• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

সাবধান! ওরা গৃহকর্মী নয় খুনি, চেতনানাশকে করে লুট

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৩২ পি.এম.
ছবি : সংগৃহীত

এমন একদল অপরাধীর খোঁজ পেয়েছে পুলিশ।  যারা গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে সুযোগ বুঝে অচেতন করার ওষুধ খাবারে মিশিয়ে কেড়ে নেয় জীবন। স্বর্ণালঙ্কার, টাকাসহ ঘরের মূল্যবান জিনিসপত্র লুটে নিয়ে হয়ে যায় লাপাত্তা।

তাদের নেই জাতীয় পরিচয়পত্র।  থাকে না হাতের ছাপ।  ফলে কাউকে শনাক্ত করাও সম্ভব হয় না। এভাবেই তারা থাকে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। এমন একটি চক্রকে সিসি টিভির ফুটেজ দেখে আবিষ্কার করেছে পুলিশ।  ধরা পড়েছেন এক নারী-যিনি আদালতে অপরাধের দায় স্বীকার করেছেন। 

রাজধানীর উত্তরায় গৃহকর্মীর ছদ্মবেশে কাজ করতেন তিনি।  চক্রের এই নারী সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।  

সোমবার (২৭ এপ্রিল) পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়। 

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত ডিআইজি এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, গ্রেপ্তার নারীর নাম বিলকিস বেগম (৪০)। বাড়ি জামালপুর জেলার মেলান্দহ থানা এলাকায়। থাকেন গাজীপুরের চন্দনা স্কুলের পেছনে ৪ নম্বর ওয়ার্ডে।

তিনি বলেন, ‘বিলকিস অত্যন্ত চতুর, কোনো এনআইডি (জাতীয় পরিচয়পত্র) নেই এবং ফিঙ্গারপ্রিন্ট (আঙুলের ছাপ)। তিনি একে সময়ে একেক নামে বিভিন্ন এলাকায় গৃহকর্মীর কাজ নেয়। সুযোগ বুঝে খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে গৃহকর্তা বা পরিবারের সদস্যদের অচেতন করে মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে থাকে। এতে প্রকিবন্ধকতা মনে হলে হত্যাকাণ্ড ঘটান। 

পিবিআইয়ের দাবি, গ্রেপ্তার নারী ২০২৫ সালের ১৩ আগস্ট উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরে মো. ইবনুল আলম পলাশের বাসার কেয়ারটেকার মো. জাকিরের কাছে গৃহকর্মীর কাজ খুঁজতে  যান। ইবনুল আলমের স্ত্রী তাকে গৃহকর্মী হিসেবে নিয়োগ দেয় এবং এনআইডি কার্ডসহ পরদিন আসতে বলেন। পরদিন সকালে কাজে গিয়ে বিলকিস জানায়- ভুলে এনআইডি বাসায় ফেলে এসেছেন, পরের দিন আনবেন। 

এ অবস্থায় গৃহকর্তা ইবনুল ও তার স্ত্রী অফিসে যান। বাসায় ছিলেন ইবনুলের বৃদ্ধা মা রওশনারা বেগম (৬৬)। একপর্যায়ে তার জন্য আলুভাজি ও রুটি প্রস্তুতের সময়  চেতনানাশক মিশিয়ে দেন বিলকিস। তা খেয়ে বৃদ্ধা অচেতন হয়ে পড়েন। আর বিলকিস বৃদ্ধার হাতে থাকা স্বর্ণের বালা, কানের দুল এবং টেবিলে থাকা ব্যাগ থেকে তিন হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। ইবনুল দম্পতি ফিরে বৃদ্ধা মাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করেন। টানা ৯ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে সুস্থ হন। 

এ ঘটনায় ইবনুল উত্তরা পূর্ব থানায় মামলা করেন।  অপরাধীর ছবি, মোবাইল নম্বর বা এনআইডির তথ্য না থাকায় পুলিশ আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। কিন্তু গুরুত্ব বিবেচনায় আদালত পিবিআইকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেয়। 

তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ফিরোজ আহমেদ মুন্সীর নেতৃত্বে একটি দল সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও স্থানীয়দের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে সন্দেহভাজনকে শনাক্তের চেষ্টা চালায়। 

তদন্তের একপর্যায়ে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় গৃহকর্মী কর্তৃক মালিককে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে হত্যা ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার লুটের আরেকটি ঘটনার সঙ্গে ইবনুলদের ঘটনার আচরণগত ও কৌশলগত মিল পায় পিবিআই। পরে সিসিটিভি ফুটেজ থেকে পূর্ববর্তী ঘটনার ভিক্টিমকে বিলকিসের ছবি দেখালে উভয় ঘটনায় বিলকিসের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হয় পুলিশ। 

পরবর্তীতে বিলকিসকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদে উভয় ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। 

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে বিলকিস জানান, চুরি করা স্বর্ণালংকার গাজীপুরে নিয়ে পরিচিত শহরবানু নামে  মাধ্যমে বিক্রি করেন। তার দেয়া তথ্য মতে পিবিআই এর অভিযানিক দল গাজীপুরে অভিযান করে শহরবানুকে খুঁজে পায় এবং একটি জুয়েলারি দোকানে স্বর্ণ বিক্রির সত্যতা নিশ্চিত করে। এ ঘটনায় শহরবানু, জুয়েলারি ব্যবসায়ী গোবিন্দ ঘোষ ও রুপা সরকার আদালতে সাক্ষ্য দেন। তবে তাৎক্ষণিক গলিয়ে ফেলায় লুণ্ঠনকৃত স্বর্ণালংকার উদ্ধার হয়নি।

ভিওডি বাংলা/আরআর/এসআর


  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ
৬ মাস কমল ইউনূসের ‘ভিভিআইপি’ মর্যাদা
৬ মাস কমল ইউনূসের ‘ভিভিআইপি’ মর্যাদা
দেশের সব বিমানবন্দরে ‘উচ্চমাত্রার সতর্কতা’ জারি
দেশের সব বিমানবন্দরে ‘উচ্চমাত্রার সতর্কতা’ জারি