• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

মেলার মানুষ

মন কেমনের দিন

   ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৫, ১২:৫৪ পি.এম.

খান মুহাম্মদ রুমেল

মনটা খুব খারাপ। কেন জানি খুব অস্থির লাগে। সাদা চোখে দেখা যায় মেলা জমেছে বেশ। মানুষের আনাগোনা আছে। হাসি হট্টগোল আছে। তুমুল আড্ডা আছে। সবই আছে। তবু যেন কী নেই! সকালবেলা ফোন দিয়েছিলেন মনি হায়দার।
—    রুমেল মেলায় কয়টায় আসবে?
—    আজকে মনেহয় যাবো না ভাই!
—    কেন আসবে না?
—    ভালো লাগছে না ভাই?
—    হুম বুঝতে পেরেছি। ভালো না লাগাটা স্বাভাবিক! তবু্ও দেখো, একটু আসার চেষ্টা করো।
—    ঠিক আছে ভাই।

সকালবেলা ভেবেছিলাম যাবো না। কিন্তু দুপুর পেরোতেই কেমন যেন অস্থির লাগতে শুরু করে। যাবো না যাবো না করেও হেঁটে হেঁটে হাজির সন্ধ্যার দিকে হাজির হই মেলার মাঠে। একা একা হাঁটি। কারো সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছে করে না। হাঁটতে হাঁটতে এসে দাঁড়াই সব্যসাচী প্রকাশনীর ১২৮ নম্বর স্টলের সামনে। এখনো বন্ধ পড়ে আছে স্টলটি। কমলা রঙ প্লাস্টিকের পর্দা দাঁত বের করে হাসছে যেন। খুব মন খারাপ লাগে। খবরে পড়লাম বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ বলেছে— ’প্রকাশনীর লোকজন চাইলে এসে স্টল খুলতে পারে। কোনো বাধা নেই।’ কিন্তু এখনো কেউ আসেননি এখনো। কিভাবে আসবে? এসে স্টল খুলতে পারার মতো মানসিক অবস্থা সব্যসাচী প্রকাশনীর কারো আছে?
হেঁটে দেখা হয়ে যায় কাদের বাবুর সঙ্গে। কাদের বাবু সাহিত্যিক ও প্রকাশক। আমার বন্ধু। এখন পর্যন্ত আমার বেশকটি বই প্রকাশ করেছে বাবু। আমার প্রথম কবিতাবই— ’প্রণয়ের কোনো গন্তব্য নেই’ প্রকাশ হয়েছিলো কাদের বাবুর বাবুই প্রকাশনী থেকে। এরপর থেকে প্রতি বছরই আমার কোনো না কোনো বই প্রকাশ করেছে বাবু কখনো সংযোগ প্রকাশনী থেকে কখনো বাবুই থেকে। সংযোগ নামে প্রকাশনীটা বাবু করেছে বছর দুয়েক হলো। এবার সংযোগ—এর স্টলও আছে মেলায়। এখান থেকে এবার প্রকাশ হওয়ার কথা আমার গল্পবই— ’নকশাকাটা সকাল’। এরই মধ্যে প্রচ্ছদ হয়ে গেছে। আমি পাণ্ডুলিপি জমা দিয়ে দিয়েছি। তবে মেলার ১১ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো বইটা আসেনি।
—    কি রে বইটা কি তুই করবি এবার? বাবুকে দেখে জিজ্ঞেস করি আমি।
—    কাজে যে চাপ রে বন্ধু। করবো তো অবশ্যই। আর কয়েকটা দিন সময় দে প্লিজ।
—    ঠিক আছে।
—    চল বন্ধু চা খাই। 
—    চা কোথায় পাবো এখানে।
—    চল আমার স্টলে যাই।

