• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

৯টি শিক্ষা বোর্ড

এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় বসছে ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ শিক্ষার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫৫ পি.এম.
ছবি : সংগৃহীত

আগামীকাল মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) থেকে শুরু হচ্ছে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা।  পরীক্ষায় এবার মোট শিক্ষার্থী ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন। 

সোমবার (২০ এপ্রিল) সচিবালয়ে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এ কথা জানান।  এ সময়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন উপস্থিত ছিলেন। 

মাহদী আমিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বে রয়েছেন।

মাহদী আমিন বলেন, এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় বসবেন ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী।  এরমধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন ও ছাত্রী ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবার নয়টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় ছাত্র-ছাত্রী ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩১৮ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ৬৭ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্রী ৭ লাখ ৫১ হাজার ৯৩ জন।  

এবার ৩০ হাজার ৬৬৬টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রের মাধ্যমে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা দেবেন। 

মাদরাসা বোর্ডের অধীনে দাখিলে মোট শিক্ষার্থী ৩ লাখ ৩ হাজার ২৮৬ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ৬১ হাজার ৪৯১ জন ও ছাত্রী ১ লাখ ৪২ হাজার ৭৯৫ জন। মোট পরীক্ষা কেন্দ্র ৭৪২টি। 

এছাড়া কারিগরি বোর্ডে এসএসসিতে পরীক্ষার্থী ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ১ হাজার ৫০৯ জন এবং ছাত্রী ৩৩ হাজার ১৫১ জন। কারিগরি বোর্ডে মোট কেন্দ্র ৬৫৩টি।

মাহদী আমিন বলেন, এসএসসি পরীক্ষা সম্পর্কিত কিছু বিষয় ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের অবহিত করতে চাই। জনবান্ধব সরকার ছাত্র-ছাত্রীদের মন থেকে ‘পরীক্ষা ভীতি’ নামক শব্দটি দূর করতে চায়, সম্মানিত অভিভাবকদেরও আশ্বস্ত করতে চাই আপনারাও সন্তানদের নিয়ে অকারণে আতঙ্কিত হবেন না।  পরীক্ষার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে শান্ত স্বাভাবিকভাবে পরীক্ষা দিতে পারে, পরীক্ষা হলে এমন পরিবেশ বজায় রাখতে আমরা সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছি।  

আমরা খুব ভালোভাবে অবহিত আছি যে এবারের এসএসসি ব্যাচ করোনাজনিত কারণে প্রাথমিক ও জুনিয়র উভয় বৃত্তি পরীক্ষা বঞ্চিত হয়েছে; ফলে এবারের এসএসসি পরীক্ষা তাদের জীবনের প্রথম এবং পূর্ণ সিলেবাসের পাবলিক পরীক্ষা। সে কারণে পরীক্ষার হল যেন পরীক্ষার্থীবান্ধব থাকে সেটা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আমরা এটাও জানি বিগত জুলাই অভ্যুত্থানে এই কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীরা কীভাবে রাজপথে প্রতিবাদ মুখর থেকে, দেয়ালে গ্রাফিতি এঁকে নিজেদের সম্পৃক্ত করেছে। তাদের এই সৃজনশীলতা পরীক্ষায় প্রতিফলিত হবে ইনশাআল্লাহ।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আরও বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানরা নিরাপদ পানি, আলো ও ফ্যান, স্বাস্থ্যকর টয়লেট ও জরুরি বিদ্যুতের ব্যবস্থা নিশ্চিত করবেন। পরীক্ষা কেন্দ্র যানজট মুক্ত রাখতে হবে। ছাত্রীদের চলাচল শতভাগ নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন রাখতে হবে। আইনপ্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সহিষ্ণুতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন।

মাহদী আমিন আরও বলেন, কর্তব্যরত ম্যাজিস্ট্রেট, পরিদর্শক, ইনভিজিলেটরদের দায়িত্ব হবে পরীক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়তা করা। অকারণে আতঙ্ক সৃষ্টি নয়। প্রশ্নপত্রের কোন অংশে দুর্বোধ্যতা থাকলে সেটা নিরসনে সহায়তা করবেন। এবারের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিগত সরকারের সময়ে প্রণীত হওয়ায়, এ বিষয়ে নির্দেশনা প্রদানের সুযোগ আমাদের ছিল না।

তিনি বলেন, পরীক্ষাপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে অহেতুক কঠোরতা আমাদের লক্ষ্য নয়, কোন পরীক্ষার্থী যেন তার প্রাপ্য মূল্যায়ন থেকে সামান্যতম বঞ্চিত না হয় সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

