রমনায় পান্তা-ইলিশ ৬শ’ টাকা, দামের চাপে ক্ষুব্ধ ক্রেতারা

পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে রাজধানীর রমনা পার্কে ঐতিহ্যবাহী পান্তা-ইলিশ পরিবেশনের চিত্র এ বছর অনেকটাই বদলে গেছে। বাঙালির বর্ষবরণ উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে পরিচিত এই খাবার ঘিরে যে উৎসবমুখর পরিবেশ প্রতিবছর দেখা যেত, এবার তা অনুপস্থিত ছিল।
একসময় রমনা পার্কজুড়ে অস্থায়ী দোকানে পান্তা-ইলিশ বিক্রির যে চিরচেনা দৃশ্য দেখা যেত, এবার সেখানে কোনো ধরনের অস্থায়ী স্টল চোখে পড়েনি। ফলে দর্শনার্থীদের মধ্যে কিছুটা হতাশা ও অসন্তোষ দেখা যায়। উৎসবপ্রেমীরা জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও তারা ঐতিহ্যবাহী পান্তা-ইলিশ খাওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে এলেও পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা আগের মতো নেই।

পার্কের ভেতরে সীমিত আকারে শুধু একটি রেস্টুরেন্টেই পান্তা-ইলিশের ব্যবস্থা দেখা যায়। ‘মি. কুক রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড ক্যাটারিং’ নামের ওই প্রতিষ্ঠানটি এক ধরনের প্যাকেজ আকারে খাবার সরবরাহ করে, যেখানে এক প্লেট পান্তা ভাতের সঙ্গে ছোট আকারের একটি ইলিশের টুকরা এবং সামান্য বেগুন ভাজা রাখা হয়েছে। এই প্যাকেজের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০০ টাকা।
তবে এই দাম নিয়েই সবচেয়ে বেশি অসন্তোষ প্রকাশ করছেন ক্রেতারা। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, খাবারের পরিমাণ ও মানের তুলনায় মূল্য অত্যধিক। একাধিক দর্শনার্থীর মতে, উৎসবের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত দাম আদায় করা হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবুও সন্তানদের আবদার ও উৎসবের আনন্দ ধরে রাখতে অনেক অভিভাবক বাধ্য হয়েই এই উচ্চমূল্যের খাবার কিনেছেন বলে জানা গেছে। পরিবেশিত খাবারের পরিমাণ তুলনামূলক কম হওয়ায় অনেকেই সন্তুষ্ট নন বলেও মন্তব্য করেছেন।
রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, বাজারে ইলিশের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় তাদের পক্ষে কম দামে প্যাকেজ দেওয়া সম্ভব হয়নি। তারা জানান, প্রায় ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ সংগ্রহ করেই এই খাবার প্রস্তুত করা হয়েছে, যার ফলে খরচ বেড়ে গেছে এবং সেই অনুযায়ী ৬০০ টাকা দাম নির্ধারণ করতে হয়েছে।
শুধু রমনা পার্কই নয়, রাজধানীর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও এ বছর অস্থায়ী দোকানে পান্তা-ইলিশ বিক্রি প্রায় দেখা যায়নি। ব্যবসায়ীদের মতে, ইলিশের প্রজনন মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা ও সরবরাহ কম থাকার কারণে বাজারে মাছের দাম অনেক বেড়েছে। ফলে ছোট ব্যবসায়ীরা অস্থায়ী দোকান বসাতে আগ্রহী হননি।
ফলে এবারের পহেলা বৈশাখে পান্তা-ইলিশকে ঘিরে যে ব্যাপক উৎসব ও জনসমাগম প্রত্যাশিত ছিল, তা অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে বলে মনে করছেন আগত দর্শনার্থীরা।
ভিওডি বাংলা/জা







