তদন্ত কমিটি গঠন
ঢামেকে সংঘর্ষের ৩ ঘন্টা পর জরুরি বিভাগ চালু

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আগামী ১১ জুলাইয়ের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি বিভাগে চিকিৎসা সেবা চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় তিন ঘণ্টা বন্ধ ছিল জরুরি বিভাগের চিকিৎসা সেবা।
প্রেসক্রিপশনে লেখা ওষুধ পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া কথা–কাটাকাটি এক পর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন।
বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরে বিক্ষুব্ধ চিকিৎসকরা নিরাপত্তার দাবিতে জরুরি বিভাগের সেবা বন্ধ করে দিলে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী চিকিৎসার জন্য বিকেলে তার এক আত্মীয়কে নিয়ে ঢামেকের জরুরি বিভাগে আসেন। রোগীকে দেখার পর দায়িত্বরত চিকিৎসক একটি প্রেসক্রিপশন দেন এবং ওষুধ বাইরে থেকে সংগ্রহ করতে বলেন। তবে কয়েকটি ফার্মেসিতে খুঁজেও ওই ওষুধ না পাওয়ায় চিকিৎসকের কাছে ফিরে গিয়ে ওষুধটি পরিবর্তন করে দেওয়ার অনুরোধ করেন।
এ সময় ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে থাকা কয়েকজন সহপাঠীর সঙ্গে চিকিৎসকের কথা–কাটাকাটি শুরু হয়, যা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রথমে তাদের ওপর হামলা করেন।
শহীদুল্লাহ হলের এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা জবাবদিহিতা চাইতে গেলে ১০–১২ জন ডাক্তার মিলে আমাদের ওপর হামলা করেন। ”
অন্যদিকে ঢামেকের শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রথমে ঢাবির শিক্ষার্থীরাই চিকিৎসকদের ওপর হামলা চালান।
ঢামেকের এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, “১৫–২০ জন ঢাবি শিক্ষার্থী মিলে চারজন ডাক্তারের ওপর হামলা করে। ”
ঢামেকের আরেক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ওষুধ না পেয়ে শিক্ষার্থীরা এসে ইন্টার্ন চিকিৎসকের সঙ্গে উত্তেজিত আচরণ করেন এবং পরে অতর্কিতভাবে হামলা চালান। এরপর আরও শিক্ষার্থী এনে জরুরি বিভাগ ঘেরাও করা হয়।
অন্যদিকে ঢাবি শিক্ষার্থীদের অভিযোগ করেন, ওষুধের বিকল্প ব্র্যান্ড লিখে দিতে বলায় কথা–কাটাকাটির একপর্যায়ে চিকিৎসক ও আনসার সদস্যরা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক জানান, শিক্ষার্থী ও চিকিৎসকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে দ্রুত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ভিওডি বাংলা/আরকেএইচ/এসআর







