আ.লীগ দেশের জন্য রাজনীতি করে না- আবদুস সালাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আবদুস সালাম বলেছেন, আওয়ামী লীগ এই দেশের জন্য রাজনীতি করে না, ভারতের জন্য রাজনীতি করে আওয়ামী লীগ। শেখ হাসিনা এ দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিল না তিনি ছিল ভারতের মুখ্যমন্ত্রী।
বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকালে আদবর থানা বিএনপি ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির উদ্যোগে তারেক রহমান কর্তৃক জাতির সামনে উত্থাপিত রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা কর্মশালা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হকসহ বিএনপি ও তার অঙ্গ সহযোগি সংগঠনের নেতারা।
আবদুস সালাম বলেন, পরীক্ষীত নেতাকর্মীরা সবসময় প্রাধান্য পাবে। সবাইকে ডিসিপ্লিন এরমধ্যে থাকতে হবে, ইন ডিসিপ্লিন মধ্যে গেলে হবে না। অনেকে অনেক কিছুই করতে পারেন, কোন কিছু করে তারেক রহমানের কাছ থেকে মাফ পাওয়া যাবে না। অনেকের দরজা তারেক রহমানের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে।
আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির পার্থক্য এটাই, আওয়ামী লীগ চোরের দল, হাইজাকারের দল, ভোট চোরের দল, আর বিএনপি গণতন্ত্রের দল, বিএনপি হল স্বাধীনতার ঘোষকের দল।বিএনপি আর আওয়ামী লীগের মধ্যে পার্থক্য আছে এটা কখনো মিলিয়ে ফেললে হবে না। বিএনপি যে করবে তার চরিত্র হবে এক রকম, আওয়ামী লীগ যে করবে তার চরিত্র হবে আরেক রকম। দুইটা পরিষ্কার পার্থক্য এটা জনগণও জানে।
তিনি বলেন, নির্বাচন যেকোনো সময় ঘোষণা হবে। এখন থেকে বলব যে যেখানে আছেন, এখনই প্রতিটি সেন্টারে সেন্টারে কমিটি করে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। তারেক রহমান জানেন এদেশে নির্বাচন হবে এবং নির্বাচনের প্রধানমন্ত্রী হবে জনগণের ভোটে; তারপরও তিনি বলেছেন পরপর দুইবারের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী হতে পারবে না।
চেয়ারপারসনের এই উপদেষ্টা বলেন, শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে ব্যর্থ হয়েছিল বলেই জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিল। আওয়ামী লীগ ব্যর্থ হয়েছে বলেই বিএনপির জন্ম হয়েছে। হাসিনা ব্যর্থ হয়েছেন বলেই খালেদা জিয়া রাজনীতিতে এসেছেন। এমন কোন কাজ করবেন না যাতে ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার মত কাজ করলে তার সাথে দলের কোন সম্পর্ক থাকবে না।
তিনি বলেন, আদাবর থানার শ্রমিক দলের প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারি, দুজনকে পরিবারসহ রাস্তায় ফেলে নির্যাতন করা হয়েছিল। কাজেই আওয়ামী লীগের সাথে আপস নাই। যারা আওয়ামী লীগের সাথে আপস করে কিছু করতে চান; তারা ওই পথ থেকে সরে আসুন। ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময়, আপনারা দেখেছেন বিএনপি নেতাকর্মীদের জেলে রেখেছিল, এবং যারা বাইরে ছিল তারা শান্তিতে থাকতে পারে নাই। মসজিদ ঘেরাও করে আমাদের নেতাকর্মীদের ধরে নিয়ে গিয়েছিল।
প্রশাসনের রদবদলে নির্বাচনকে স্বৈরাচারী কায়দায় প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাইলে সেটা এদেশের জনগণ মেনে নেবে না মন্তব্য করেছেন বিএনপির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি আহ্বায়ক আমিনুল হক।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের পুলিশ প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে আবার নতুনভাবে আমরা যে রদবদল দেখতে পাচ্ছি। সেই রদবদলের উদ্দেশ্য যদি এদেশের জনগণের কল্যাণে হয়, তাহলে কোন সমস্যা নেই। যদি সেই রদবদল বাংলাদেশের মানুষের বিরুদ্ধে যড়যন্ত্রের জন্য হয়, আসন্ন নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়, তাহলে বাংলাদেশের জনগণ কখনই তা মেনে নেবে না।
আমিনুল হক বলেন, আমরা বিশ্বাস করি বাংলাদেশের মানুষ একটি অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দেখতে চায়। সেই নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের আশা আকাঙ্খার প্রতিফলিত হবে। বাংলাদেশের মানুষের অধিকারের প্রতিফলন ঘটবে। বাংলাদেশের মানুষের দাবীগুলোর প্রতিফলন ঘটবে। কারণ বাংলাদেশের মানুষ ভবিষ্যতে আর কোন স্বৈরাচারের জন্ম হউক তা দেখতে চায় না।
বিএনপির এই কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সরকার গত ১৭ বছরে সবলদের পাশে ছিল। স্বৈরাচার সরকারের সময়ে আমরা দেখেছি যারা সবল অর্থাৎ যারা ধনী ছিল তাদেরকে আরও ধনী বানিয়েছিল, কিন্তু বিএনপি সবসময় গরীব ও অসহায় মানুষের পাশে থেকে কথা বলেছে। ন্যায়ের পক্ষে কথা বলেছে ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেছে। বিএনপি সবসময় সাধারণ মানুষ ও অসহায় মানুষের অধিকার ও দাবিকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য রাজনীতি করে। মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ করার জন্য বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে সুসংগঠিত ভাবে ও উজ্জীবিত হয়ে সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে আগামীর বাংলাদেশ গড়তে চায়।
আমিনুল হক বলেন, গত ১৭ বছরে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সরকার এদেশের জনগণ থেকে সম্পূর্ণরুপে বিচ্ছিন্ন ছিল। জোর করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে দেশের সকল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মাজা ভেঙ্গে দিয়েছিল তারা।
তিনি বলেন, স্বৈরাচার আওয়ামী সরকারের রেখে যাওয়া ধ্বংসস্তূপকৃত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সংষ্কারের জন্যই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ৩১ দফার রুপরেখা দিয়েছেন। সেই রুপরেখার বার্তা আমাদেরকে সারা বাংলাদেশের তৃণমূল মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।
ভিওডি বাংলা/ এমএইচ







