স্থানীয় নির্বাচন নিয়েও ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ আশঙ্কা

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আবারও ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতারা। তাদের মতে, অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনে ভোটাধিকার হরণ ও ফলাফল পরিবর্তনের অভিযোগ থাকলেও ভবিষ্যতে নতুন কৌশলে একই ধরনের অনিয়ম ঘটতে পারে। তাই দলীয় নেতাকর্মীদের আরও বেশি সতর্ক ও সংগঠিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
শুক্রবার (১৫ মে) রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে দিনব্যাপী আয়োজিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের থানা ও বিভাগীয় দায়িত্বশীলদের শিক্ষাশিবিরে এসব কথা উঠে আসে। অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের একাধিক নেতা বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশে অতীতের নির্বাচনগুলোতে জনগণের ভোট যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি-এমন অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে। তাদের দাবি, বিভিন্ন সময় প্রশাসনিক প্রভাব, রাজনৈতিক চাপ এবং কৌশলগত অনিয়মের মাধ্যমে ভোটের ফলাফল পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে।
এ প্রসঙ্গে বক্তারা সতর্ক করে বলেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অনিয়মের ধরনও বদলাতে পারে, তাই আগাম প্রস্তুতি ও সংগঠিত অবস্থান জরুরি।
শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলটির নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, জনগণের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানো না হলে দেশে স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি সম্ভব নয়। তিনি দাবি করেন, জনগণের প্রকৃত রায় কার্যকর হলে স্বৈরশাসনের পুনরাবৃত্তি আর ঘটবে না।
তিনি আরও বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সংস্কৃতি নির্ভর করছে জনগণের অংশগ্রহণ ও ভোটাধিকার সুরক্ষার ওপর। নতুন প্রজন্ম ও সাধারণ মানুষ কোনো ধরনের স্বৈরাচারী প্রবণতা গ্রহণ করবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য জনসম্পৃক্ত আন্দোলনের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, জনগণ যদি তাদের অধিকার রক্ষায় মাঠে নামে, তবে সেটি উপেক্ষা করা কোনো পক্ষের জন্যই শুভ হবে না। একই সঙ্গে তিনি সরকারকে অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান।
শিক্ষাশিবিরের প্রধান আলোচক মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে নানা চাপ ও বাধার মুখে থেকেও জামায়াতে ইসলামী জনগণের মধ্যে তার অবস্থান ধরে রেখেছে। তার ভাষায়, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় জনগণের সমর্থন থাকা সত্ত্বেও অতীতে ‘কারচুপি’র মাধ্যমে সেই ফলাফলকে প্রভাবিত করার অভিযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতেও রাজনৈতিক স্বার্থে ভোটের ফলাফল বিকৃত করার চেষ্টা হতে পারে। তাই দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকা এবং সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার করা প্রয়োজন। তার মতে, শুধু রাজনৈতিক কার্যক্রম নয়, বরং প্রশাসন, গণমাধ্যম, পেশাজীবী এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নও গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, একটি আদর্শিক ও জনকল্যাণমুখী সংগঠন হিসেবে দলের নেতাকর্মীদের উচিত জনগণের পাশে থেকে তাদের আস্থা অর্জন করা। একই সঙ্গে সম্ভাব্য অনিয়ম মোকাবিলায় সাংগঠনিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. মাওলানা আবদুস সালাম। তারা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এছাড়া শিক্ষাশিবিরে কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের বিভিন্ন নেতা, মজলিসে শূরা সদস্য এবং থানা ও বিভাগীয় দায়িত্বশীল নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ভিওডি বাংলা/জা







