সেনারা ধীরে ধীরে ব্যারাকে ফিরে যাচ্ছেন: সেনাপ্রধান

যতক্ষণ পর্যন্ত সরকার আমাদের প্রয়োজন মনে করবে, ততক্ষণ মাঠপর্যায়ে থেকে কিছু দায়িত্ব পালন করতে হবে’, জানিয়ে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, দেশ স্থিতিশীল হওয়ায় সেনারা ধীরে ধীরে ব্যারাকে ফিরে যাচ্ছেন। অনেক সৈনিককে প্রত্যাহার করেছি। তবে এখনো পুরোপুরি প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়নি। আশা করছি, কিছু সময়ের মধ্যেই আমরা ব্যারাকে ফিরে যেতে পারব। তারপরও দেশের প্রয়োজনে আমাদের কিছু কাজ করে যেতে হবে।’
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে কুমিল্লা সেনানিবাসে ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ফায়ারিং প্রতিযোগিতা-২০২৬’ সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় দেশের ক্রান্তিলগ্নে সেনাসদস্যদের ভূমিকা জাতি কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ রাখবে বলেও মন্তব্য করে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে দেশের প্রয়োজনে সেনাসদস্যরা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। যতক্ষণ পর্যন্ত সরকার আমাদের প্রয়োজন মনে করবে, ততক্ষণ মাঠপর্যায়ে থেকে কিছু দায়িত্ব পালন করতে হবে। সময় সময় বিভিন্ন কাজে সরকারকে সহযোগিতা করতে হতে পারে। পাশাপাশি আমাদের প্রধান দায়িত্ব হলো ক্যান্টনমেন্টে ফিরে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালানো, যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়া এবং নিজস্ব পদ্ধতিতে নিয়মিত কার্যক্রম শুরু করা।

প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ও রানারআপ দলের সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, ‘গত ১৮ মাস মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেও সেনাসদস্যরা ফায়ারিং প্রতিযোগিতায় যে দক্ষতা দেখিয়েছেন, তা সত্যিই অভূতপূর্ব।’
পরে সেনাপ্রধান বিজয়ী ও রানারআপ দলের সদস্যদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।
উল্লেখ্য, গত ১৬ মে সদর দপ্তর ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এ ফায়ারিং প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ফরমেশন, লজিস্টিকস এরিয়া, পাঁচটি স্বতন্ত্র ব্রিগেড এবং প্যারা কমান্ডো ব্রিগেডসহ মোট ১৭টি দল অংশ নেয়।

প্রতিযোগিতায় ১৭ পদাতিক ডিভিশন চ্যাম্পিয়ন এবং প্যারা কমান্ডো ব্রিগেড রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাস্টার জেনারেল অব দ্য অর্ডন্যান্স (এমজিও), কমান্ড্যান্ট বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি, জেনারেল অফিসার কমান্ডিং ৩৩ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার কুমিল্লা এরিয়া, জেনারেল অফিসার কমান্ডিং ১৭ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার সিলেট এরিয়াসহ সেনাসদর ও বিভিন্ন ফরমেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন পর্যায়ের সেনাসদস্য এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সদর দপ্তর ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত এই ফায়ারিং প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সকল ফরমেশন, লজিস্টিকস্ এরিয়া, ৫টি স্বতন্ত্র ব্রিগেড এবং প্যারা কমান্ডো ব্রিগেডসহ সর্বমোট ১৭টি দল অংশগ্রহণ করে।
ভিওডি বাংলা/আরআর/আ







