কুমারখালী
সেই হাতুড়ে চিকিৎসককে এক বছরের জেল, প্রতিষ্ঠান সিলগালা

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে হাফেজ মো. ইব্রাহিম খলিল্লাহ (২৮) নামে এক হাতুড়ে চিকিৎসককে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে অনির্দিষ্টকালের জন্য তার চেম্বার সিলগালা করা হয়েছে।
রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের বেলগাছি গগণ হরকরা মোড় এলাকায় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যৌথভাবে এ অভিযান চালায়।
অভিযানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯-এর ৫২ ধারায় আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ার। এতে সহযোগিতা করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিকিৎসক মোছা. শামিমা আক্তার এবং থানা পুলিশ।
দণ্ডপ্রাপ্ত ইব্রাহিম খলিল্লাহ শিলাইদহ ইউনিয়নের দাঁড়িগ্রামের রশিদ শেখের ছেলে এবং বেলগাছি মেডিকেল হলের মালিক।
ভ্রাম্যমাণ আদালত ও লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ইব্রাহিম খলিল্লাহ কয়েক বছর আগে মসজিদের ইমামতি করতেন। পরে মানবিক বিভাগ থেকে ২০১৪ সালে মাধ্যমিক পাস করে একটি কলেজ থেকে ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। ২০২৩ সালে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মাত্র ২১ দিনের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণ নেন। এরপর বেলগাছি এলাকায় ‘বেলগাছি মেডিকেল হল’ নামে একটি চেম্বার খুলে শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া শুরু করেন।
সম্প্রতি কয়েকজন শিশু চুলকানি রোগে আক্রান্ত হয়ে তার কাছে গেলে তিনি তাদের ‘আলফাকোর্ট’ নামের স্টেরয়েড ইনজেকশন দেন। ইনজেকশন নেওয়ার পর কারও মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে ওঠে, আবার কারও মুখে লোম গজাতে শুরু করে। এতে অন্তত ১০ শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিলে গত ৮ মার্চ সাতজন অভিভাবক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, শিলাইদহের রবীন্দ্র কুঠিবাড়ী–আলাউদ্দিন নগর সড়কের বেলগাছি গগণ হরকরা মোড়ে অবস্থিত ওই মেডিকেল হলে অভিযান চালাচ্ছেন প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। এ সময় সেখানে উৎসুক জনতার ভিড় জমে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, এতদিন তারা ইব্রাহিমকে চিকিৎসক হিসেবে জানতেন। তিনি নিজের নামের আগে ‘ডাক্তার’ ব্যবহার করতেন এবং সিল-প্যাডও ছিল। কিন্তু মাত্র ২১ দিনের প্রশিক্ষণ নিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোছা. শামিমা আক্তার বলেন, স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন, এমনকি স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধও প্রয়োগ করছিলেন, যা তার জন্য অনুমোদিত নয়। এতে রোগীদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সত্যতা পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার জানান, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ওই ব্যক্তিকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং তার চেম্বার সিলগালা করা হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ভিওডি বাংলা/মেশাররফ হোসেন/আ







