• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

নিয়মিত লেবু পানি কি কমায় কিডনির পাথরের ঝুঁকি?

লাইফস্টাইল ডেস্ক    ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০৬ পি.এম.
ছবি-ভিওডি বাংলা

কিডনিতে পাথর হওয়ার সমস্যা বর্তমানে বেশ সাধারণ হয়ে উঠেছে। শিশু থেকে বয়স্ক-সব বয়সের মানুষের মধ্যেই এই জটিলতা দেখা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পাথর ছোট থাকলে তা ওষুধ বা পানি বেশি পান করে বের হয়ে যায়, কিন্তু বড় পাথরের ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার পর্যন্ত প্রয়োজন হতে পারে। তাই স্বাভাবিকভাবেই অনেকের প্রশ্ন-সহজ কোনো অভ্যাস কি এই ঝুঁকি কমাতে পারে?

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন লেবু পানি পান করা কিছু ক্ষেত্রে কিডনিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা কমাতে সহায়তা করতে পারে। এর প্রধান কারণ লেবুতে থাকা ‘সাইট্রেট’ নামের একটি উপাদান। এই সাইট্রেট কিডনিতে পাথর তৈরির প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে ভূমিকা রাখে।

সাধারণত কিডনির পাথর তৈরি হয় ক্যালসিয়াম অক্সালেট বা ক্যালসিয়াম ফসফেট জমে থাকার কারণে। কিন্তু সাইট্রেট ক্যালসিয়ামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এমন যৌগ তৈরি করে, যা সহজে জমাট বাঁধতে পারে না। ফলে পাথর গঠনের ঝুঁকি কমে। এছাড়া সাইট্রেট প্রস্রাবে পাথর তৈরির উপাদানগুলোর ঘনত্বও কমিয়ে দিতে পারে।

এছাড়াও লেবু পানি খাওয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো-এটি শরীরে পানির পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করে। চিকিৎসকদের মতে, পর্যাপ্ত পানি না খেলে প্রস্রাব ঘন হয়ে যায়, যা পাথর তৈরির অন্যতম কারণ। নিয়মিত লেবু পানি পান করলে প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়ে এবং শরীর থেকে অতিরিক্ত খনিজ পদার্থ বের হয়ে যেতে সহজ হয়। এতে কিডনি কিছুটা সুরক্ষিত থাকে।

২০২১ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণাতেও দেখা গেছে, টাটকা লেবুর রস কিছু ক্ষেত্রে ক্যালসিয়াম অক্সালেট ধরনের পাথর তৈরির ঝুঁকি কমাতে পারে। তবে গবেষকরা এটাও বলেছেন, বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত করতে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, লেবু পানি কোনোভাবেই কিডনির পাথরের একমাত্র সমাধান নয়। বিশেষ করে যদি পাথর বড় হয়ে যায়, তাহলে এটি গলিয়ে ফেলার ক্ষমতা লেবুর রসে নেই। সেক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পরিমিতি। অতিরিক্ত লেবুর রস খেলে শরীরের অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এতে উল্টো সমস্যা বাড়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে যাদের গ্যাস্ট্রিক বা অম্বলের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে বেশি লেবু পানি খাওয়া অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে। একইভাবে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রেও এটি সাবধানতার সঙ্গে গ্রহণ করা উচিত।

চিকিৎসকদের মতে, কিডনিকে সুস্থ রাখতে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো পর্যাপ্ত পানি পান করা, সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা। পাশাপাশি অতিরিক্ত লবণ ও অক্সালেটসমৃদ্ধ খাবার কম খাওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
অনন্য তুষার নীরবতায় আত্ম-আবিষ্কারের হিমাচল ভ্রমণ কাহিনি
অনন্য তুষার নীরবতায় আত্ম-আবিষ্কারের হিমাচল ভ্রমণ কাহিনি
সকালের নাস্তা দেরিতে করছেন? বাড়তে পারে হজমের সমস্যা
সকালের নাস্তা দেরিতে করছেন? বাড়তে পারে হজমের সমস্যা
শাড়ি-পাঞ্জাবিতে আরাম ও আধুনিকতার মিলন
বৈশাখের ফ্যাশনে নতুন ছোঁয়া: শাড়ি-পাঞ্জাবিতে আরাম ও আধুনিকতার মিলন