বাবু আর আমি গিয়ে বসি সংযোগ—এর স্টলে। চা আসে। এদিক সেদিক নানা বিষয়ে কথা হয় আমাদের।
—    বন্ধু তোর কবিতাবইটা এবার বেশ ভালো হয়েছে!
—    তোকে উৎসর্গ করেছি বলে ভালো হয়েছে বলছিস? নাকি আসলেই ভালো লিখেছি?
—    ধুর বেটা কি সব যে বলিস না তুই? আসলে ভালো লিখেছিস।
—    আচ্ছা।
—    তবে উঁৎসর্গে যা লিখেছিস, পছন্দ হয় নাই। কাদের বাবু কখনো বদলে যায় না!
বাবুর কথা শুনে আমি হাসি। কি লিখেছি উৎসর্গপত্রে যেটা বাবুর পছন্দ হয় নাই? লিখেছিলাম— 
উৎসর্গ
কাদের বাবু
প্রায় দুই দশকের ভালোলাগা তার প্রতি। আজকাল দেখি অনেক চেনা মানুষও কেমন বদলে যাচ্ছে। বাবুও কি বদলে যাবে একদিন? বদলে যাওয়ার আগেই ভালোবাসা জানিয়ে রাখলাম।
—    আচ্ছা তুই যে বই বের করা নিয়ে পাগল করে ফেলছিস এখন পর্যন্ত তো উঁৎসর্গ ভূমিকা ফ্ল্যাপ— এসব কিছই দিলি না! কিছুটা উষ্মা নিয়ে বলে বাবু।
—    যাহ, দিয়ে দিবো আজকের মধ্যেই।
এরপর কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থাকি দুজনেই।
—    আচ্ছা আমি এখন যাই রে। নরম সুরে বলি আমি।
—    এখনই যাবি? বস আরেকটু!
—    না রে দোস্ত ভালো লাগছে না কিছু।

আসছে দিনে বাবুর আর আমার সংযোগ অটুট থাকবে— এমন আশা মনে নিয়ে বের হয়ে আসি সংযোগ প্রকাশনী থেকে। বের হওয়ার সময় চোখে পড়ে ব্যস্ত পায়ে সংযোগ— এ ঢুকছেন কবি জব্বার আল নাঈম। একটুখানি হাসি বিনিময় আমাদের। আর কোনো কথা হয় না।
গতকাল রাতে কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফির গ্রামের বাড়ি আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে দুবৃত্তরা। কাফি এবার বই লিখেছেন। তাকে নিয়ে নানা রকম নেতিবাচক আলোচনা চলছে সামাজিক মাধ্যমে। কিন্তু তার বাড়ি কেন পুড়িয়ে দিতে হবে? খুব কষ্ট লাগে আমার। মেলায় আর থাকতে ইচ্ছে করে না। 
হাঁটতে থাকি গেটের দিকে। চলতি পথে দেখা যায় লেখক আদিত্য শাহীনের সঙ্গে। একটুখানি হাসি বিনিময় হয়।
—    ভালো আছেন শাহীন ভাই?
—    জি ভালো আছি। আপনি ভালো?
—    এই তো চলছে কোনো রকম।

চলে যাই যে যার পথে। ধীর পায়ে বের হয়ে আসি মেলা থেকে। আসতে আসতে মনেহয় আদিত্য শাহীনের সঙ্গে একটুক্ষণ দাঁড়িয়ে কথা বলা যেতো! আমেরিকা থেকে তিনি কবে এলেন দেশে?

[নিবন্ধ, সাক্ষাৎকার, প্রতিক্রিয়া প্রভৃতিতে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। ভিওডি বাংলা সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে নিবন্ধ ও সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত মত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে। প্রকাশিত লেখাটির ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ, তথ্য-উপাত্ত, রাজনৈতিক, আইনগতসহ যাবতীয় বিষয়ের দায়ভার লেখকের, ভিওডি বাংলা কর্তৃপক্ষের নয়] 

ভিওডি বাংলা/এম 


  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
স্বাধীনতার চেতনাকে মুছে যেতে দেবো না
স্বাধীনতার চেতনাকে মুছে যেতে দেবো না
আমাদের সম্পাদক একজন মুক্তিযোদ্ধা, আমরা গর্বিত
আমাদের সম্পাদক একজন মুক্তিযোদ্ধা, আমরা গর্বিত
সত্যিই ভিওডি বাংলা-পথ দেখে, পথ দেখায়
সত্যিই ভিওডি বাংলা-পথ দেখে, পথ দেখায়