা অন্য কোনো দলের পরিচয় এখানে বিবেচ্য ছিল না।
এদিকে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ বলেছেন, বিদেশি অনুদান এলে তা অবশ্যই সরকারি অনুমোদনের আওতায় আসার কথা। অনুদানের প্রকৃতি ও অর্থের উৎস সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, এত বিপুলসংখ্যক পশু কুরবানি ও মাংস বিতরণের বিষয়টি স্বচ্ছতার স্বার্থে বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করা উচিত।
বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য জানতে এমপি নুরুল ইসলাম বুলবুলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
কুরবানির এই বৃহৎ আয়োজনকে কেন্দ্র করে চাঁপাইনবাবগঞ্জজুড়ে এখন অনুদানের উৎস, অর্থের বৈধতা এবং মাংস বণ্টনের স্বচ্ছতা নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। তবে আয়োজকদের দাবি, মানবিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বিবেচনা ছিল না।
ভিওডি বাংলা/আরকেএইচ/আ