আমরা চাই পরীক্ষার্থীরা বিনা টেনশনে হাসিমুখে পরীক্ষা কেন্দ্রে আসবে, শান্তি পূর্ণ পরিবেশে উত্তর পত্রে লিখবে এবং হাসিমুখে পরীক্ষা কেন্দ্র ত্যাগ করবে।

আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্মৃতি যেন একজন শিক্ষার্থীর জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ স্মৃতি হয় আর পরীক্ষা ভীতি শব্দটি যেন জাদুঘরে স্থান পায় এমন শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই হবে আমাদের লক্ষ্য’ বলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।

এদিকে গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) যানজট ও জনদুর্ভোগ লাঘবের জন্য মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে সাড়ে ৮টার থেকে প্রবেশের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।  তবে পরীক্ষা কক্ষে প্রবেশ সংক্রান্ত আগের নির্দেশনা বহাল থাকবে।
 
পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড।  নির্দেশনাগুলো হলো-

১. পরীক্ষা শুরুর ৩০ (ত্রিশ) মিনিট পূর্বে অবশ্যই পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা কক্ষে আসন গ্রহণ করতে হবে।

২. প্রশ্নপত্রে উল্লেখিত সময় অনুযায়ী পরীক্ষা গ্রহণ করতে হবে।

৩. প্রথমে বহুনির্বাচনী ও পরে সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এবং উভয় পরীক্ষার মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না।

৪. পরীক্ষার্থীরা তাদের প্রবেশপত্র নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানপ্রধানের নিকট থেকে পরীক্ষা শুরুর অন্তত সাত দিন আগে সংগ্রহ করবে।

৫. শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্যবিজ্ঞান ও খেলাধুলা এবং ক্যারিয়ার শিক্ষা বিষয়গুলোর জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের নির্দেশনা অনুসারে ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রাপ্ত নম্বর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রকে সরবরাহ করবে।  সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বরের সঙ্গে ধারাবাহিক মূল্যায়নে প্রাপ্ত নম্বর বোর্ডের ওয়েবসাইটে অনলাইনে প্রেরণ করবে।

৬. পরীক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ উত্তরপত্রের ওএমআর (OMR) ফরমে পরীক্ষার রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বিষয় কোড ইত্যাদি যথাযথভাবে লিখে বৃত্ত ভরাট করবে। কোনো অবস্থাতেই উত্তরপত্র ভাঁজ করা যাবে না।

৭. পরীক্ষার্থীকে সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়), বহুনির্বাচনী ও ব্যবহারিক অংশে পৃথকভাবে পাস করতে হবে।

৮. প্রত্যেক পরীক্ষার্থী কেবল নিবন্ধনপত্রে বর্ণিত বিষয়/বিষয়গুলোর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে।  কোনো অবস্থাতেই ভিন্ন বিষয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার অনুমতি প্রদান করা যাবে না।

৯. পরীক্ষা শুরুর অন্তত সাত দিন আগে পরীক্ষার্থীদের ভেতর প্রবেশপত্র বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে।  এ বিষয়ে কোনো জটিলতা তৈরি হলে প্রতিষ্ঠানপ্রধান দায়ী থাকবেন।

১০. পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষায় শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবে।

১১. কেন্দ্রসচিব ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি/পরীক্ষার্থী পরীক্ষাকেন্দ্রে মুঠোফোন আনতে বা ব্যবহার করতে পারবে না।

১২. সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়), বহুনির্বাচনী ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর উপস্থিতির জন্য একই উপস্থিতিপত্র ব্যবহার করতে হবে।

১৩. ব্যবহারিক পরীক্ষা নিজ নিজ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে।

১৪. পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের ৭ (সাত) দিনের মধ্যে পুনঃনিরীক্ষণের জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হবে।  এ বিষয়ে দৈনিক পত্রিকা ও শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আবেদনপ্রক্রিয়া, তারিখ ও সময় জানিয়ে দেওয়া হবে।

ভিওডি বাংলা/এসআর


  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
পাবলিক পরীক্ষায় ‘নীরব বহিষ্কার’ থাকছে না
পাবলিক পরীক্ষায় ‘নীরব বহিষ্কার’ থাকছে না
এইচএসসি পরীক্ষা ২ জুলাই: শিক্ষামন্ত্রী
এইচএসসি পরীক্ষা ২ জুলাই: শিক্ষামন্ত্রী
এসএসসি পরীক্ষার রুটিন না দেওয়ার খবর গুজব : শিক্ষা মন্ত্রণালয়
এসএসসি পরীক্ষার রুটিন না দেওয়ার খবর গুজব : শিক্ষা মন্ত্রণালয়