রিকশা খাত রক্ষায় ডিএসসিসি প্রশাসককে স্মারকলিপি

রাজধানীর বৈধ রিকশা খাত রক্ষার দাবিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে বাংলাদেশ রিকশা ও ভ্যান মালিক ফেডারেশন।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে নগর ভবনে প্রশাসকের কার্যালয়ে এ স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। এতে রিকশা-ভ্যান মালিক ও চালকরা অংশ নেন।
এর আগে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে এই দাবি উত্থাপন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশে দীর্ঘ ৫০-৬০ বছর ধরে বৈধভাবে পরিচালিত রিকশা খাত বর্তমানে চরম সংকটের মুখে পড়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ এই খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত, যা নগরবাসীর দৈনন্দিন চলাচলের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে ভূমিকা রাখছে।
তারা আরও বলেন, রিকশা নগর জীবনের একটি জনবান্ধব ও অপরিহার্য পরিবহন ব্যবস্থা। স্বল্প খরচে স্বল্প দূরত্বে যাত্রী পরিবহন, রোগী পরিবহন এবং সংকীর্ণ অলিগলিতে চলাচলের ক্ষেত্রে রিকশার কোনো বিকল্প নেই।
বক্তাদের মতে, ঢাকা শহরে পূর্বে সীমিত সংখ্যক রিকশা লাইসেন্স থাকলেও সময়ের সাথে এর পরিধি বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি কর্পোরেশন মিলিয়ে প্রায় ২ লক্ষ ৪১ হাজার বৈধ রিকশা ও ভ্যান চলাচল করছে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে লাইসেন্সবিহীন ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় রাজধানীতে যানজট বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বৈধ রিকশা মালিক-চালকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। পাশাপাশি কিছু অসাধু চক্র অবৈধভাবে ব্যাটারিচালিত রিকশা তৈরি ও পরিচালনা করছে বলেও দাবি করা হয়।
মানববন্ধনে উত্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—বৈধ লাইসেন্সধারী রিকশায় ব্যাটারি সংযোজনের অনুমতি প্রদান, অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা উচ্ছেদে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং ঢাকা শহরের প্রবেশপথগুলোতে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা।
বক্তারা উল্লেখ করেন, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে স্মারক নম্বর ১৬৩৭-এর মাধ্যমে সিটি কর্পোরেশনের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়েছিল, যেখানে বৈধ রিকশাকে ব্যাটারিচালিত রূপে পরিচালনার অনুমতির দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ রিকশা-ভ্যান ও ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান মালিক ফেডারেশনের সভাপতি লুৎফর রহমান এবং দাবিনামা পাঠ করেন সাধারণ সম্পাদক মো. গিয়াস উদ্দিন হাওলাদার।
বক্তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বৈধ ২ লক্ষ ৪১ হাজার রিকশা-ভ্যানের জন্য একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন এবং অবৈধ রিকশা নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
ভিওডি বাংলা/খতিব/আ







