যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য অর্জন হয়নি, তাই শান্তি আলোচনা চায়: আব্বাস আরাঘচি

চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কড়া বক্তব্য দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি, দাবি করেছেন—৪০ দিনের সংঘাতে ওয়াশিংটন তাদের কোনো লক্ষ্যই পূরণ করতে পারেনি।
সোমবার সেন্ট পিটার্সবার্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আরাঘচি বলেন, ‘ইরান বিশ্বের সবচেয়ে বড় সুপারপাওয়ার বা পরাশক্তির (যুক্তরাষ্ট্র) বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। ওয়াশিংটন এখনও তাদের একটি লক্ষ্যও অর্জন করতে পারেনি। এ কারণেই তারা আলোচনার অনুরোধ জানিয়েছে এবং আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।’
বৈঠকে তেহরানকে সমর্থন দেওয়ার জন্য মস্কোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান ইরানের এই শীর্ষ কূটনীতিক। একইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত থাকবে। রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের সম্পর্কের প্রশংসা করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও জোরদার হবে।
ক্রেমলিনের সহায়তার কথা উল্লেখ করে আরাঘচি বলেন, ‘এই যুদ্ধ ইরানের কাছে প্রমাণ করেছে ‘রাশিয়ার মতো অনেক ভালো বন্ধু এবং মিত্র রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সমগ্র বিশ্বের কাছে প্রমাণিত হয়েছে যে, ইরানের জনগণ তাদের প্রতিরোধ ও সাহসের মাধ্যমে মার্কিন হামলা ও আগ্রাসন প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে এবং এই কঠিন সময়ও তারা টিকে থাকতে পারবে।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে, বিশ্ব এখন ইরানের প্রকৃত শক্তি উপলব্ধি করেছে এবং এটা স্পষ্ট হয়ে গেছে যে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান একটি স্থিতিশীল, সুদৃঢ় ও শক্তিশালী ব্যবস্থা।’
অন্যদিকে, বৈঠকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় রাশিয়ার পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে, আমরা আপনার (ইরান) স্বার্থে, এই অঞ্চলের সকল মানুষের স্বার্থে যা কিছু করা প্রয়োজন সবকিছু করব, যাতে যত দ্রুত সম্ভব শান্তি অর্জন করা যায়। আপনারা আমাদের অবস্থান ভালোভাবেই জানেন’।
সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের জনগণের ভূমিকার প্রশংসা করে পুতিন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইরানের জনগণ যেভাবে সাহসিকতার সাথে ও বীরত্বের সঙ্গে তাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য লড়াই করছে’—তা প্রশংসনীয়।
তিনি আরও বলেন, ‘ইরানের মতোই রাশিয়াও আমাদের কৌশলগত সম্পর্ক অব্যাহত রাখতে চায়।’
সূত্র: আলজাজিরা, বিবিসি
ভিওডি বাংলা/এমএস







