জটিল স্বাস্থ্য পরিস্থিতি
বরগুনায় ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাবে হাসপাতালে উপচে পড়া ভিড়

বরগুনায় হামের পাশাপাশি ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে, ফলে জেলার সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের পরিসংখ্যান বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত এক সপ্তাহে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ১৮৪ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন, যার মধ্যে ৮২ জনই শিশু। এছাড়া শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৩৭ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়েছেন।
গত তিন মাসে এই হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মোট ১ হাজার ৩৬০ জন চিকিৎসা নিয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের পুরোনো ভবনের দ্বিতীয় তলায় বেডসংকটের কারণে অনেক রোগীকে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
পটুয়াখালীর ভুতমারা এলাকা থেকে বেড়াতে আসা ৭ বছর বয়সী এক শিশু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরিবারের সদস্যরা জানান, রাতে পেটের সমস্যা শুরু হয়ে ভোরের দিকে পাতলা পায়খানা বেড়ে যায়। পরে সকালে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে সদর উপজেলার হাজার বিঘা এলাকা থেকে ৯ মাসের এক শিশুকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন তার মা। তিনি জানান, রাতে জ্বর, বমি ও পাতলা পায়খানা শুরু হলে সকালে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। বেড না পেয়ে মেঝেতেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে এবং কিছু ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে।
পৌর এলাকার জেলা স্কুল রোড থেকে ১৮ মাস বয়সী আরেক শিশুকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন তার মা। তিনি জানান, রাত থেকেই বমি ও পাতলা পায়খানা শুরু হয়। চিকিৎসার পর বর্তমানে শিশুটি কিছুটা সুস্থ রয়েছে।
বরগুনা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৬৫ জন ডায়রিয়া রোগী বিভিন্ন হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন। গত এক সপ্তাহে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৯৬ জন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত জেলায় মোট ২ হাজার ৭০৩ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন।
বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা তাজকিয়া সিদ্দিকাহ বলেন, বাসি ও পচা খাবার খাওয়া, অতিরিক্ত গরম এবং অনিরাপদ পানি ব্যবহারের কারণে ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ছে। সুপেয় পানির অভাব ও খাবার সংরক্ষণে অসচেতনতার কারণেও পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। বিশেষ করে রাতে পুকুর বা নদীর পানিতে ভাত ভিজিয়ে রেখে সকালে তা খাওয়ার প্রবণতা সংক্রমণ বাড়াচ্ছে।
তিনি আরও জানান, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ পানি ও খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব।
ভিওডি বাংলা/জাহিদুল ইসলাম মেহেদী/আ







