ফের হরমুজ প্রণালি বন্ধ
ইসরায়েলের প্রতিটি ঘর এখনও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের নিশানায়

প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কঠোর সমালোচনা করেছেন ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ। তিনি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ ইসরায়েলের জন্য এমন এক ‘কূটনৈতিক বিপর্যয়’, যা আগে কখনও দেখেছেন বলে তার মনে পড়ে না। বুধবার ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবদেনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
এদিকে, লেবাননের রাজধানী বৈরুত ও অন্যান্য অঞ্চলে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে দখলদার ইসরায়েল। বুধবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হওয়ার পর লেবাননে অস্বাভাবিক হামলা শুরু করে দখলদাররা। এতে অন্তত ২৫৪ জন নিহত ও আটশরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
এ ব্যাপারে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, “ইসরায়েলি হামলায় ২৫৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৮৩৭ জন আহত হয়েছেন।”
ফলে যুদ্ধবিরতি অমান্য করে লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে ইরান ফের হরমুজ বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে দেশটির একাধিক গণমাধ্যম খবর প্রকাশ করেছে।
অপরদিকে, ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ঘোষণা করেছেন, যে দেশগুলো ইরানকে সামরিক অস্ত্র সরবরাহ করবে, যুক্তরাষ্ট্রে তাদের রপ্তানি করা সমস্ত পণ্যের ওপর অবিলম্বে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। আরোপ করা হবে।
ট্রাম্প ওই বার্তায় স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় বা ব্যতিক্রম রাখা হবে না।
ট্রাম্প তার পোস্টে কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম উল্লেখ না করলেও, আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন এই হুমকির মূল লক্ষ্য চীন ও রাশিয়া। দীর্ঘ দিন ধরেই বেইজিং ও মস্কোর বিরুদ্ধে ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি সরবরাহ করার অভিযোগ রয়েছে, যা তেহরানকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চাপ মোকাবিলায় সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করেছে। যদিও বেইজিং ও মস্কো সম্প্রতি কোনো অস্ত্র সরবরাহের কথা অস্বীকার করেছে, তবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ এখনো জোরালো।
আর ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় ইয়ার লাপিদ বলছেন, ‘‘কয়েক ঘণ্টা, এক দিন বা দুই দিন পর, অথবা যখনই তিনি মনে করবেন যে তিনি বাঙ্কার থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন, তখনই নেতানিয়াহু ইসরায়েল রাষ্ট্রের সামনে দাঁড়াবেন এবং ইরানের এই অভিযান সফল হয়েছে বলে বোঝানোর চেষ্টা করবেন।’’
‘‘এটি হবে একটি ডাহা মিথ্যা। সেনাবাহিনী চমৎকার কাজ করেছে; বিশ্বের সেরা বিমানবাহিনী তাদের কাছে যা চাওয়া হয়েছিল তার চেয়েও বেশি করেছে।’’
তিনি বলেন, ‘‘নেতানিয়াহু আমাদের একটি কৌশলগত বিপর্যয়ের দিকে নিয়ে গেছেন। এটি তার চেয়ে কম কিছু নয়।’’
‘‘আমরা যা দেখেছি তা ছিল ঔদ্ধত্য, দায়িত্বহীনতা, পরিকল্পনার অভাব, অবহেলার সঙ্গে দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা, দেশের অভ্যন্তরীণ ফ্রন্ট সামলাতে ব্যর্থতা এবং আমেরিকানদের কাছে মিথ্যা বলার এক লজ্জাজনক সংমিশ্রণ, যা আমাদের দুই দেশের মধ্যকার বিশ্বাসকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।’’
তিনি বলেন, ‘‘সবগুলো সম্ভাব্য ফলাফলের মধ্যে নেতানিয়াহু সবচেয়ে খারাপটিই বয়ে এনেছেন: ইরানের শাসনব্যবস্থাকে পরাজিত করা যায়নি, পারমাণবিক হুমকি দূর হয়নি এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরায়েলের প্রতিটি বাড়ির দিকে তাক করা অবস্থাতেই রয়ে গেছে।’’
লাপিদ অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ইসরায়েলের নাগরিকদের ধোঁকা দিয়েছেন, তার সহযোগীদের প্রতারিত করেছেন এবং ধারাবাহিকভাবে কিছু নাটকীয় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জনসাধারণের কাছে এমন এক কৌশলগত পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন যার কোনও অস্তিত্বই ছিল না।’’
‘‘এই যুদ্ধ এমনভাবে পরিচালিত হয়েছিল যেন ইসরায়েল রাষ্ট্রের নাগরিকরা সরকারের কামানের গোলা। আশ্রয়ের কোনও ব্যবস্থা নেই, শিক্ষা বা ক্ষতিপূরণের কোনও পরিকল্পনা নেই, এমনকি বেন গুরিয়ান বিমানবন্দরের জন্যও কোনও পরিকল্পনা নেই—কিছুই নেই! নাগরিকদের নিয়ে কোনও উদ্বেগ ছিল না।’’
ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় এই নেতা বলেন, ‘‘আসলে যা ঘটেছে তা হলো, নেতানিয়াহু আদর্শিক পরিস্থিতিতে যুদ্ধে গিয়েছিলেন, কিন্তু এটি কীভাবে শেষ করবেন সে সম্পর্কে তার কোনও ধারণাই ছিল না। যুদ্ধক্ষেত্রে আমরা জিতেছি; কিন্তু কূটনৈতিক ফ্রন্টে এটি এক চরম পরাজয়।’’
