• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

প্রতিদিন হাঁটার অভ্যাসেই মিলতে পারে দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতা

লাইফস্টাইল    ১৫ মে ২০২৬, ০৫:২৩ পি.এম.
দিনে মাত্র ২০-৩০ মিনিট নিয়মিত হাঁটা হৃদরোগ, ডায়াবেটিসসহ নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। ছবি : সংগৃহীত

ব্যস্ত জীবনের চাপ, দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা এবং অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে বর্তমানে অনেকেই শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। জিম বা কঠিন ব্যায়ামের সময় না পেলেও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুস্থ থাকার জন্য প্রতিদিনের সহজ একটি অভ্যাসই যথেষ্ট-হাঁটা। দিনে মাত্র ২০ থেকে ৩০ মিনিট দ্রুত বা স্বাভাবিক গতিতে হাঁটা শরীর ও মনের ওপর দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

বর্তমান সময়ে ফিটনেস সচেতন অনেকেই ৮-১০ হাজার কদম হাঁটার লক্ষ্য নির্ধারণ করেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল সংখ্যার লক্ষ্য নয়, বরং নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ধারাবাহিকভাবে হাঁটা শরীরের কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে বাড়িয়ে তোলে এবং অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে সক্রিয় রাখে।

নিয়মিত হাঁটা হৃদযন্ত্রের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এটি রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে এবং হৃদপিণ্ডকে শক্তিশালী করে তোলে। গবেষণায় দেখা যায়, প্রতিদিন অন্তত আধা ঘণ্টা হাঁটা হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এবং উচ্চ কোলেস্টেরলের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক। পাশাপাশি এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে।

হাঁটা শরীরের হাড় ও পেশিকে সক্রিয় রাখে। নিয়মিত হাঁটার ফলে হাড়ের ঘনত্ব বজায় থাকে এবং বয়সজনিত হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি কমে। বিশেষ করে অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে এটি একটি সহজ ও কার্যকর উপায় হিসেবে বিবেচিত। পাশাপাশি শরীরের ভারসাম্য ও চলাফেরার সক্ষমতা উন্নত হয়।

ওজন কমানো বা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হাঁটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি শরীরে ক্যালরি বার্ন বাড়ায় এবং অতিরিক্ত চর্বি কমাতে সাহায্য করে। খাবারের পর হালকা হাঁটা হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে, যা দীর্ঘমেয়াদে শরীরকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।

নিয়মিত হাঁটা ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। এর ফলে রক্তে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ও প্রতিরোধে হাঁটা একটি নিরাপদ এবং সহজ জীবনধারাভিত্তিক অভ্যাস।

শুধু শারীরিক নয়, হাঁটা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। এটি মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে এবং মনকে প্রশান্ত রাখে। নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস ঘুমের মান উন্নত করে, মনোযোগ বাড়ায় এবং সৃজনশীল চিন্তাভাবনাকে উৎসাহিত করে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, হাঁটার আগে হালকা ওয়ার্মআপ করা উচিত। হাঁটার পর ধীরে ধীরে গতি কমিয়ে শরীরকে ঠান্ডা করা এবং স্ট্রেচিং করা জরুরি। আরামদায়ক জুতা ও পোশাক ব্যবহার করলে হাঁটার সময় আঘাতের ঝুঁকি কমে এবং স্বাচ্ছন্দ্য বাড়ে।

জীবনযাত্রায় বড় কোনো পরিবর্তন ছাড়াই সুস্থ থাকা সম্ভব। প্রতিদিনের মাত্র আধা ঘণ্টা হাঁটার অভ্যাসই শরীর ও মনকে দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ ও সক্রিয় রাখতে পারে। তাই সুস্থ জীবনের জন্য হাঁটাকে দৈনন্দিন রুটিনের অংশ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ভিওডি বাংলা/জা


  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
হাঁপানি নিয়ন্ত্রণে ঘরেই সমাধান, রাখুন উপকারী ইনডোর গাছ
হাঁপানি নিয়ন্ত্রণে ঘরেই সমাধান, রাখুন উপকারী ইনডোর গাছ
মুরগির মাংস ভুনার সহজ রেসিপি
মুরগির মাংস ভুনার সহজ রেসিপি
পাকা আম খেলে শরীর গরম লাগে কেন?
পাকা আম খেলে শরীর গরম লাগে কেন?