১ লাখ টন জ্বালানি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ‘এমটি ফসিল’

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল নিয়ে ‘এমটি ফসিল’ নামের একটি অয়েল ট্যাংকার চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছেছে।
শুক্রবার (২২ মে) ভোরে পানামার পতাকাবাহী ‘এমটি ফসিল’ নামের জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের পৌঁছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর এটি বাংলাদেশে ক্রুডের দ্বিতীয় চালান।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাহাজটি থেকে লাইটারিং পদ্ধতিতে তেল খালাস করা হচ্ছে। অর্থাৎ বড় ট্যাংকার থেকে ছোট জাহাজে তেল স্থানান্তর করে তা পরিশোধনাগারে নেওয়া হবে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে এটি বাংলাদেশে আসা দ্বিতীয় বড় ক্রুড অয়েলের চালান।
ইস্টার্ন রিফাইনারির মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন অ্যান্ড প্ল্যানিং) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিতভাবে অপরিশোধিত তেল আমদানি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে তেল খালাস শুরু হয়।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ‘এমটি নিনোমিয়া’ নামের আরেকটি ট্যাংকার এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে বাংলাদেশে আসে। দীর্ঘ বিরতির পর বিকল্প রুট ব্যবহার করে সেই চালান দেশে পৌঁছেছিল। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও বাংলাদেশ আমদানি কার্যক্রম সচল রেখেছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৩০ মে ইয়ানবু বন্দর থেকে আরও একটি জাহাজে প্রায় এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল আনার প্রস্তুতি চলছে। বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারিতে আমদানি করা ক্রুড অয়েল পরিশোধনের মাধ্যমে ডিজেল, পেট্রল, অকটেন, কেরোসিন, ফার্নেস অয়েল ও এলপিজিসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি পণ্য উৎপাদন করা হয়। শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পরিবহন খাতে এসব জ্বালানির ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।
বর্তমানে ইস্টার্ন রিফাইনারির বার্ষিক পরিশোধন সক্ষমতা প্রায় ১৫ লাখ টন। তবে দেশে বছরে মোট জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রায় ৭২ লাখ টন হওয়ায় অধিকাংশ জ্বালানি বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্থানীয় উৎপাদন ও কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে মোট চাহিদার সামান্য অংশ পূরণ সম্ভব হলেও আমদানিনির্ভরতা এখনো অনেক বেশি।
ভিওডি বাংলা/জা