‘‘রাজা পিরাসের ভাষায় বলতে হয় : এমন আরও একটি বিজয় আমাদের সর্বনাশের কারণ হবে।’’
এদিকে, আর্মি রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডেমোক্র্যাটস দলীয় চেয়ারম্যান ইয়ার গোলান যুদ্ধের শুরুতে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার ঘটনাকে ‘ভুল’ হিসেবে সমালোচনা করেছেন। এই হত্যাকাণ্ড ইসরায়েলের নিরাপত্তায় কোনও অবদান রাখেনি বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
ফের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করল ইরান
ফের হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকরের অন্যতম শর্ত ছিল গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা। সে অনুযায়ী ইরান প্রণালি থেকে অবরোধ তুলেও নিয়েছিল। কিন্তু যুদ্ধবিরতি অমান্য করে লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে ইরান ফের হরমুজ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়।
ইরানের এই রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির পরও লেবাননে হামলা বন্ধ না করায় গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে আর কোনও তেলবাহী জাহাজ চলাচল করতে পারছে না। যদিও প্রণালিটি বন্ধ করার বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
খবরে বলা হয়, যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরও উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্তত তিনটি দেশে সাইরেনের শব্দ শোনা গেছে। যার অর্থ, এসব দেশে এখনও হামলা বন্ধ হয়নি। তবে এসব হামলার ফলে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভণ্ডুল হবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
ইরান জানিয়েছে, এই চুক্তির মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ফি আরোপের নতুন নীতি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা সম্ভব হবে।
শান্তি প্রচেষ্টা নস্যাৎ করার জন্য ইসরায়েলকে দুষছে তুরস্ক
তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, নেতানিয়াহু সরকার ‘শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নেওয়া আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাগুলোকে নস্যাৎ করা অব্যাহত রেখেছে’।
মন্ত্রণালয় লেবাননে ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলারও নিন্দা জানিয়েছে, যা দেশটির ‘মানবিক পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাচ্ছে’।
লেবাননে ইসরায়েলের ‘দখলদারিত্বের’ অবসান ঘটাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ‘অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে’ বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
ইসরায়েল লেবাননের ১৪ শতাংশ এলাকায় সতর্কতা ও বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার হুমকি জারি করেছে এবং ইসরায়েলি সীমান্তের কাছে লেবাননের গ্রামগুলো ধ্বংস করে দিয়েছে।
জীবন ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি নেতানিয়াহুর অবজ্ঞা অসহনীয় : স্পেনের প্রধানমন্ত্রী
লেবাননে দফায় দফায় চালানো হামলার পরিপ্রেক্ষিতে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ‘জীবন ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি অবজ্ঞা’ প্রদর্শনের অভিযোগ তুলেছেন।
এক্সে সানচেজ লিখেছেন, ‘ঠিক আজকেই নেতানিয়াহু লেবাননের ওপর এই অভিযান শুরুর পর থেকে তার সবচেয়ে কঠোরতম হামলাটি চালালেন। জীবন ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি তার এই অবজ্ঞা একেবারেই অসহনীয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন স্পষ্টভাবে কথা বলার সময় এসেছে, লেবাননকে অবশ্যই যুদ্ধবিরতির অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।’
সানচেজ আরও দাবি করেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই আন্তর্জাতিক আইনের এই নতুন লঙ্ঘনের নিন্দা জানাতে হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নকে অবশ্যই ইসরায়েলের সঙ্গে তাদের সহযোগিতা চুক্তি স্থগিত করতে হবে। এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য কাউকে যেন বিনা শাস্তিতে ছেড়ে দেওয়া না হয়।’
২০০০ সালের জুন মাসে স্বাক্ষরিত ইইউ-ইসরায়েল সহযোগিতা চুক্তি হলো ইসরায়েলের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাণিজ্যিক সম্পর্কের আইনি ভিত্তি। এটি এই জোট ও ইসরায়েলের মধ্যে রাজনৈতিক সংলাপ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার জন্য একটি আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রদান করে।
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ইরানের সঙ্গে অনুষ্ঠেয় আলোচনার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার বিশেষ প্রতিনিধিদল পাঠাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলাইন লেভিট। বুধবার এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।
