হামে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, কাল থেকে টিকাদান শুরু

দেশজুড়ে হামের প্রকোপ ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিদিন হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে শিশু মৃত্যুর খবর আসছে। ময়মনসিংহ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও কুষ্টিয়ায় গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে শুক্রবার সকালে একজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ১২ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সরকার রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশের সর্বত্র হামের সংক্রমণ রোধে এই টিকাদান কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ছুটি বাতিল করা হয়েছে এবং তারা স্থানীয় কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে দায়িত্ব পালন করবেন।
মন্ত্রী আরও জানান, ইতোমধ্যে ২ কোটি ১৯ লাখ ডোজ হামের টিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। আক্রান্ত উপজেলার পাশাপাশি দেশের সব উপজেলায় টিকা পৌঁছে দেওয়া হবে। টিকা সরবরাহের জন্য সিরিঞ্জও সংগ্রহ করা হচ্ছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে গ্রামাঞ্চলেও টিকা পৌঁছে দেওয়া হবে।
জরুরি কর্মসূচি ইউনিসেফের সরবরাহকৃত টিকা ব্যবহার করে চালানো হবে। পাশাপাশি নতুন টিকা কেনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যার জন্য ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। নতুন টিকা হাতে এলে জুন-জুলাই মাসে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হবে, যেখানে ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী সব শিশুকে টিকা দেওয়া হবে। আগের টিকা নেওয়া শিশুরাও এই কর্মসূচির আওতায় থাকবেন।
মন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, হামের সঙ্গে নিউমোনিয়া যুক্ত হলে শিশুর মৃত্যুঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। ফুসফুসে শ্লেষ্মা জমে অক্সিজেন সরবরাহ কমে গেলে শিশু মারাত্মক ঝুঁকিতে থাকে। সরকারের পাশাপাশি আইসিডিডিআর,বি যৌথভাবে শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় ‘বাবল সিপ্যাপ’ প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।
“স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে ৬ মাস থেকে ৩ বছর বয়সী শিশু। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া হামের রোগীর প্রায় ৩০ শতাংশ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম শুরু করলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।”
ভিওডি বাংলা/জা







