মার্কিন কৃষিপণ্যে চীনের ১৭ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি

বেইজিংয়ে দুই পরাশক্তির শীর্ষ নেতার বৈঠকের পর নতুন করে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের ইঙ্গিত মিলেছে। হোয়াইট হাউসের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বছরে অন্তত ১৭ বিলিয়ন ডলারের কৃষিপণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চীন। এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
রোববার প্রকাশিত হোয়াইট হাউসের এক তথ্যপত্রে বলা হয়, ২০২৮ সাল পর্যন্ত এ ক্রয় কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তবে ২০২৬ সালের লক্ষ্যমাত্রা ওই বছরের বাকি সময় বিবেচনায় আনুপাতিক হারে নির্ধারণ করা হবে।
তথ্যপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, দক্ষিণ কোরিয়ায় ২০২৫ সালের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের বৈঠকে চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে অন্তত ৮ কোটি ৭০ লাখ মেট্রিক টন সয়াবিন আমদানির যে অঙ্গীকার করেছিল, নতুন চুক্তির আওতায় সেই পরিমাণ আরও বাড়ানো হবে।
নতুন সমঝোতার অংশ হিসেবে চীন আবারও যুক্তরাষ্ট্রের গরুর মাংসের বাজার খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ লক্ষ্যে মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া চারশ’র বেশি উৎপাদন প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন নবায়ন করা হবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ যেসব অঙ্গরাজ্যকে বার্ড-ফ্লুমুক্ত ঘোষণা করেছে, সেসব এলাকা থেকে পুনরায় পোলট্রি আমদানি শুরু করবে বেইজিং।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও সুসংগঠিত করতে দুই দেশ দুটি নতুন প্রতিষ্ঠান গঠনে সম্মত হয়েছে। এগুলো হলো— ‘ইউএস-চায়না বোর্ড অব ট্রেড’ এবং ‘ইউএস-চায়না বোর্ড অব ইনভেস্টমেন্ট’।
তবে পুরো বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি চীন। ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসও তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বেইজিংয়ে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের দুই দিনের বৈঠক ছিল বেশ আড়ম্বরপূর্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত। যদিও বাস্তবভিত্তিক চুক্তির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম ছিল। আলোচনায় অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক গুরুত্ব পেলেও তাইওয়ান এবং ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের মতো সংবেদনশীল ইস্যুগুলো অনেকটাই পাশ কাটিয়ে যাওয়া হয়।
বৈঠক শেষে হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়, দুই দেশ অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা করেছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি সচল রাখার প্রয়োজনীয়তা এবং ইরান যেন কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে— এ বিষয়েও উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।
অন্যদিকে বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র প্রসঙ্গ সরাসরি উল্লেখ না করে বলা হয়, ইরানের পারমাণবিক ইস্যুসহ বিভিন্ন বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের উদ্বেগ বিবেচনায় নিয়ে সমাধানে পৌঁছানো প্রয়োজন।
এছাড়া দুই দেশের কোনো বিবৃতিতেই তাইওয়ান প্রসঙ্গ সরাসরি উঠে আসেনি। যদিও বৈঠকের আগে শি জিনপিং সতর্ক করে বলেছিলেন, তাইওয়ান ইস্যু “সঠিকভাবে পরিচালিত না হলে” দুই দেশের মধ্যে সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
প্রায় এক দশক ধরে চলা পাল্টাপাল্টি শুল্ক আর বাণিজ্যিক চাপের কারণে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের বাণিজ্যিক সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত হয়েছে। গত বছর দুই দেশের পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৪১৫ বিলিয়ন ডলারে, যেখানে ২০২২ সালে এ বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৬৯০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।
ভিওডি বাংলা/এমএস







