বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস আজ

আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বাংলাদেশে পালিত হচ্ছে ১৯তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস, প্রতিপাদ্য—“অটিজম ও মানবতা – প্রতিটি জীবনেরই মূল্য আছে।” দিবসটি অটিজম বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তির অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে উদযাপিত হচ্ছে। এটি স্নায়ুবৈচিত্র্যের অগ্রগতি ও জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনের সঙ্গে সম্পর্কিত।
দিবসটির মূল উদ্দেশ্য হলো অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের সুযোগ তৈরি করা। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সরকারি মন্ত্রণালয় ও সামাজিক সংগঠন দিনটিকে সামনে রেখে সচেতনতা মূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যা শিশুদের মেলামেশা ও নতুন অভিজ্ঞতা অর্জনে সহায়ক।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০০৭ সালে ২ এপ্রিলকে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর থেকে প্রতি বছর এই দিবস পালিত হচ্ছে।
অটিজম কী এবং কেন হয়
বিশেষজ্ঞদের মতে, “অটিজম হলো মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষের বিকাশজনিত অসুখ। জন্মের পর শিশু স্বাভাবিক মনে হলেও, সাধারণত ১৮ মাস থেকে ৩ বছরের মধ্যে লক্ষণ প্রকাশ পায়। স্বাভাবিক শিশু চার মাসে মানুষের মুখ চিনতে পারে এবং নয় মাসে ‘বাবা-মা’ বলতে পারে, কিন্তু অটিস্টিক শিশুর মাইলস্টোনগুলো দেরিতে আসে বা অসম্পূর্ণ থাকে। এরা চোখের দিকে তাকিয়ে সাড়া দিতে পারে না, একই কাজ বারবার করে এবং অস্থির প্রকৃতির হয়।”
অটিজমের সুনির্দিষ্ট কারণ নেই। এটি জিনগত বা পরিবেশগত কারণে হতে পারে। বৃদ্ধ বয়সের মা-বাবা, গর্ভকালীন বিশেষ ভাইরাসে আক্রান্ত মা, ভেজাল খাদ্য গ্রহণ, বায়ুদূষণ বা অপরিণত গর্ভকালীন শিশুর জন্ম (৩৮ সপ্তাহের আগে) এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কারণ।
অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুদের মধ্যে কথোপকথন ও সামাজিক মেলামেশায় অসুবিধা দেখা দেয়। তবে সঠিক সময়ে থেরাপি পেলে তারা উল্লেখযোগ্য উন্নতি করতে পারে।
সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় আড়াই লাখ অটিস্টিক শিশু রয়েছে। বাংলাদেশে প্রতি ৫০০ শিশুর মধ্যে ১ জন অটিজমে আক্রান্ত। প্রতি বছর নতুন করে প্রায় ১,৫০০ শিশু তালিকাভুক্ত হচ্ছে। ছেলেদের মধ্যে অটিজমের হার মেয়েদের তুলনায় আড়াই গুণ বেশি এবং শহরে গ্রামে তুলনায় বেশি শিশু অটিজমে আক্রান্ত।
ভিওডি বাংলা/আ







