• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

চবি ক্যাম্পাসে উত্তেজনা, ছাত্রদল-শিবিরের পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি    ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫৪ এ.এম.
চবিতে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের ঘটনার জেরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসে পৃথক বিক্ষোভ মিছিল করেছে দুই সংগঠন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট থেকে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মিছিল আলাদাভাবে শুরু হয়। ছাত্রদলের মিছিলটি সোহরাওয়ার্দী হল, এ এফ রহমান হলের গেট হয়ে আলাওল হলের সামনে দিয়ে ২ নম্বর গেট পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়।

মিছিল চলাকালে নেতাকর্মীদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়, যার মধ্যে ছিল—‘গুপ্তদের কালো হাত, ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও’, ‘একটা একটা শিবির ধর, ধইরা ধইরা জেলে ভর’, ‘গুপ্তদের আস্তানা, ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও’।

পরে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় বলেন, “যারা পূর্বের বিভিন্ন সময় গুপ্তবেশে শিক্ষার্থীদের নির্যাতন করেছে আজকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালিয়েছে। আমরা বলতে চাই এটা ৯০-এর রগকাটার যুগ নয়। আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে গুপ্তদের কালো হাত গুড়িয়ে দিব৷”

তিনি আরও বলেন, সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই গুপ্তদের আইনের আওতায় নিয়ে আসুন। আজকের এই কর্মসূচি থেকে গুপ্তদের রাজনীতির কবরস্থ ঘোষণা করা হলো।

শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, “রগকাটা সন্ত্রাসী কর্তৃক সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের উপর হামলার প্রতিবাদে আমাদের আজকের এ কর্মসূচি। আমরা বাংলাদেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গুপ্ত রাজনীতি নিষিদ্ধ চাই। আমরা প্রশাসনের কাছে গুপ্ত রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানাই।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো বৈষম্য রয়েছে এবং বিভিন্ন “রাজাকার আলবদর” সংশ্লিষ্টরা গুরুত্বপূর্ণ পদে আছে। তাদের দ্রুত অপসারণ না হলে ছাত্রদল প্রতিরোধ গড়ে তুলবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অন্যদিকে একই সময়ে শাখা ছাত্রশিবিরও পৃথকভাবে মিছিল করে। তাদের মিছিলটি জিরো পয়েন্ট থেকে সোহরাওয়ার্দী হল হয়ে আলাওল হলের সামনে দিয়ে আবার জিরো পয়েন্টে গিয়ে শেষ হয়।

শিবিরের মিছিলে বিভিন্ন স্লোগান শোনা যায়, যেমন—‘সন্ত্রাসীদের কালো হাত, ভেঙ্গে দাও, গুড়িয়ে দাও’, ‘আমার ভাই আহত কেন, তারেক তুই জবাব দে’, ‘যে হাত মানুষ মারে সে হাত ভেঙ্গে দে’, ‘ছাত্রদলের সন্ত্রাস রুখে দাও ছাত্রসমাজ’, ‘গুপ্ত বলিস কাকে তুই ছিলি লন্ডনে’, ‘সবাই ধরে বার বার শিবির ধরে এক বার’।

বিক্ষোভ সমাবেশে সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুল্লাহ খালেদ বলেন, অতীতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে শিক্ষার্থীদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে চাকসুর ভিপি ও শাখা ছাত্রশিবির সভাপতি ইব্রাহীম রনি বলেন, “এই হামলায় শুধু ছাত্রনামধারী ক্যাডাররাই ছিল না; যারা হাসিনার পক্ষে ছিল, তাদের ভাড়া করে এমন কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করা হয়েছে। আমরা চেয়েছিলাম সবাই সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে মিলেমিশে থাকবে। একটি আদর্শ পরিবেশ ও সমাজ গড়ার জন্য আমরা ৫ আগস্ট লড়াই করেছি।”

তিনি আরও বলেন, দেশ নিরাপত্তা, শিক্ষা ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ চায়। পাশাপাশি “গুপ্ত” শব্দ ব্যবহার করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত না করার আহ্বান জানিয়ে দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।

ভিওডি বাংলা/এমএস 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
পাসের হার ৩০ শতাংশ, উত্তীর্ণ ৩৮ হাজার শিক্ষার্থী
গুচ্ছ ‘এ’ ইউনিটের ফল প্রকাশ: পাসের হার ৩০ শতাংশ, উত্তীর্ণ ৩৮ হাজার শিক্ষার্থী
চেরি ব্লোসমস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে পহেলা বৈশাখ উদযাপন
চেরি ব্লোসমস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে পহেলা বৈশাখ উদযাপন
‘পীর’ হত্যাসহ মব সহিংসতার প্রতিবাদে ঢাবিতে বিক্ষোভ
‘পীর’ হত্যাসহ মব সহিংসতার প্রতিবাদে ঢাবিতে বিক্ষোভ