পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাই নগরকে বাসযোগ্য রাখেন: শিল্পমন্ত্রী

পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণেই নগর পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য থাকে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য, বস্ত্র, পাট ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা দিনরাত পরিশ্রম করে নগর পরিষ্কার রাখেন বলেই শহরগুলো সুন্দর থাকে। সরকার ও প্রধানমন্ত্রীও তাদের প্রতি আন্তরিক।
রোববার (২৪ মে) বিকেলে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবনে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিয়মিত নগর পরিষ্কারে সফলতার পরিচয় দিচ্ছেন। আসন্ন ঈদুল আজহাতেও দ্রুততম সময়ে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করে শহরকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে। এসময় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আবাসন সংকট নিরসনে নতুন কোয়ার্টার নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সবসময় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কথা ভাবেন। গত ঈদেও উপহার পাঠিয়েছিলেন, এবারও পাঠিয়েছেন। সরকারের সামর্থ্য সীমিত হলেও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো ৪১ লাখ ৩৫ হাজার টাকায় ৮২৭ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর জন্য উপহার নিশ্চিত করা হয়। পরে আরও ৩৩১ জন কর্মীকে অন্তর্ভুক্ত করতে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব তহবিল থেকে অতিরিক্ত ১৬ লাখ ৫৫ হাজার টাকা যোগ করা হয়।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, নির্বাচনের আগে তিনি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বাসস্থানের অবস্থা ঘুরে দেখেছেন। একটি ছোট কক্ষে আট থেকে ১০ জন পর্যন্ত বসবাস করেন, যা স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে নতুন আবাসন প্রকল্প নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, ‘কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত পরিষ্কার করে সিলেটকে আবার পরিচ্ছন্ন নগরীতে পরিণত করা হবে।’
কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণের বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি। বলেন, চামড়া দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে। তাই কোরবানির পর চামড়া যেন নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
মাদ্রাসার শিক্ষক, মুহতামিম ও কোরবানিদাতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পশু জবাইয়ের চার ঘণ্টার মধ্যে চামড়ায় লবণ লাগিয়ে সংরক্ষণ করতে হবে। সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হলে সিলেট থেকে চামড়া সংগ্রহ নিশ্চিত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এসব প্রকল্প সম্পন্ন হলে জনগণ সড়ক ও রেলপথে উন্নত যোগাযোগ সুবিধা পাবে।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়টি অস্বীকার করার সুযোগ নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় পুলিশ ও র্যাবের সমন্বয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ধর্ষণসহ আলোচিত ঘটনাগুলোর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলেও জানান তিনি।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম।
অনুষ্ঠানে সিসিকের সচিব মো. আশিক নূর, প্রধান প্রকৌশলী মো. আলী আকবর, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ৪১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা এবং সিসিকের নিজস্ব তহবিলের ১৬ লাখ ৫৫ হাজার টাকাসহ মোট ৫৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা বিশেষ অনুদান বিতরণ করা হয়। এর আওতায় সিসিকের এক হাজার ১৫৮ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে জনপ্রতি পাঁচ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে।
ভিওডি বাংলা/আ







