• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

শ্রমিক দিবস

শিকাগোর আন্দোলন থেকে আজকের বিশ্ব

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১ মে ২০২৬, ০৬:৪১ এ.এম.
ছবি : সংগৃহীত

১৮৮৬ সালের শিকাগোতে দিনে ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে শ্রমিকরা রাস্তায় নামেন। সেই আন্দোলন ইতিহাসে পরিচিত হয় ‘হে মার্কেট’ ঘটনা নামে।

কঠোর দমন-পীড়নের মধ্যেও এই আন্দোলন বিশ্বজুড়ে শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের ভিত্তি তৈরি করে এবং ১ মে দিনটি আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস বা মে দিবস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
পরবর্তীতে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে শ্রমিক সংগঠন ধীরে ধীরে শক্তিশালী হয়।

ট্রেড ইউনিয়ন গড়ে ওঠে, কর্মঘণ্টা নির্ধারণ হয় এবং ন্যূনতম মজুরি ও শ্রম সুরক্ষার মতো আইন চালু হতে থাকে। এসব পরিবর্তনের ফলে শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ ও জীবনমান ধীরে ধীরে উন্নত হয়।
বিশ শতকে শ্রম আন্দোলন আরও সংগঠিত ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেয়। অনেক দেশে শ্রমিক সংগঠন রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হয়ে ওঠে।

একই সঙ্গে শ্রমিক অধিকার আলোচনায় যুক্ত হয় স্বাস্থ্যসেবা, পেনশন, কর্মস্থল নিরাপত্তা এবং সামাজিক সুরক্ষার বিষয়গুলো। কল্যাণ রাষ্ট্র ধারণার বিকাশও এই সময়েই শক্তিশালী হয়।

বর্তমানে শ্রমিক আন্দোলনের ধরন অনেকটাই বদলে গেছে। প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির কারণে নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। রাইড শেয়ারিং, ডেলিভারি সেবা এবং অনলাইনভিত্তিক কাজের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদের একটি বড় অংশ এখন সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। এসব খাতে কাজ করা শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, কাজের নিরাপত্তা এবং সামাজিক সুরক্ষা এখন গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়।

বিশ্বজুড়ে এখন শ্রম আন্দোলনের মূল দাবি হলো শুধু কর্মসংস্থান থাকা নয়, বরং নিরাপদ কর্মপরিবেশ, ন্যায্য মজুরি, কাজের মর্যাদা এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

সময়ের সঙ্গে শ্রম আন্দোলনের রূপ বদলালেও এর মূল লক্ষ্য অপরিবর্তিত-শ্রমিকের অধিকার ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা। শিকাগোর রক্তাক্ত আন্দোলন থেকে শুরু হয়ে আজকের ডিজিটাল ও প্রযুক্তিনির্ভর কর্মক্ষেত্র পর্যন্ত মে দিবস তাই শুধু একটি স্মরণদিবস নয়, বরং শ্রমিকের অধিকারের চলমান বৈশ্বিক সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। 

ভিওডি বাংলা/এসআর

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
পুলিশ সপ্তাহে পদক পাচ্ছেন ১০৭ জন
পুলিশ সপ্তাহে পদক পাচ্ছেন ১০৭ জন
আজ শুভ বুদ্ধপূর্ণিমা
আজ শুভ বুদ্ধপূর্ণিমা
মে দিবসে আলোচনায় ‘অফলাইন হওয়ার অধিকার’
মে দিবসে আলোচনায় ‘অফলাইন হওয়ার অধিকার’