২০ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে গানাররা

হাজার হাজার আর্সেনাল সমর্থক—লাল-সাদা জার্সিতে গ্যালারি যেন ঢেউ তুলছে। উল্লাস, স্লোগান, নাচ—সব মিলিয়ে তারা বুঝে গেছেন, প্রতীক্ষার সেই মুহূর্ত আর দূরে নয়।
অন্যদিকে বৃষ্টিভেজা সাইডলাইনে দাঁড়িয়ে দিয়েগো সিমিওনে। ঝরতে থাকা বৃষ্টির সঙ্গে যেন ধুয়ে যাচ্ছে তার দল অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ-এর ঘুরে দাঁড়ানোর আশা। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনাল থেকে তাদের বিদায় তখন সময়ের অপেক্ষা।
শেষ বাঁশি বাজতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে আর্সেনাল। লন্ডনের এমিরেটস স্টেডিয়াম-এ দ্বিতীয় লেগে ১-০ গোলের জয় ধরে রেখে দুই লেগ মিলিয়ে ২-১ ব্যবধানে অ্যাতলেটিকোকে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয় তারা।
ক্লাবের ইতিহাসে এটি মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে ওঠা। নিজেদের মাঠে মিকেল আর্তেতা ও তার শিষ্যদের জন্য এটি এক স্বপ্নের রাত।
ম্যাচের নায়ক বুকায়ো সাকা। প্রথমার্ধে তার করা একমাত্র গোলই নির্ধারণ করে দেয় ম্যাচের ভাগ্য। গোলের পর টাচলাইন থেকে দৌড়ে এসে হাঁটু গেড়ে বসে আকাশের দিকে তাকিয়ে কৃতজ্ঞতা জানান এই ইংলিশ তারকা।
বৃষ্টিস্নাত আবহাওয়াও থামাতে পারেনি উদযাপন। এমিরেটস যেন আগ্নেয়গিরির মতো বিস্ফোরিত—সমর্থকদের উল্লাসে মুখর চারদিক। ম্যাচ শেষে পুরো আর্সেনাল দল হাত ধরে ছুটে যায় গ্যালারির দিকে, ভাগাভাগি করে নেয় ঐতিহাসিক এই অর্জনের আনন্দ।
আর্তেতার মুখে তখন তৃপ্তির হাসি। বাতাসে ঘুষি ছুড়ে সমর্থকদের উজ্জীবিত করছেন তিনি। স্টেডিয়ামে বাজতে থাকে ‘ফ্রিড ফ্রম ডিজায়ার’ আর সেই সুরে তাল মিলিয়ে নাচে খেলোয়াড়-সমর্থক সবাই।
২০০৬ সালের পর এই প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে উঠল আর্সেনাল। প্রায় দুই দশকের অপেক্ষার অবসান। আগামী ৩০ মে ফাইনালের লড়াইয়ে নামতে তাদের গন্তব্য বুদাপেস্ট।
ম্যাচ শেষে বুকায়ো সাকা বলেন, ‘এটা সত্যিই অসাধারণ। আমাদের কাছে এর গুরুত্ব কতটা, সমর্থকদের কাছে এর মানে কী—তা আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন।’
এদিকে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ-এও শিরোপার দৌড়ে এগিয়ে আর্সেনাল। ম্যানচেস্টার সিটি এভারটনের মাঠে ড্র করায় ২২ বছর পর লিগ শিরোপা জয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে তাদের সামনে। বাকি তিন ম্যাচ জিতলেই চ্যাম্পিয়ন হবে গানাররা। ফলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও লিগ—দুটি শিরোপা জয়ের সম্ভাবনাও জেগে উঠেছে।
ফাইনালে আর্সেনালের প্রতিপক্ষ হবে বায়ার্ন মিউনিখ অথবা প্যারিস সেন্ট-জার্মেই। সেমিফাইনালের প্রথম লেগ শেষে ৫-৪ ব্যবধানে এগিয়ে আছে পিএসজি।
ভিওডি বাংলা/আ







