ডিএসসিসির অনুমোদন ছাড়াই লালবাগে পশুর হাটের প্রস্তুতি

রাজধানীর ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা প্রক্রিয়া ঘিরে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে লালবাগের শহীদনগর এলাকায় প্রস্তাবিত একটি হাটকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ উঠেছে, ডিএসসিসির অনুমোদিত হাটের তালিকায় নাম না থাকলেও সেখানে আগেভাগে প্রচার-প্রচারণা, লিফলেট বিতরণ এবং মাঠ পর্যায়ে বাঁশের খুঁটি বসিয়ে অবকাঠামো নির্মাণ ও ঘের তৈরির কাজ চলছে।
জানা গেছে, ডিএসসিসি গত ১৬ এপ্রিল তারিখে ১১টি অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। দরপত্র প্রক্রিয়া শেষে ৯টি হাটের বিপরীতে বৈধ দর পাওয়া গেছে এবং বাকি দুটি হাটের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বর্তমানে বিভাগীয় কমিশনারের দপ্তরে রয়েছে। তবে শহীদনগর এলাকায় প্রস্তাবিত কোনো হাট এই সরকারি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কোনো ধরনের পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ বা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত না করে নতুন হাটের প্রস্তাব ও মাঠ প্রস্তুতির কাজ শুরু করা সরকারি ইজারা নীতিমালা ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর) এর পরিপন্থী। তাদের মতে, উন্মুক্ত দরপত্র ও সমান প্রতিযোগিতা নিশ্চিত না করে এ ধরনের আগাম কার্যক্রম স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করছে।
বৃহষ্পতিবার (২১ মে) সরেজমিনে দেখা গেছে, লালবাগ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত শহীদনগর কমিউনিটি সেন্টার ও সংলগ্ন লালবাগ ট্রাক স্ট্যান্ড এলাকার খালি জায়গায় বাঁশের খুঁটি বসানো হয়েছে। এসব খুঁটির মাধ্যমে অস্থায়ী শেড ও হাসিল ঘর তৈরি করে গরু রাখার প্রস্তুতির মতো কাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। একই সঙ্গে কিছু অংশে রাস্তাঘাট ঘিরে বাঁশ ও লোহার তার ব্যবহার করে অস্থায়ী সীমানা নির্ধারণের কাজও চলতে দেখা গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত কয়েকদিন ধরে ধাপে ধাপে এসব প্রস্তুতিমূলক কাজ চলমান রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু অবকাঠামো নির্মাণই নয়, একই সঙ্গে ওই এলাকায় হাটের নামে লিফলেট বিতরণ এবং আগাম প্রচারণাও চালানো হচ্ছে। অনুমোদন ছাড়াই এ ধরনের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে বলে তারা জানান। তাদের দাবি, সরকারি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না থাকা সত্ত্বেও একটি হাটের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে।
স্থানীয় ইজারাদার ও ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, সরকারি অনুমোদন ছাড়াই শহীদনগর এলাকায় হাটের মতো কাঠামো গড়ে তোলা ইজারা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিয়মনীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। তাদের মতে, বাঁশ ও খুঁটি বসিয়ে ঘের তৈরি, প্রচারণা এবং মাঠ প্রস্তুতির মাধ্যমে কার্যত একটি হাটের পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে, যা বৈধ ইজারাদারদের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, একই এলাকার মধ্যে নতুন হাট চালু হলে ক্রেতা ও ব্যাপারীরা বিভক্ত হয়ে পড়বে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে বৈধ হাটগুলোর বেচাকেনায় এবং বাজার ব্যবস্থার ভারসাম্য নষ্ট হবে।
হাজারীবাগ হাটের ইজারাদার নাফিস কবির অভিযোগ করে বলেন, তারা নিয়ম অনুযায়ী দরপত্রের মাধ্যমে হাট পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন এবং এতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ রয়েছে। কিন্তু তালিকার বাইরে হাটের মতো কাঠামো তৈরি করা হলে তাদের ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তিনি বলেন, আমরা বৈধভাবে কোটি টাকার বিনিয়োগ করেছি। এখন যদি অনুমোদন ছাড়াই খুঁটি বসিয়ে গরু রাখার প্রস্তুতি নেওয়া হয়, তাহলে আমাদের হাটে স্বাভাবিক বেচাকেনা ব্যাহত হবে। এতে গরু পরিবহন, ট্রাক চলাচল এবং ক্রেতা-বিক্রেতার সমন্বয়েও জটিলতা তৈরি হবে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এ ধরনের পরিস্থিতি পুরো বাজার ব্যবস্থাপনাকে অস্থিতিশীল করে তুলবে এবং বৈধভাবে ইজারা নেওয়া ব্যবসায়ীরা বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন।
অন্যদিকে, লিফলেটে উল্লেখ থাকা লালবাগের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের অবস্থিত হাটের ইজারাদার মনির খান হৃদয়ের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে লিফলেটে থাকা হাট পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত মোশারফ হোসেন খোকন বলেন, তাদের দাবি অনুযায়ী হাটটি ইজারা হয়ে গেছে এবং গরু রাখার জন্য বিদ্যুৎ, জেনারেটর ও ওয়াশরুমসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রস্তুত রয়েছে। তবে হাটটি সরকারি ইজারা তালিকায় আছে কি না-এ প্রশ্নের জবাবে তিনি স্বীকার করেন, সিটি কর্পোরেশনের আনুষ্ঠানিক ইজারা তালিকায় এটি নেই, তবে “খাস হিসেবে” হাটটি পরবর্তীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম বলেন, তালিকার বাইরে কোনো হাট বসানো বা অবৈধ কার্যক্রমের বিষয়ে তার কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। তিনি জানান, এ ধরনের অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে ডিএসসিসির নির্ধারিত তালিকার বাইরে লালবাগের শহীদনগর এলাকায় বাঁশের খুঁটি বসানো, ঘের তৈরি, আগাম প্রচারণা ও লিফলেট বিতরণকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সরেজমিনে দেখা এসব কার্যক্রম স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি করেছে। অন্যদিকে বৈধ ইজারাদারদের আশঙ্কা, অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের কার্যক্রম চলতে থাকলে বাজার ব্যবস্থার ভারসাম্য নষ্ট হবে এবং তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন।
ভিওডি বাংলা/জা







