• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

একনেকে উঠছে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প, ব্যয় ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১১ মে ২০২৬, ০৯:৩২ পি.এম.
ছবি : সংগৃহীত

অবশেষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উঠছে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী, কৃষি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দীর্ঘদিনের সংকট নিরসনে এটি একটি বড় উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী, কৃষি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দীর্ঘদিনের সংকট নিরসনে এটি একটি বড় উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রকল্পের মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীর পানি সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করে স্বাদু পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩৩ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বুধবার (১৩ মে) সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একনেক সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় মোট ১৬টি প্রকল্প উপস্থাপন করা হবে, যার মধ্যে ১১ নম্বর কার্যতালিকায় রয়েছে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প।

প্রকল্পের সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য (সচিব) মো. মাহমুদুল হোসাইন খান বলেন, বুধবার একনেক সভায় প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হবে।  আমরা সবকিছু ঠিক করে দিয়েছি। বাকি কাজ সরকারের। প্রকল্পটি গত সভায় ওঠানো হয়েছিল, কিন্তু পাস হয়নি। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে লবণাক্ততা কমবে, কৃষি উৎপাদন বাড়বে। পরিবেশের ইমব্যালেন্স দূর হবে। ফারাক্কা ব্যারাজের ফলে আমাদের কিছু এলাকা মরুভূমি হয়ে গেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে দেশ বাঁচবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রায় ৩৭ শতাংশ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে, কমবে লবণাক্ততা, প্রাণ ফিরে পাবে মৃতপ্রায় নদীগুলো— একই সঙ্গে কৃষি, মৎস্য ও পরিবেশে আসবে ইতিবাচক পরিবর্তন।

শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গার ৩৫ থেকে ৪০ হাজার কিউসেক পানি ভাগীরথী-হুগলি নদীতে প্রবাহিত করার জন্য এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত কলকাতা বন্দরের নাব্য উন্নত করার জন্য ১৯৭৫ সালে পশ্চিমবঙ্গে ফারাক্কা ব্যারাজ নির্মাণ করে ভারত। ফারাক্কা ব্যারাজের উজানে পানি প্রত্যাহারের ফলে বাংলাদেশে পদ্মা নদীর প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমেছে এবং দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া, ইছামতি ও বড়াল নদী শুকিয়ে গেছে।

ফারাক্কা ব্যারাজের নেতিবাচক প্রভাব থেকে বাংলাদেশকে বাঁচাতে প্রথম পর্যায়ে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প হাতে নিচ্ছে সরকার। এ প্রকল্পটি সার্বিকভাবে বাস্তবায়ন করতে ৫০ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে জানিয়েছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। পদ্মা বাঁধ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীর পানি সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নদী ব্যবস্থায় স্বাদু পানির প্রবাহ নিশ্চিত করা।

তবে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে ভারতের ফারাক্কা ব্যারাজ সংক্রান্ত ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায়। ১৯৯৬ সালে হওয়া গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সত্তরের দশকে ভারত পশ্চিমবঙ্গে ফারাক্কা ব্যারাজ নির্মাণের মাধ্যমে পদ্মা নদী থেকে পানি প্রত্যাহার করার ফলে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশ অংশে পদ্মার স্বাভাবিক প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমেছে। ফলে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী-খালগুলোতে লবণাক্ততার মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে, যা কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন, বনায়ন, নৌ-চলাচল, সুপেয় পানির প্রাপ্যতা এবং সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যসহ সামগ্রিক ইকোসিস্টেমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

ভিওডি বাংলা/বিন্দু

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে : ধর্মমন্ত্রী
সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে : ধর্মমন্ত্রী
মেগা প্রকল্পের নামে লুটপাটে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে: সেতুমন্ত্রী
মেগা প্রকল্পের নামে লুটপাটে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে: সেতুমন্ত্রী
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত অর্থ আদায় প্রমাণিত হলে চুক্তি বাতিল : ডিএসসিসি প্রশাসক
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত অর্থ আদায় প্রমাণিত হলে চুক্তি বাতিল : ডিএসসিসি প্রশাসক