• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

দালালের খপ্পরে পড়ে দুর্বিষহ জীবন কাটছে রাঙ্গাবালীর ২ যুবকের

রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি    ৮ মে ২০২৬, ০৯:০০ পি.এম.
ছবি: ভিওডি বাংলা

‎ভালো চাকরি ও বৈধ আকামার (বৈধ বসবাস ও কাজের অনুমতিপত্র) আশ্বাসে ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে সৌদি আরবে পাঠিয়ে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার এক দালালের বিরুদ্ধে। বর্তমানে সৌদি আরবে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন ভুক্তভোগী প্রবাসী মো. আবু হানিফ রুবেল (৩০)। অন্যদিকে, তাকে বিদেশ পাঠাতে নেওয়া ঋণের চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তার পরিবারটি। ভুক্তভোগী রুবেল উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য চরমোন্তাজ গ্রামের বাসিন্দা ও মো. চানমিয়া সরদারের ছেলে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ভাগ্য বদলের আশায় ধার-দেনা ও ঋণ করে ২০২৪ সালের ৩১ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবে যান রুবেল। একই ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. জাহিদ (পিতা- জাফর ফরাজী) তাকে এক বছরের বৈধ আকামা (বৈধ বসবাস ও কাজের অনুমতিপত্র) ও ভালো চাকরির আশ্বাস দিয়ে সৌদিতে পাঠানোর জন্য ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা নেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রুবেলের দাবি, সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর দালালের দেওয়া কোনো প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়নি। বরং প্রতারণার মাধ্যমে তাকে ট্যুরিস্ট ভিসায় সেখানে পাঠানো হয়। সৌদিতে পৌঁছানোর পর কয়েকজন দালালের হাত বদল হয়ে ১৩ দিনের মাথায় “ক্যান কপিসপ” নামে একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ দেওয়া হলেও টানা পাঁচ মাস তার বেতন পরিশোধ করা হয়নি। পরে প্রতিষ্ঠানটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে পাওনা বেতনও আটকে যায়।

চাকরি হারানোর পর চরম দুর্ভোগে পড়েন রুবেল। তিনি জানান, প্রায় তিন মাস বিদ্যুৎবিহীন একটি গোডাউনে মানবেতর অবস্থায় থাকতে হয়েছে তাকে। পরে সোহাগ নামে দূর সম্পর্কের এক মামাশ্বশুরের বাসায় প্রায় সাত মাস আত্মগোপনে ছিলেন।

পরবর্তীতে একই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইমরান নামে এক ব্যক্তির সহায়তায় অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরির ব্যবস্থা হলেও বৈধ আকামা না থাকায় নতুন করে জটিলতায় পড়েন তিনি। আকামা সংক্রান্ত সমস্যার কারণে কোম্পানির পক্ষ থেকেও পূর্ণাঙ্গ সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন রুবেল। তার অভিযোগ, গত ১৯ মাস ধরে বৈধ আকামা করে দেওয়ার কথা বলে শুধু আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছেন অভিযুক্ত জাহিদ। আকামা না থাকায় প্রতিনিয়ত আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তার।

এছাড়াও ওই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইমরান নামে আরেক যুবক একই দালাল চক্রের মাধ্যমে সৌদি আরবে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। এক ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, ১৪০০ রিয়াল বেতন ও ৮ ঘণ্টা ডিউটির আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকেও কয়েক লাখ টাকা নেওয়া হয়। তবে সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর তিনি দেখেন, তাকে ৮০০ রিয়াল বেতন ও দৈনিক ১৪ ঘণ্টা কাজের চাকরিতে রাখা হয়েছে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা না পেয়ে দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

এদিকে, প্রবাসে ছেলের মানবেতর জীবনযাপনের খবরে উদ্বেগে রয়েছেন তার বাবা-মা। একই সঙ্গে বিদেশ পাঠাতে নেওয়া ঋণের চাপে অনাহার-অর্ধাহারে দিন কাটছে পরিবারটির।

রুবেলের বাবা চানমিয়া সরদার বলেন, “ছেলের ভাগ্য বদলানোর আশায় ধার-দেনা ও ঋণ করে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা জাহিদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়েছিলেন। কথা ছিল, ছেলেকে সৌদি আরবে নিয়ে ভালো কাজ ও বৈধ আকামার ব্যবস্থা করে দেবে। কিন্তু এখন আমার ছেলে সেখানে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “ঋণের চাপ সামলাতে পারছি না। ছেলেও অনেক কষ্টে আছে। আমরা চাই, আমার ছেলে যেন বৈধভাবে কাজ করার সুযোগ পায় এবং প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া টাকা ফেরত দেওয়া হয়।” 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত জাহিদ। তিনি বলেন, “রুবেল আমার পরিচিত হওয়ায় নিজেই যোগাযোগ করেছিল। পরে পরিচিত রাজ্জাক নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে তাকে সৌদি নেওয়ার ব্যবস্থা করি। সেখানে নেওয়ার পর কিছুদিনের মধ্যেই কাজের ব্যবস্থাও করে দেওয়া হয়।”

জাহিদের দাবি, আর্থিক সংকটে থাকায় তিনি রুবেলকে ৮০ হাজার টাকা ধার দিয়েছিলেন, যার মধ্যে ২০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে রুবেলের কাছে তার আরও ৬০ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

আকামা সংক্রান্ত বিষয়ে জাহিদ বলেন, “যার মাধ্যমে রুবেলকে সৌদি পাঠানো হয়েছিল, তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তিনি আকামা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে রুবেল বারবার ফোন দিয়ে চাপ দিচ্ছে। আমি তাকে বলেছি, আমার পাওনা টাকার সঙ্গে কিছু টাকা যোগ করে আকামার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে। কিন্তু সে আগে আকামা করে দেওয়ার কথা বলছে।

এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অ্যাডভোকেট মো. হাসান মাহমুদ তুষার বলেন, কাউকে ট্যুরিস্ট ভিসায় বিদেশে পাঠিয়ে চাকরি ও বৈধ আকামার আশ্বাস দিয়ে টাকা নেওয়া গুরুতর প্রতারণা। অভিযোগের সত্যতা মিললে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত দন্ডবিদি ১৮৬০ এর ৪০৬/৪২০ ধারা অনুযায়ী প্রতারনা ও বিশ্বাসভঙ্গের জন্য এবং মানবপাচার আইনে ব্যবস্তা গ্রহণ করা যেতে পারে।

ভিওডি বাংলা/মো. কাওছার আহম্মেদ/জা 


  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
স্বামীহারা বৃদ্ধার ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবন
স্বামীহারা বৃদ্ধার ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবন
পঞ্চগড়ে মোটরসাইকেলে ইয়াবা বহন, আটক ১
পঞ্চগড়ে মোটরসাইকেলে ইয়াবা বহন, আটক ১
রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থাপন সম্পন্ন
রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থাপন সম্পন্ন