• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

সাগর-রুনী হত্যার বিচারের দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ

   ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫, ০৩:৫৬ পি.এম.

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনী হত্যার বিচার দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে সাংবাদিকরা। মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটির সামনে ‘সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনী নির্মম হত্যাকাণ্ড বিচারের অপেক্ষায় ১৩ বছর’ শীর্ষক এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটি।

প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে সাংবাদিকরা বলেন, সাংবাদিকদের জীবন অভিশপ্ত জীবন। সবাই চায় আমাদের দমিয়ে রাখতে। বিগত সরকার আমাদের ভয় পাওয়ার জন্য সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল। কিন্তু আমরা থেমে থাকিনি। সাগরের হত্যা মামলা হওয়ার পর ১১৫ বারের মতো পিছিয়েছে। বাংলাদেশে কি এর আগে কখনো কোনো হত্যা মামলার বিচার হয়নি? তৎকালীন সরকারের প্রত্যেকে এ মামলার বিষয়ে উদাসীন ছিলেন। যেখানে স্বয়ং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন সাগর রুনির হত্যাকাণ্ডের কোনো প্রমান পাওয়া যায়নি, সেখানে কি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সাহস আছে প্রমাণ বের করার। ফলে সেই সময় থেকে এখন পর্যন্ত এই মামলার কোন অগ্রগতি হচ্ছে না। আমরা প্রত্যাশা করব বর্তমান সরকার, এ মামলাকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।

আগামী ২ মার্চ সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না করা হলে রাজপথে কর্মসূচি দিয়ে কঠোর আন্দোলনে নামবেন সাংবাদিকরা। পাশাপাশি বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সাংবাদিকদের একটি দল স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করে তাকে স্মারকলিপি প্রদান করবে। 

ডিআরইউর সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, আজকের সমাবেশ থেকে সংগ্রাম পরিষদ গঠনের কথা এসেছে। আমরা জেনেছি আগামী ২ মার্চ এই হত্যার প্রতিবেদন দাখিলের কথা রয়েছে। আমরা ২ মার্চ পর্যন্ত দেখব। যদি ২ মার্চ এই হত্যার প্রতিবেদন দাখিল করা না হয়, তাহলে আমরা সংগ্রাম কমিটি গঠন করে রাস্তায় নামব এবং জোরালোভাবে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ব। এছাড়া এই হত্যার বিচার দাবিতে আগামীকাল বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, এখানে আমরা যারা আছি সবাই সাগর-রুনি হত্যার বিচার চাই। আগামী নতুন কমিটিতে যারা আসবেন তারাও আশা করি এই হত্যার বিচার চাইবেন। যারা আমাদের আন্দোলন সংগ্রামকে ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করতে চেয়েছেন, পকেটে টাকা ভরেছেন, সরকারের টাকায় বিদেশে গেছেন, আলিশানভাবে থেকেছেন, ইনশাল্লাহ তাদেরও বিচার হবে।

ডিআরইউ সভাপতি বলেন, গত ১৩ বছরেও এই হত্যার বিচার হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকার যে ফ্যাসিস্ট ছিল তার প্রমাণ হচ্ছে, এই হত্যার বিচারকে তারা ভিন্নখাতে প্রভাবিত করেছে। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রভাবশালীরা জড়িত ছিল। তার প্রমাণ হচ্ছে, আমরা এখনো খুনিদের নাম জানতে পারি নাই। সেই সময় শেষ হয়েছে, এখন আওয়ামী লীগ নেই। এখন বিপ্লবী সরকার ক্ষমতায়। আমরা তাদের কাছে আশা করছি, এই হত্যার বিচার পাব। যদি না পাই আপনারা মনে রাখবেন, কেয়ামত পর্যন্ত এই হত্যার বিচার দাবি করে যাব আমরা।

সমাবেশে এর আগে সিনিয়র সাংবাদিকরা দাবি জানিয়ে বলেন, আমরা যারা মাঠের সাংবাদিক হিসেবে তখন সাগর-রুনির বাসায় গিয়েছি, তারা কেউ হত্যার বিচারের দাবি থেকে সরে দাঁড়াব না। আমরা আগামী বছরের এই দিনে বিচারের দাবি আর করতে চাই না। অতি দ্রুত আমাদের এই দাবি বাস্তবায়ন করুন। আমরা আরও দাবি করছি, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের দিনটি সাংবাদিক সুরক্ষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হোক।