প্রতিনিধিদলে থাকবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, ট্রাম্পের উপদেষ্টা স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। লেভিট জানান, পাকিস্তানের স্থানীয় সময় শনিবার সকালে এই আলোচনা শুরু হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা এই সরাসরি বৈঠকগুলোর দিকে তাকিয়ে আছি।’
এদিকে নাম না প্রকাশ করার শর্তে পাকিস্তানের দুটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলেছে, মার্কিন প্রতিনিধি দলটি ইসলামাবাদে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বৈঠক করবেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতিতে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এবং চীনের ভূমিকা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে লেভিট বলেন, ভ্যান্সের ভূমিকা ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’। তিনি শুরু থেকেই সব আলোচনায় যুক্ত আছেন এবং আলোচনার জন্য ইসলামাবাদ যাচ্ছেন।
পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ জানায়, লেবাননে সংঘর্ষ সাময়িকভাবে থামবে। ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের নামে দেশটিতে নির্বিচারে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল।
যুদ্ধবিরতিতে লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয় : নেতানিয়াহু
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে ইরানের সাথে কোনো সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি হলেও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে চলমান হামলা বন্ধ করবে না তার দেশ।
বুধবার (৮ এপ্রিল) লেবাননজুড়ে ইসরাইলের ব্যাপক ও প্রাণঘাতী হামলার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু জোর দিয়ে বলেন, হিজবুল্লাহর ওপর হামলা অব্যাহত থাকবে এবং এই সশস্ত্র গোষ্ঠীকে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, ইসরাইলি বাহিনী হিজবুল্লাহর এমন সব গোপন আস্তানায় আঘাত হেনেছে যা গোষ্ঠীটি এতদিন নিজেদের জন্য নিরাপদ বলে মনে করত।
স্থায়ী যুদ্ধাবসানের জন্য ইরানের যে ১০ শর্ত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসলায়েলের সঙ্গে স্থায়ীভাবে যুদ্ধের অবসানের জন্য ১০টি শর্ত দিয়েছে ইরান। দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের মাধ্যমে ইতোমধ্যে এসব শর্ত যুক্তরাষ্ট্রকে পাঠানো হয়েছে।
এই শর্তগুলো হলো –
ক) উভয়পক্ষই আগ্রাসন-বিরোধী নীতি অনুসরণ করবে এবং ইরানের পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মেনে নিতে হবে।
খ) হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণে থাকবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এবং বিদেশি জাহাজগুলোকে সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করতে হবে।
গ) লেবাননের হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীর সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধসহ সকল রণাঙ্গণে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হবে।
ঘ) মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সব সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করে দিতে হবে এবং এসব ঘাঁটির মার্কিন সেনাদের প্রত্যাহার করতে হবে।
ঙ) জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এবং বোর্ড অফ গভর্নরস-এর সকল প্রস্তাব বাতিল বাতিল করতে হবে।
চ) সর্বসম্মত শর্ত অনুসারে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে একটি নিরাপদ ট্রানজিট প্রোটোকল প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
ছ) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ইরানের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে— তার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
জ) ইরানের ওপর থেকে প্রাথমিক ও মধ্যম পর্যায়ের যাবতীয় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে।
ঝ) জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ পরিষদ আইএইএ’র বোর্ড অব গভর্নরদের যাবতীয় প্রস্তাব বাতিল করতে হবে।
ঙ) বিদেশ ইরানের যত সম্পদ ও সম্পত্তি আছে, সেসবের ওপর থেকে অবরোধ তুলে নিতে হবে।
এই দশ প্রস্তাবের মধ্যে পশ্চিম এশিয়া থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, ইরান এবং তাদের মিত্রদের ওপর হামলা বন্ধ করা, ইরানের সব ফ্রোজেন সম্পতি অবমুক্ত করা— প্রভৃতি শর্তের ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থায়ী যুদ্ধাবসানের জন্য ইরানের এই দশ শর্ত সম্পর্কে এক বিবৃতিতে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “এসব শর্ত গৃহীত হলে প্রতিটি আন্তর্জাতিক চুক্তি আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে হবে এবং ইরানের জনগণের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক বিজয় বলে গণ্য হবে।
ভিওডি বাংলা/এসআর