এছাড়াও প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট শহিদুল ইসলাম, ইউনিয়নের সেক্রেটারি খোরশেদ আলম, ডিআরইউ এর প্রথম কমিটির সাবেক সেক্রেটারি মনোয়ারুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা, সাবেক সেক্রেটারি রাজু আহমেদ, সাবেক সভাপতি ইলিয়াস হোসেন প্রমুখ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডের তের বছর পেরিয়ে গেলেও হত্যার রহস্য এখনো উন্মোচিত হয়নি। বারবার হাত বদল হয়েও এতো বছরে এই মামলায় কোন তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি তদন্তকারী সংস্থাগুলো। বর্তমানে মামলাটি পরিচালনার জন্য টাস্কফোর্স কমিটি করে দেয়া হলেও কোন সুরাহা হয়নি। তবে আইনজীবী এবং পরিবারের সদস্যরা এখন সঠিক বিচার পাওয়ার আশাবাদী। বিগত সরকারের সংশ্লিষ্টতার কারণে মামলায় কোন অগ্রগতি হয়নি বলেও অভিযোগ তাদের। 

তেরোটি বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো আশার আলো দেখাতে পারেনি সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের তদন্তকারী সংস্থা গুলো। থানা পুলিশ ডিবি এবং র‌্যাবের হাত ঘুরে বর্তমানে হাইকোর্টের নির্দেশে এই মামলার তদন্ত করছে পিবিআই। 

পিবিআই এর তদন্ত কারী দল এই মামলার সাথে বিগত সরকারের আমলে বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতা এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের তদন্ত কাজকে ব্যাহত করার সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে বলে জানিয়েছেন মামলার আইনজীবী শিশির মনির । টাস্কফোর্স নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের প্রতিবেদনে জমা দেবে বলে আশা জানিয়েছেন তিনি। এসময় পরিবারের পক্ষ থেকে এই সরকারের আমলে সঠিক বিচার পাওয়া নিয়ে আশার কথা জানান।

এদিকে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহরুন রুনীর হত্যা মামলার আসামিরা মুখ খুলেছে এবং বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর দিয়েছে বলে জানিয়েছেন নিহত পরিবারের পক্ষের আইনজীবী শিশির মনির। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের এ কথা জানান এ আইনজীবী। 

শিশির মনির বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের যোগাযোগের বিষয়ে মুখ খুলেছেন জেলে থাকা আসামিরা। অতীতে তদন্ত প্রক্রিয়ায় আইনিভাবে চলতে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। দ্রুতই হাইকোর্টে দাখিল হবে তদন্ত রিপোর্ট। 

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার আসার পর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ মামলাটি তদন্তের জন্য উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন করেছে। আগামী ৪ এপ্রিলের মধ্যে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের কথা রয়েছে। 

টাস্কফোর্সে যারা রয়েছেন, তারা মামলার বাদী, আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, তদন্তে অনেক দূর এগিয়ে গেছেন। তদন্ত কমিটির সংশ্লিষ্টরা আমাদের জানিয়েছেন, আগের সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে তদন্তে বাধা দেওয়া হতো। এ কারণে তদন্ত আগায়নি।

এদিকে মেহেরুন রুনীর ভাই নওশের রোমান অভিযোগ করে বলেন, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনী হত্যায় জড়িত শেখ হাসিনা সরকার। তবে আশার আলো দেখছেন সাগর-রুনীর সন্তান মেঘ। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, এবার আশার আলো দেখছি, আশা করি ভালো কিছু হবে।

গত ১৩ বছরেও সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহরুন রুনীর হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা হয়নি আদালতে। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে আবার সচল হয় এ মামলার প্রক্রিয়া। মূলত উচ্চ আদালতের নির্দেশে সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তে গেলো নভেম্বর থেকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধানের নেতৃত্বে কাজ করছে টাস্কফোর্স। 

২০১২ সালে এই দিনে পূর্ব রাজাবাজারের বাড়িতে নির্মমভাবে খুন হয় সাংবাদিক দম্পতি সাগর রুনী। তেরো বছরে ১১৫ বার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য সময় নেয়া হয়েছে। সবশেষে প্রতিবেদন জমা দেয়া তারিখ ছিল গেল ২৭শে জানুয়ারি।

ভিওডি বাংলা/ এমএইচ


  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
চলচ্চিত্র মানুষের মনোজগৎ গঠনের শক্তিশালী মাধ্যম
তথ্যমন্ত্রী চলচ্চিত্র মানুষের মনোজগৎ গঠনের শক্তিশালী মাধ্যম
মানসিক হতাশা ও অভিমানেই স্বর্ণময়ীর আত্মহনন
পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদন মানসিক হতাশা ও অভিমানেই স্বর্ণময়ীর আত্মহনন
গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে কমিশন গঠন করা হবে
তথ্যমন্ত্রী গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে কমিশন গঠন করা হবে